১১ বছর পর ধাপে ধাপে নয়, একধাপেই শতভাগ বেতন বৃদ্ধির পে-স্কেল চান সরকারি কর্মচারীরা
দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেলের প্রতীক্ষায় থাকা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। “ধাপে ধাপে নয়, একধাপেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন চাই”—এই দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিশেষ করে সম্প্রতি গুঞ্জন ওঠা ১৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত ধাপে ধাপে বেসিক বৃদ্ধির প্রস্তাবকে তারা চরম বৈষম্যমূলক ও “ঘোড়ার ডিম” বলে আখ্যায়িত করেছেন। কর্মচারীদের স্পষ্ট দাবি, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো ৪০০% না হলেও, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে একধাপেই ন্যূনতম ১০০% বেতন বৃদ্ধি করতে হবে।
কেন ধাপে ধাপে পে-স্কেল প্রত্যাখ্যান করছেন কর্মচারীরা?
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ ১১ বছর কেটে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।
বাজারদরের সাথে অসঙ্গতি: বর্তমানে মূল্যস্ফীতি যে স্তরে পৌঁছেছে, সেখানে ধাপে ধাপে সামান্য শতাংশ (যেমন: ১৫% থেকে ৫০%) বেতন বাড়ানো হলে তা সাধারণ কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
১১ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা: প্রতি ৫ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল দেওয়ার নিয়ম বা প্রথা থাকলেও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো নতুন স্কেল দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মচারীদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে।
ভারতের উদাহরণ এবং যৌক্তিক তুলনা
কর্মচারী ফোরাম ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পে-কমিশনের উদাহরণ টেনে আনছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়:
| বিষয় | ভারত (প্রস্তাবিত/বাস্তবায়িত) | বাংলাদেশের কর্মচারীদের দাবি |
| সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার | প্রায় ৪০০% পর্যন্ত (বিভিন্ন ধাপে/কমিশনে) | ১০০% (একধাপে) |
| বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া | সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত | ১১ বছর পর এককালীন শতভাগ |
“আমরা ভারতের মতো ৪০০% বেতন বৃদ্ধির অবাস্তব দাবি করছি না। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা মাত্র ১০০% বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু সেটা অবশ্যই একধাপে হতে হবে, কোনো কিস্তিতে বা ধাপে ধাপে নয়।”
— একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারী
৩৫% থেকে ৫০% বৃদ্ধির প্রস্তাবকে “ঘোড়ার ডিম” আখ্যা
শোনা যাচ্ছে, সরকার আগামী পে-স্কেলে বেসিকের ওপর ধাপে ধাপে ৩৫% থেকে ৫০% বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। কর্মচারীরা এই প্রস্তাবকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাজারে এই সামান্য বৃদ্ধি কেবলই সান্ত্বনা পুরস্কার, যা মূল্যস্ফীতির কাছে নিমেষেই হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর এই ধরনের আংশিক বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কর্মচারীদের সাথে এক ধরণের উপহাস।
কর্মচারীদের মূল দাবিগুলো এক নজরে:
একধাপে বাস্তবায়ন: নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সাথে সাথেই তা একধাপে কার্যকর করতে হবে। কোনো “ফেজ” বা ধাপ রাখা চলবে না।
ন্যূনতম ১০০% বৃদ্ধি: বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল বেতন (Basic) ন্যূনতম ১০০% বৃদ্ধি করতে হবে।
বৈষম্য দূরীকরণ: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে।
শেষ কথা
সরকারি কর্মচারীরা দেশের প্রশাসনিক ও সেবা খাতের মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘ ১১ বছর পর একটি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত পে-স্কেল তাদের অধিকার। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নামে কালক্ষেপণ না করে, একধাপেই ১০০% বেতন বৃদ্ধির দাবি মেনে নিয়ে সরকার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের হতাশা দূর করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ চাকুরিজীবীদের।



