সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিজনেস ক্লাস বাতিল, আবারও ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ
সরকারি ব্যয়ে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য চালু থাকা বিজনেস/এক্সিকিউটিভ শ্রেণির বিমান ভ্রমণ সুবিধা বাতিল করে পুনরায় ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগের জারি করা স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ভুক্ত সকল কর্মকর্তা এবং তাদের ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত ব্যক্তিদের সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমানযাত্রায় পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ইকোনমি ক্লাস (Economy Class) ব্যবহার করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগ একটি অফিস স্মারকের মাধ্যমে সরকারি কাজে বিদেশ সফরকালে বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা এবং ভাতা-সংক্রান্ত সুবিধার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিমানযাত্রায় বিজনেস বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণিতে ভ্রমণের সুযোগ প্রদান করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সুবিধা থেকে সরে আসা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের একটি পত্রের উল্লেখ করে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি ব্যয় সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের যৌক্তিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত সচিব, সচিব এবং সমপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিজনেস বা এক্সিকিউটিভ ক্লাসের পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয় সংকোচন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং প্রশাসনিক খাতে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন এই পদক্ষেপ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের উপসচিব র. হ. ম. আলাউল কবীর স্বাক্ষরিত স্মারকটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরসমূহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো মনে করছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে বিদেশ সফর বাবদ সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি হবে।




