অসিয়তনামা বা উইল কী, কীভাবে করতে হয়—জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্ত
নিজের মৃত্যুর পর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টিত হবে—এ বিষয়ে জীবদ্দশায় ইচ্ছা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো অসিয়তনামা বা উইল। সম্পত্তির মালিক তার নির্দিষ্ট সম্পত্তি, প্রাপকের পরিচয় এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। তবে অসিয়তনামা তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত ও আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
অসিয়তনামা বা উইল বিষয়ে দেওয়া নথিতে একটি নমুনা অসিয়তনামা দলিল, এর বিভিন্ন শর্ত এবং অসিয়তকৃত সম্পত্তির পরিচয় কীভাবে উল্লেখ করা হয়—তা তুলে ধরা হয়েছে।
অসিয়তনামা কী?
অসিয়তনামা হলো এমন একটি লিখিত দলিল, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর নিজের সম্পত্তি বা সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ কীভাবে ব্যবস্থাপনা বা বণ্টন করা হবে সে বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
নথিতে ‘অসিয়ত নামা বা উইল’ শিরোনামে বিষয়টি তুলে ধরে অসিয়তের বৈশিষ্ট্য, শর্ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে অসিয়তনামার একটি নমুনা দলিলও দেওয়া হয়েছে।
অসিয়তনামায় কী কী তথ্য থাকতে পারে?
নথিতে দেওয়া নমুনা দলিল অনুযায়ী, অসিয়তকারীর নাম, পিতা-মাতার পরিচয়, ঠিকানা, জাতীয়তা, ধর্ম, পেশাসহ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি সংক্রান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ধরনের দলিলে সাধারণত—
- অসিয়তকারীর পূর্ণ পরিচয়;
- অসিয়তগ্রহীতার পরিচয়;
- অসিয়ত করা সম্পত্তির বিবরণ;
- সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা;
- সম্পত্তির ওপর অসিয়তকারীর অধিকার;
- অসিয়তের উদ্দেশ্য;
- দলিল কার্যকর করার শর্ত;
- সাক্ষীদের পরিচয় ও স্বাক্ষরের বিষয়
উল্লেখ করা হতে পারে। নথির নমুনা দলিলে এসব বিষয়ের বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে।
সম্পত্তির বিস্তারিত পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ
অসিয়তনামার তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘অসিয়তকৃত সম্পত্তির পরিচয়’ নামে আলাদা অংশ রাখা হয়েছে। সেখানে জেলা, থানা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মৌজা, খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি জমির পরিমাণ এবং চারদিকের সীমানার বিবরণ দেওয়ার নমুনা রয়েছে।
অর্থাৎ, শুধু সম্পত্তি দেওয়ার কথা উল্লেখ করলেই হবে না—কোন সম্পত্তি অসিয়তের আওতায় পড়ছে, সেটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার মতো তথ্য দলিলে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অসিয়তনামার শর্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নথিতে অসিয়তের শর্ত আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অসিয়তকারীর সম্পত্তি, উইল গ্রহণকারী এবং সম্পত্তির ওপর অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখের নমুনা রয়েছে। একই সঙ্গে অসিয়তকারীর স্বেচ্ছায় ও সুস্থ অবস্থায় দলিল সম্পাদনের বিষয়টিও নমুনা দলিলে তুলে ধরা হয়েছে।
সাক্ষীর স্বাক্ষরও রাখা হয়েছে নমুনা দলিলে
নমুনা অসিয়তনামার শেষ অংশে অসিয়তকারী ও কবুলকারীর পাশাপাশি তিনজন সাক্ষীর জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। সেখানে সাক্ষীদের স্বাক্ষরের ব্যবস্থা দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া দলিলের শেষে অসিয়তকৃত সম্পত্তির পরিচয় এবং সম্পত্তির চারদিকের সীমানা উল্লেখ করার নমুনাও রয়েছে।
মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এড়াতে সতর্কতা জরুরি
অসিয়তনামার মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি লিখিতভাবে রেখে যাওয়া। এ কারণে দলিলে সম্পত্তির পরিচয়, অসিয়তগ্রহীতার পরিচয় এবং অসিয়তের শর্ত যতটা সম্ভব স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
তবে অসিয়তনামা কী পরিমাণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, কার পক্ষে করা যাবে এবং মুসলিম ও অমুসলিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোন আইন বা বিধান প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয় ব্যক্তির ধর্ম, সম্পত্তির ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই বাস্তবে অসিয়তনামা সম্পাদনের আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বা আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।
সংক্ষেপে
অসিয়তনামা বা উইল শুধু সম্পত্তি কাউকে দেওয়ার ঘোষণা নয়; বরং এটি একটি আনুষ্ঠানিক দলিল, যেখানে অসিয়তকারীর পরিচয়, সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ, অসিয়তের উদ্দেশ্য ও শর্ত এবং সাক্ষীদের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করার নমুনা রয়েছে। দেওয়া নথির তিন পৃষ্ঠায় এসব বিষয় ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে।



