বিধবা ভাতা পেতে অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে, লাগবে যেসব কাগজপত্র
দেশের অসহায়, দুঃস্থ ও স্বামীহীন নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ২৯ লাখ উপকারভোগীর জন্য মাসে ৬৫০ টাকা হারে ভাতা বরাদ্দ রয়েছে। এ কর্মসূচির ভাতা বর্তমানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস—নগদ, বিকাশ ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে দেওয়া হচ্ছে।
নতুন করে যারা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে চান, তাদের জন্য অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে বর্তমানে যারা ভাতা পাচ্ছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
অনলাইনে বিধবা ভাতার আবেদন
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত MIS প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়।
অনলাইন আবেদন:
বিধবা ভাতার অনলাইন আবেদন পোর্টাল
আবেদনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইন ফরমে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, স্বামী/স্ত্রীর নাম, নমিনির তথ্য, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য পারিবারিক ও আর্থসামাজিক তথ্য দিতে হয়।
আবেদনকারীর ছবি আপলোডের ব্যবস্থাও রয়েছে। ভাতা পাওয়ার জন্য যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হবে, সেটিও আবেদনে উল্লেখ করতে হয়। পোর্টালে সক্রিয় নগদ/বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে আবেদনে যেসব তথ্য লাগতে পারে
অনলাইন ফরম পূরণের আগে নিচের তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো—
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অথবা জন্মনিবন্ধন নম্বর
- জন্মতারিখ
- আবেদনকারীর নাম
- বাবা ও মায়ের নাম
- স্বামীর নাম, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে
- নমিনির নাম ও মোবাইল নম্বর
- নমিনির NID/জন্মনিবন্ধন নম্বর
- নমিনির সঙ্গে সম্পর্ক
- আবেদনকারীর ছবি
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর
- ব্যাংক/মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য
- পরিবার ও আর্থসামাজিক অবস্থার বিভিন্ন তথ্য
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনলাইন ফরমে পরিবারের জমি, বাসস্থান, বিদ্যুৎ, পায়খানা, পানির উৎস, পেশা, পরিবারের শিশু সংখ্যা ও বিভিন্ন সম্পদের তথ্যও চাওয়া হচ্ছে।
অফলাইনে আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তারা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ‘বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুঃস্থ মহিলা ভাতা মঞ্জুরির আবেদনপত্র’ নামে নির্ধারিত ফরমও রয়েছে।
প্রচলিতভাবে আবেদন প্রস্তুতের সময় যেসব কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে, সেগুলো হলো—
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- স্বামীর মৃত্যুসনদ—বিধবা হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে
- নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধনের কপি
- নমিনির ছবি
- প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সমাজসেবা অফিস চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র
তবে কাগজপত্রের সংখ্যা ও অতিরিক্ত প্রমাণপত্র স্থানীয় যাচাইয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভা বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সর্বশেষ তালিকা জেনে নেওয়া নিরাপদ।
কারা বিধবা ভাতা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন?
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা। আবেদনকারীর আর্থসামাজিক অবস্থা, পরিবারের পরিস্থিতি এবং কর্মসূচির নির্ধারিত যোগ্যতা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
বিশেষ করে দুঃস্থ, অসহায়, প্রায় ভূমিহীন এবং বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা নারীরা এ কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হতে পারেন। আবেদন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাতা নিশ্চিত হয় না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।
এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয়-ব্যয়, সম্পদ, জমি, বাসস্থান, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য আর্থসামাজিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন ফরমেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
১৬ বছরের নিচে সন্তান থাকলে অগ্রাধিকার
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা নারীর ১৬ বছরের নিচে দুই সন্তান রয়েছে, তাদের ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে উপকারভোগী নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নীতিমালা, বরাদ্দ ও স্থানীয় যাচাই-বাছাই অনুসরণ করা হয়।
আবেদন করার পর কী হবে?
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় যাবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের MIS পোর্টালে আবেদন ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ জন্য কার্যক্রম নির্বাচন করে NID/BRIS এবং ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করা যায়।
আবেদন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কত টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে?
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার মাসিক হার জনপ্রতি ৬৫০ টাকা এবং মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ। এ কর্মসূচির জন্য ২২৭৭.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচি চালু রয়েছে, যেখানে ২৯ লাখ উপকারভোগী এবং জনপ্রতি মাসিক ৬৫০ টাকা ভাতার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বিধবা ভাতার আবেদন করতে কোনো দালালকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবেদন করার ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারি MIS পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সহায়তা নেওয়া উচিত। অনলাইনে আবেদন করার সময় নিজের NID, জন্মনিবন্ধন, মোবাইল নম্বর ও নমিনির তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
সংক্ষেপে: বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করতে চাইলে প্রথমে নিজের NID/জন্মনিবন্ধন, ছবি, স্বামীর মৃত্যুসনদ এবং নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করুন। এরপর সরকারি অনলাইন পোর্টালে আবেদন করুন অথবা স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করে আবেদনটির অগ্রগতি যাচাই করা যাবে।


