৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সচিব কমিটির বৈঠকে ৫ সিদ্ধান্ত : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে বড় ধরনের ঐতিহাসিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত পাঁচটি প্রধান সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন বেতন কাঠামো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সচিব কমিটির এই বিশেষ বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সামগ্রিক রূপরেখা, আর্থিক সমন্বয় এবং বিদ্যমান গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

সংযুক্ত চিত্র “1.png” থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সচিব কমিটির প্রধান ৫টি সিদ্ধান্ত নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. দুই ধাপে বাস্তবায়ন (Two-step Implementation)

দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এককালীন চাপ কমাতে এবং সুষম বাজেট ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে নতুন পে-স্কেলটি সম্পূর্ণ একবারে কার্যকর না করে মোট দুটি ধাপে বা স্তরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই কৌশলী সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের আর্থিক খাতের ওপর এককালীন বড় ধরনের কোনো চাপ আসবে না এবং সরকারি কোষাগার থেকে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

২. নিম্ন গ্রেডে বেশি সুবিধা (Lower Grade Benefits)

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে এই নিম্নতর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ-সুবিধা ও উচ্চহারে মূল বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত হবে।

৩. বেতন বৈষম্য দূরীকরণ (Disparity Resolution)

পূর্ববর্তী পে-স্কেলগুলোতে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যবর্তী ধাপে যে বিশাল ব্যবধান বা বৈষম্য ছিল, তা দূর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যানোমালি দূরীকরণ সূত্র’ বা বিশেষ অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অসঙ্গতিসমূহ দূর করে সকল পদের জন্য একটি সুষম, যৌক্তিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন স্কেল প্রণয়ন করা হচ্ছে।

৪. ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধি (Allowance Increase)

কেবল মূল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামগ্রিক আর্থিক সুরক্ষার কথা চিন্তা করে আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, যেমন—বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং যাতায়াত ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে কর্মচারীদের সামগ্রিক মাসিক প্রকৃত আয় (Take-home Pay) বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে বড় স্বস্তি দেবে।

৫. কারিগরি ও আইনি প্রস্তুতি (Technical & Legal Steps)

নতুন পে-স্কেল দ্রুত ও ত্রুটিহীনভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি রূপরেখা প্রস্তুত করা এবং এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে (iBAS++ বা ইবাস সিস্টেমের মাধ্যমে) নতুন বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশনের জন্য কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন সিস্টেমে বেতন বিবরণী হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।

মাঠ পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া:

সচিব কমিটির এই ৫টি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশেষ করে সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, নতুন এই যুগোপযোগী পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মদক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *