জেলা সার্কিট হাউসের কক্ষ ভাড়ার নতুন হার নির্ধারণ: সরকারি-বেসরকারি সবার জন্য সংশোধিত রেট কার্যকর
সরকার জেলা পর্যায়ে অবস্থিত সার্কিট হাউসগুলোর কক্ষের ভাড়া বা রেট সংশোধন করে নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও পরিবীক্ষণ শাখা থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন হার ঘোষণা করা হয়। সংশোধিত এই ভাড়া অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুবনা ফারজানা স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের জন্য আলাদা আলাদা ভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
কাদের জন্য কত ভাড়া?
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কক্ষের ধরন এবং অবস্থানের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার তারতম্য করা হয়েছে:
১. সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা:
১-৩ দিন পর্যন্ত: সাধারণ শহরে ১ শয্যার কক্ষের ভাড়া ১৫০ টাকা এবং ব্যয়বহুল শহরে ২০০ টাকা। ২ শয্যার কক্ষের ভাড়া সাধারণ শহরে ২০০ টাকা ও ব্যয়বহুল শহরে ২৫০ টাকা।
৭ দিনের বেশি অবস্থান করলে: ভাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে ২ শয্যার জন্য ব্যয়বহুল শহরে সর্বোচ্চ ৮৫০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে।
২. সংবিধিবদ্ধ সংস্থা/সেক্টর/কর্পোরেশন/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা:
এই শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য ১-৩ দিন অবস্থানের ক্ষেত্রে ১ শয্যার ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা এবং ২ শয্যার ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘকালীন অবস্থানের ক্ষেত্রে (৭ দিনের বেশি) ব্যয়বহুল শহরে ২ শয্যার জন্য ১,০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।
৩. বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তা:
বেসরকারি ব্যক্তিদের জন্য অবস্থানের সময়সীমা নির্বিশেষে স্থির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ শয্যার এসি কক্ষের জন্য ১,৫০০ টাকা এবং ২ শয্যার এসি কক্ষের জন্য ১,৮০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
ব্যয়বহুল শহরের তালিকা
পরিপত্রে জানানো হয়েছে যে, অর্থ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখের স্মারক অনুযায়ী দেশের বড় শহরগুলোকে ‘ব্যয়বহুল শহর’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে— ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং কক্সবাজার জেলা।
বিশেষ নির্দেশনা
পরিপত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি সার্কিট হাউসে ১ শয্যার কক্ষের অভাব থাকে এবং কোনো কর্মকর্তা বা ব্যবহারকারীকে ২ শয্যার কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১ শয্যার কক্ষের জন্যই নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনাটি সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে যাতে দ্রুততার সাথে নতুন এই ভাড়ার হার কার্যকর করা হয়।



