বিদেশে প্রশিক্ষণ-সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ পকেট ভাতা: অর্থ বিভাগের ব্যাখ্যা
বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও অনুরূপ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রাপ্য ‘পকেট ভাতা’ বিষয়ে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে নতুন ব্যাখ্যা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল জারিকৃত এক অফিস স্মারকে অর্থ বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিদেশে অংশগ্রহণকারীরা সর্বসাকুল্য ভাতার (Comprehensive Allowance) ৩০ শতাংশ হারে পকেট ভাতা পাবেন।
অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে জারি করা স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রাপ্য ভ্রমণ ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের পকেট ভাতা প্রাপ্যতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ কারণে অর্থ বিভাগ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ পর্যায়ের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বিদেশে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিবেচিত হন, অর্থাৎ তার আহার ও বাসস্থানের ব্যয় কোনো বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বহন করে, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য নির্ধারিত সর্বসাকুল্য ভাতার ৩০ শতাংশ হারে পকেট ভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।
তবে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। যদি অংশগ্রহণকারীকে আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য আলাদাভাবে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়, তাহলে তিনি আর ৩০ শতাংশ পকেট ভাতা পাবেন না। একইভাবে, আহার ও বাসস্থানের ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকার বা আয়োজক সংস্থা যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নগদ অর্থ প্রদান করে, সেক্ষেত্রেও পকেট ভাতা প্রযোজ্য হবে না।
অর্থ বিভাগের মতে, বাস্তব ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ভাতা নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় এ ব্যাখ্যা জারি করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারির সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ শতাংশ পকেট ভাতা প্রাপ্য হবেন কি না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই ব্যাখ্যার ফলে বিদেশে সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতা নির্ধারণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভাতা সংক্রান্ত বৈষম্য বা বিভ্রান্তি দূর হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একটি অভিন্ন নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করাই এ ব্যাখ্যা জারির মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশে সরকারি প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ আরও সহজ ও সুস্পষ্ট হবে।

পকেট ভাতা (Pocket Allowance)” মূলত তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন বিদেশ সফরকারী ব্যক্তির আহার ও বাসস্থানের ব্যয় বিদেশি সরকার, সংস্থা বা আয়োজক প্রতিষ্ঠান বহন করবে। তখন দৈনিক ভাতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে পকেট ভাতা দেওয়া হয়।
বিশেষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে
- স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, কেবিনেট মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার ও সমমর্যাদার ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিদেশে গেলে প্রতি রাত্রিযাপনের জন্য ৮৭ মার্কিন ডলার পকেট ভাতা পাবেন।
- বিশেষ পর্যায়ের অন্যান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য সাধারণ পর্যায়ের ‘ক’ শ্রেণির নির্ধারিত Comprehensive Allowance-এর ৩০% পকেট ভাতা পাবেন।
সাধারণ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে
সাধারণ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রীয় অতিথি হলে বা বিদেশি সংস্থা তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করলে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য নির্ধারিত Comprehensive Allowance-এর ৩০% পকেট ভাতা পাবেন।
উদাহরণ
ধরা যাক, একজন কর্মকর্তা সাধারণ পর্যায়ের ‘ক’ শ্রেণিতে পড়েন এবং তিনি গ্রুপ-১ দেশের জন্য নির্ধারিত Comprehensive Allowance পান ২০২ মার্কিন ডলার।
তাহলে পকেট ভাতা হবে:
২০২ × ৩০% = ৬০.৬০ মার্কিন ডলার (প্রতি রাত্রিযাপন)
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য যে Comprehensive Allowance নির্ধারিত আছে, তার ৩০ শতাংশই পকেট ভাতা হিসেবে গণনা হবে।তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান যদি আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আলাদা নগদ অর্থ প্রদান করে, তাহলে এই পকেট ভাতা প্রযোজ্য হবে না।



