ই-বুক I এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল

সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯’: যা জানা জরুরি

বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে ১৯৭৯ সালে জারি করা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা’ এখনো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল হিসেবে কার্যকর রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ১৮ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তৎকালীন সচিব ফয়েজউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়

বিধিমালার মূল লক্ষ্য ও প্রয়োগ

এই বিধিমালাটি বাংলাদেশের সকল সরকারি কর্মচারীর ওপর প্রযোজ্য, তারা দেশে কিংবা বিদেশে কর্মরত থাকুন না কেন তবে রেলওয়ে সংস্থাপন কোডভুক্ত কর্মচারী, ডিএমপি ও সিএমপি’র অধীনস্থ কর্মকর্তা এবং পরিদর্শক পদমর্যাদার নিচের পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয় এই বিধিমালার যেকোনো লঙ্ঘন ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এর জন্য ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৭৬’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে

প্রধান বিধিনিষেধ ও নির্দেশনাসমূহ:

১. উপহার ও সম্মাননা গ্রহণ: সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া এমন কোনো উপহার গ্রহণ করতে পারবেন না যা তাদের দাপ্তরিক কাজে প্রভাব ফেলতে পারে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া উপহারের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করে সংস্থাপন বিভাগে জমা দিতে হবে এছাড়া নিজের সম্মানে জনসমক্ষে কোনো সভা বা সংবর্ধনা আয়োজন করাকেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে

২. সম্পত্তি ঘোষণা ও ক্রয়-বিক্রয়: চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক কর্মচারীকে তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির (গহনা, শেয়ার, বিমা ইত্যাদি) ঘোষণা দিতে হয় প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধির বিবরণী বা বার্ষিক রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক এছাড়া ১৫,০০০ টাকার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই অবহিত করতে হবে

৩. রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ: বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না এবং বাংলাদেশে বা দেশের বাইরে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে পারবেন না তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, তবে শর্তসাপেক্ষে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন

৪. ব্যক্তিগত ব্যবসা ও নিয়োগ: সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগত ব্যবসা বা অন্য কোনো চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন না তবে দাপ্তরিক কাজের ক্ষতি না করে তারা সাহিত্যিক, শৈল্পিক বা দাতব্য কাজে যুক্ত থাকতে পারেন

৫. গণমাধ্যম ও সমালোচনা: সরকারি দপ্তরের গোপন নথি বা তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা নিষিদ্ধ এছাড়া রেডিও, টেলিভিশন বা সংবাদপত্রে সরকারের কোনো নীতি বা কাজের সমালোচনা করে কোনো বক্তব্য দেওয়া বা লেখা প্রকাশ করা বিধিমালা পরিপন্থী

উপসংহার

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই বিধিমালা একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ। এতে স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । সরকারি সেবাকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে এই বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ অপরিহার্য।

The Government Servent (Conduct) Rules-1979

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *