১৫ সেপ্টেম্বরও হচ্ছে না পে স্কেলের গেজেট, ফের পিছোল তারিখ—নতুন সম্ভাবনা ১৭, ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বর
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের সময় আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ওই তারিখে প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত গেজেটের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
বর্তমানে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য তারিখগুলোর মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর অথবা ২২ সেপ্টেম্বর রয়েছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত নয়। মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে। ভেটিং শেষ হলে প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
কেন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে গেজেট?
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে খুব দ্রুতই গেজেট প্রকাশ হবে। সে সময় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা হয়নি।
এরপর একাধিক সম্ভাব্য তারিখ সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মূল বাধা হিসেবে সামনে এসেছে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পে স্কেলের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। এরপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষ হলেই পরবর্তী ধাপে গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
১৫ সেপ্টেম্বরের সম্ভাবনা কেন বাদ পড়ল?
সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে ১৫ সেপ্টেম্বরকে গেজেট প্রকাশের একটি সম্ভাব্য দিন হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ভেটিং শেষ না হওয়ায় সেই সময়সীমা ধরে গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া এবং সরকারি গেজেট প্রকাশ এক বিষয় নয়। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনের ভাষা, আইনগত সামঞ্জস্য, বিভিন্ন বিধান এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অনুমোদন হয়ে গেলেই পরদিন গেজেট প্রকাশ হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই।
সর্বশেষ প্রতিবেদনগুলোতেও বলা হচ্ছে, প্রজ্ঞাপনটি ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে এবং ভেটিং শেষ হলেই গেজেট প্রকাশের দিকে যাওয়া হবে।
তাহলে গেজেট কবে হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর অথবা ২২ সেপ্টেম্বর—এই তিনটি তারিখ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবে এগুলোকে এখনই চূড়ান্ত তারিখ বলা যাচ্ছে না।
সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি হতে পারে—
ভেটিং সম্পন্ন → প্রয়োজনীয় সংশোধন/চূড়ান্তকরণ → এসআরও নম্বর → গেজেট প্রকাশ।
অর্থাৎ ভেটিং যত দ্রুত শেষ হবে, গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনাও তত দ্রুত তৈরি হবে। ফলে ১৭ সেপ্টেম্বরের সম্ভাবনা থাকলেও ভেটিং শেষ হতে সময় বেশি লাগলে সেটি পিছিয়ে ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বর হতে পারে।
এ কারণেই সংশ্লিষ্টদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চূড়ান্ত ভেটিং কখন শেষ হচ্ছে।
পে স্কেলের গেজেট এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
নতুন পে স্কেলের খসড়া, বিভিন্ন আলোচনা কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের আগ্রহ বাড়ালেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভিত্তি হবে সরকারি প্রজ্ঞাপন।
গেজেট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে—
- কোন গ্রেডে মূল বেতন কত হবে;
- বেতন কীভাবে ফিক্সেশন করা হবে;
- বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাব কীভাবে হবে;
- পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম কী;
- বিভিন্ন ভাতা কীভাবে কার্যকর হবে;
- বকেয়া বা এরিয়ার কীভাবে হিসাব করা হবে;
- কোন সুবিধা কখন থেকে কার্যকর হবে।
এ কারণেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়ার পরিবর্তে মূল বেতন ধাপে ধাপে সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। আনুষঙ্গিক কিছু ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
এ কারণে গেজেট প্রকাশ শুধু নতুন বেতন কত হবে তা জানার জন্য নয়; বরং কোন তারিখ থেকে কীভাবে আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে, সেটি বোঝার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০তম গ্রেডে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা
নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেড রাখার তথ্য এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাবের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব বেতন ও সুবিধার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারি গেজেটেই নির্ধারিত হবে। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ এখন খসড়া বা বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের পরিবর্তে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ফিক্সেশন নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন
গেজেট প্রকাশের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেতন ফিক্সেশন কীভাবে হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামোয় বেতন সমন্বয়ের ধাপ এবং আইবাস++ ব্যবস্থায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় করতে হলে ফিক্সেশন প্রক্রিয়াতেও বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ গেজেট প্রকাশ হলেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। গেজেটের পর সেটি বাস্তবায়নের জন্য আরও প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কাজ থাকবে।
কর্মচারীদের অপেক্ষা আর কত?
এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
একদিকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বারবার সম্ভাব্য তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব কর্মচারী নতুন বেতন অনুযায়ী মাসিক আয়, বকেয়া, ঋণ, সঞ্চয় কিংবা অন্যান্য আর্থিক পরিকল্পনা করতে চাইছেন, তাদের জন্য চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে পুরোপুরি অচলাবস্থা হিসেবে দেখার কারণ নেই। কারণ প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে এবং ভেটিং শেষ হলে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এখন নজর ভেটিংয়ের দিকে
সব মিলিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখন সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর সামনে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ভেটিং শেষ হওয়ার ওপর।
তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত চিত্র হলো—গেজেট বাতিল হয়নি, বরং চূড়ান্ত প্রকাশের সময় পিছিয়েছে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর হবে, নাকি ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বর—তা এখন নির্ভর করছে শেষ ধাপের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর। ফলে নতুন পে স্কেলের গেজেট নিয়ে আগামী কয়েক দিনই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।



