৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

আসন্ন বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর: বাস্তবায়ন হতে পারে নবম পে-স্কেল

সরকারের আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সাথে চূড়ান্ত বৈঠকের পর অনুমোদিত হতে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে সরকার নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।


বাস্তবায়নে দুই ধরণের বিকল্প পরিকল্পনা

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার বর্তমানে দুটি বিকল্প পদ্ধতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে:

১. তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: এই পদ্ধতিতে বেতন ও ভাতাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে তিন বছর সময় নেওয়া হবে। ২. দুই অর্থ বছরের দ্রুত পরিকল্পনা: পরবর্তী দুই অর্থ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা।

খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী: প্রথম বিকল্পটি গৃহীত হলে আগামী অর্থ বছরেই প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। মূল বেতনের বাকি অংশ পরবর্তী বছরে এবং বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো তৃতীয় বছরে দুই ধাপে প্রদান করা হবে।


বাজেট ও আর্থিক সংশ্লেষ

সূত্রমতে, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। বিশাল এই বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয়ের চিত্র:

  • মোট অতিরিক্ত প্রয়োজন: প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

  • সরাসরি বেতন-ভাতা: প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে।

  • অন্যান্য খাত: অবশিষ্ট অংশ ব্যয় হবে পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে।


উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর প্রতিটি দিক পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে, যার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: যদি এই পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে বিশাল এই ব্যয় মেটাতে সরকারকে রাজস্ব আদায়ে আরও বেশি তৎপর হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে আসন্ন বৈঠকেই নির্ধারিত হবে কোন পদ্ধতিতে এবং কত দ্রুত এই নতুন বেতন কাঠামো সাধারণ কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাবে। সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সরকার দ্রুত একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো উপহার দেবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *