৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রেসক্লাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌন মিছিল ও সমাবেশ

৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবিতে রাজধানী ঢাকায় এক ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আজ শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এই মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।


ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি ও দেশব্যাপী অংশগ্রহণ

শনিবার দুপুর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা, বিভাগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হতে থাকেন। চিরাচরিত স্লোগানসর্বস্ব মিছিলের বাইরে গিয়ে এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্পূর্ণ মৌন মিছিল প্রর্দশন করেন, যা সাধারণ পথচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

কর্মসূচির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা: বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম।

  • প্রতিনিধিদের উপস্থিতি: সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শত শত কর্মচারী প্রতিনিধি এ সমাবেশে অংশ নেন।

  • প্রধান দাবি: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা।


বক্তাদের বক্তব্য ও মূল দাবি

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, “সর্বশেষ ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”

সংগঠনের সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা বা অচলাবস্থা তৈরি করতে চাই না। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মৌন মিছিলের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার আকুল বার্তাটি পৌঁছে দিতে চেয়েছি। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন বাজেটেই আমাদের এই যৌক্তিক দাবি পূরণ করবেন।”

কর্মসূচির মূল দাবি ব্যক্ত করে নেতারা বলেন: বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে অনতিবিলম্বে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।


আগামী দিনের আলটিমেটাম

সমাবেশ থেকে জানানো হয়, আসন্ন বাজেটে যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা অর্থ বরাদ্দ রাখা না হয়, তবে আগামীতে সাধারণ কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *