১১-২০ তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন: আশার আলো, নাকি কেবলই অপেক্ষা?
জাতীয় বেতন স্কেলের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন এবং যৌক্তিক দাবি অবশেষে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। উচ্চ পর্যায়ে এই গ্রেডগুলোর কর্মচারীদের জন্য ১০০% ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব ঠিক থাকলে অচিরেই এই প্রান্তিক কর্মচারীদের জন্য একটি বড় ধরনের সুখবর আসতে পারে।
তবে সাধারণ কর্মচারীদের দাবি—শুধু টেবিল টক বা আশ্বাসের মধ্যেই যেন এটি সীমাবদ্ধ না থাকে। তারা এই দাবির বিষয়টিকে মূলধারার গণমাধ্যম এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে জোরালোভাবে প্রচার ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।
বৈষম্য নিরসন ও পে স্কেলের যৌক্তিকতা
২০১৫ সালে সর্বশেষ ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হলেও নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি।
কর্মচারী সংগঠনগুলোর তথ্য ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর পক্ষে পরিবার নিয়ে মানসম্মত জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সাথে এই নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতনের ব্যবধান বর্তমানে পাহাড়সম। এই চরম বৈষম্য দূর করতে এবং জীবনযাত্রার মান সচল রাখতে ১০০% ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন আর কোনো বিলাসী দাবি নয়, বরং সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।
আন্দোলনের মূল দাবি ও প্রচারের আহ্বান
১১-২০ তম গ্রেডের চাকরিজীবী ফোরাম এবং বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হচ্ছে। কর্মচারীরা চান তাদের এই দাবিগুলো যেন ব্যাপকভাবে প্রচারিত এবং বাস্তবায়িত হয়:
১০০% ৯ম পে স্কেল ঘোষণা: বাজারমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে নতুন পে স্কেল দিতে হবে।
বেতন বৈষম্য দূরীকরণ: উচ্চ গ্রেড ও নিম্ন গ্রেডের মধ্যকার বেতনের অনুপাত যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল: পূর্বের মতো টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড চালু করা, যা ২০১৫ সালের স্কেলে বাতিল করা হয়েছিল।
ঝুঁকি ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজারের সাথে মিলিয়ে চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া এবং টিএ/ডিএ বৃদ্ধি করা।
আউটসোর্সিং প্রথা বিলোপ: সরকারি দপ্তরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
উচ্চ পর্যায়ে চলমান আলোচনা ও সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের একটি বিশাল অংশ (১১ থেকে ২০ তম গ্রেড) দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে থাকায় কাজের গতি ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব পড়ছে—এই বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। নতুন পে স্কেল বা বিশেষ মহার্ঘ ভাতা প্রদানের মাধ্যমে এই বিশাল জনবলকে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বাজেটীয় চাপ বাড়লেও, এটি দেশের প্রান্তিক লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
সাধারণ কর্মচারীদের বক্তব্য:
“আমরা শুধু আশ্বাস চাই না, দৃশ্যমান বাস্তবায়ন চাই। উচ্চ পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তা দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে দেখতে চাই। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তাই ৯ম পে স্কেলের দাবি এখন আমাদের বাঁচা-মরার লড়াই।”
শেষ কথা
১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের কর্মচারীদের এই দাবি সম্পূর্ণ মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উচ্চ পর্যায়ের এই ইতিবাচক আলোচনা যদি দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা হবে দেশের লাখ লাখ কর্মচারীর জন্য এক ঐতিহাসিক সুসংবাদ। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে প্রচার এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



