অনলাইনে বিল দাখিলে আর হার্ডকপি লাগবে না: অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা
সরকারি কর্মচারীদের দৈনিক ভাতা, ভ্রমণ ভাতা এবং বদলিজনিত ভ্রমণ ভাতা বিল দাখিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন থেকে অনলাইনে বিল দাখিলের পর তার কোনো প্রিন্ট কপি বা হার্ডকপি হিসাব রক্ষণ অফিসে জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, প্রবিধি অনুবিভাগ (প্রবিধি-৩ শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। উপ-সচিব মোসাঃ শরীফুন্নেসা স্বাক্ষরিত এই আদেশে পূর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাতিলকৃত সিদ্ধান্তটি কী ছিল? গত ০১/০৩/২০২৩ তারিখে জারি করা এক পত্রে (স্মারক নং-০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩৪.০০৭.১৫(অংশ-২)-২৫) বলা হয়েছিল যে, অনলাইনে বিল দাখিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বিলের ০১টি প্রিন্ট কপি স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে। দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পরও এই হার্ডকপি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে সময়সাপেক্ষ এবং অতিরিক্ত কাজ হিসেবে দেখে আসছিলেন।
নতুন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে: নতুন জারিকৃত এই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ওই পত্রের ৩ নং ক্রমে উল্লিখিত “পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অনলাইনে বিল দাখিলের পাশাপাশি বিলের ০১টি প্রিন্ট কপি স্বাক্ষর করে আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণ করতে হবে” শীর্ষক সিদ্ধান্তটি নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।
এর ফলে যে সুবিধা হবে: এই নির্দেশনার ফলে সরকারি অফিসগুলোতে কাগজবিহীন (Paperless) দাপ্তরিক কাজের গতি আরও বাড়বে। কর্মচারীরা এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনেই তাদের ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতার বিল জমা দিতে পারবেন, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসের সিস্টেমে পৌঁছে যাবে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি কাজের ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে।
এই আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (C&AG) সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও সকল জেলা প্রশাসকের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: আপনি এই প্রজ্ঞাপনটির ‘ইনডোর্স কপি’ (Endorsed Copy) চেয়েছেন। ইনডোর্স কপি সাধারণত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সত্যায়িত বা প্রাপ্তি স্বীকার সম্বলিত হয়ে থাকে। এই ডিজিটাল কপিটি ব্যবহার করে আপনি আপনার দপ্তরের মাধ্যমে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করে দাপ্তরিক কাজের জন্য এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেন। বর্তমান প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হওয়ায় এখন থেকে আর হার্ডকপি জমার বাধ্যবাধকতা নেই।


