“নিজেদের বেলায় মুদ্রাস্ফীতির তত্ত্ব প্রয়োগ করেনি সিপিডি, ১০ বছরে বেতন বাড়িয়েছে দ্বিগুণ” — মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ড. শফিকুল ইসলাম
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও সংবাদ পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে তীব্র সমালোচনা করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (ক্যাবিনেট ডিভিশন) উপসচিব ড. শফিকুল ইসলাম। প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদ পর্যালোচনা (সংবাদপত্র সমালোচনা) থেকে জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি গত ১০ বছরে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে তারা মুদ্রাস্ফীতির যে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দাঁড় করায়, নিজেদের ক্ষেত্রে সেই নীতি বা তত্ত্বের কোনো প্রয়োগ করেনি।
সমালোচনার মূল সুর: তত্ত্ব বনাম বাস্তবায়ন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ড. শফিকুল ইসলামের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:
“CPD গত ১০ বছরে নিজেদের বেতন দ্বিগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। নিজেদের বেলায় মুদ্রাস্ফীতির তত্ত্ব প্রয়োগ করেনি।”
তিনি উল্লেখ করেন, সিপিডি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি, এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিনিয়ত নানামুখী তত্ত্ব ও প্রেস ব্রিফিং দিয়ে থাকে। সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান এবং সরকারি খাতের ব্যয় সংকোচন নিয়ে সংস্থাটি সোচ্চার হলেও, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বেতন কাঠামো নির্ধারণে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সুবিধাজনক পথ বেছে নিয়েছে। গত এক দশকে বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে তারা নিজেদের কর্মকর্তা ও গবেষকদের বেতন দ্বিগুণ (১০০%) বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের সার্বিক অর্থনৈতিক পরামর্শ ও অবস্থানের সাথে বৈপরীত্য তৈরি করে।
সিপিডি’র দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যেকোনো স্বাধীন গবেষণা সংস্থার নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির অধিকার রয়েছে। তবে সংকটকালীন মুহূর্তে যখন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধন ও তাত্ত্বিক পরিমিতিবোধের পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন সিপিডি’র মতো প্রতিষ্ঠানের নিজেদের বেতন দ্বিগুণ করার এই পদক্ষেপকে “দ্বিমুখী নীতি” হিসেবে দেখছেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ড. শফিকুল ইসলামের এই মন্তব্য মূলত দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বেসরকারি থিংক-ট্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিক অবস্থানের প্রতি এক ধরণের জবাবদিহিতার বার্তা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ক্যাবিনেট ডিভিশনের উপসচিব ড. শফিকুল ইসলামের ছবিসহ এই সংবাদপত্র সমালোচনাটি প্রচার করা হয়, যা বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



