৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নতুন পে-স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা-হতাশা, দ্রুত সরকারি ঘোষণা চান কর্মচারীরা

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এক সাক্ষাৎকারে আবদুল মালেক বলেন, বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে তারা বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন, নাকি ১০০ শতাংশ। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে বাস্তবে নতুন পে-স্কেল আদৌ কার্যকর হবে কি না, কিংবা কবে থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে আসেনি। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক মনে করেন, জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগেই সরকার যদি নতুন পে-স্কেল বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাত, তাহলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজমান হতাশা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটত। তিনি বলেন, “একটি পরিষ্কার ঘোষণা কর্মচারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতো।”

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আবদুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর যদি নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হয়, তাহলে সেটি একবারেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে কর্মচারীরা প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতার কারণে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের জন্য কার্যকর সুফল বয়ে আনবে না। বরং প্রতিটি ধাপের সঙ্গে বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত সুবিধাকে অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জাতীয় বাজেট প্রতি বছর প্রণয়ন হলেও পে-স্কেল নিয়মিতভাবে সংশোধন করা হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকায় সরকারি কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন প্রসঙ্গে আবদুল মালেক বলেন, কর্মচারীদের কল্যাণ ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির স্বার্থে সরকার চাইলে অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সংকোচন করে নতুন পে-স্কেলের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত নতুন পে-স্কেল বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাবে এবং দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বর্তমান বাস্তবতায় একটি যুগোপযোগী পে-স্কেল শুধু কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা এখন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *