৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন আশার কথা, আগামী সপ্তাহেই কি শেষ হচ্ছে অপেক্ষা?

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এখন আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ের দিকে। ফলে আগামী সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব ড. মহিউদ্দিনের বক্তব্য হিসেবে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তাতে আগামী সপ্তাহে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং-সংক্রান্ত কাজ প্রায় শেষ এবং গেজেট জারির আগে অল্প কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা বাকি।

অর্থাৎ, বিষয়টি এখন আর পে-স্কেল অনুমোদনের পর্যায়ে নেই; বরং প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক শেষ ধাপগুলো নিয়েই অপেক্ষা

কেন এত দেরি?

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদিত হয়। তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছিলেন, দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

কিন্তু অনুমোদনের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিন সামনে এসেছে। ১৭, ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মতো সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যদিও এসব তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা ছিল না।

তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে পরিস্থিতি আগের তুলনায় এগিয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ভেটিং-সংক্রান্ত কাজ শেষ পর্যায়ে থাকার কথা জানিয়েছে। এরপর গেজেট প্রকাশের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের আগে কী কী কাজ থাকে?

মন্ত্রিসভায় কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদন হলেই সঙ্গে সঙ্গে গেজেট প্রকাশ করা যায় না। অনুমোদিত সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপনের আইনগত ভাষায় রূপ দেওয়া, সংশ্লিষ্ট বিধি ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য পরীক্ষা, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে আইনগত অসঙ্গতি, শব্দচয়ন ও পরিভাষা পরীক্ষা করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার দিকে এগোয় প্রজ্ঞাপন।

আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপনের রেজুলেশন বিজি প্রেস-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও গেছে এবং ভেটিং শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের ধাপ আসবে।

তাহলে এখন বাকি কী?

সাম্প্রতিক তথ্যগুলো একত্র করলে দেখা যাচ্ছে, মূল সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে; এখন মূল অপেক্ষা চূড়ান্ত প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রজ্ঞাপন জারির।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেটিং-সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং অল্প কিছু কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ কারণেই আগামী সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। তবে এটিকে এখনো নিশ্চিত তারিখ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

নতুন পে-স্কেলে কী রয়েছে?

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ গ্রেডের তুলনায় বেশি রাখা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বাস্তবায়ন, বেতন নির্ধারণ, বকেয়া হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার/প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কর্মচারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন—আর কতদিন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নতুন করে নেওয়ার অপেক্ষায় নেই; বরং অনুমোদিত বেতন কাঠামোকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে রূপ দেওয়ার শেষ ধাপ চলছে।

এ কারণেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা—এবার যেন সম্ভাব্য সময় আবারও পিছিয়ে না যায়।

গত কয়েক সপ্তাহে কখনো ‘শিগগির’, কখনো ‘এই সপ্তাহে’, আবার কখনো নির্দিষ্ট দিনের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ফলে নতুন করে ‘আগামী সপ্তাহে’ গেজেট প্রকাশের কথা শুনলেও অনেকের প্রশ্ন—এবার কি সত্যিই অপেক্ষার অবসান হবে?

এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর একমাত্র দিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন

তবে সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট এখন অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই; এটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রজ্ঞাপন জারির পর্যায়ে রয়েছে। আইনগত ভেটিং ও আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ার পরই এসআরও নম্বরসহ আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পথ খুলবে।

তাই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা মূলত একটি আনুষ্ঠানিক কাগজের জন্য—নবম জাতীয় পে-স্কেলের বহুল প্রতীক্ষিত গেজেট। আগামী সপ্তাহের সম্ভাবনাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *