৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে বাড়ছে চাপ, ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ঘোষণা না এলে ১৫ জুলাই মহাসমাবেশের হুঁশিয়ারি
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পরও ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি আরও জোরালোভাবে সামনে আসছে।
দাবিদারদের ভাষ্য, দেশের লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের প্রত্যাশা এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁদের মতে, নতুন পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হলে কর্মচারীদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে আসবে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।
কর্মচারীদের একাংশ সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হোক। তাঁদের বিশ্বাস, সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন সংগঠক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে ১৫ জুলাই মহাসমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তাঁদের দাবি, গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এসব কর্মসূচির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ইস্যু নিয়ে নানা ধরনের মতামতও প্রকাশ পাচ্ছে। সেখানে কিছু কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কিছু নেতা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক সমালোচনায় বেশি মনোযোগী হলেও কর্মচারীদের মূল দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। তবে এসব মন্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত; এর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের মনোবল, কর্মদক্ষতা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা করছেন, দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।



