৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের আবেগ নিয়ে ‘খেলা বন্ধের’ দাবি, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান চাকরিজীবীরা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবীদের একাংশ অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন সময় কমিটি গঠন, প্রস্তাব পর্যালোচনা ও নতুন আশ্বাস দেওয়া হলেও চূড়ান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে অস্থায়ী কর্মচারীদের আবেগ নিয়ে ‘খেলা বন্ধ করার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারটিতে অষ্টম পে-স্কেল রিভিউ কমিটি, বিশেষ সুবিধা পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি এবং নবম পে-স্কেল যাচাই-বাছাই বা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে বারবার নতুন কমিটি গঠন বা পর্যালোচনার পরিবর্তে দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

পাঁচ বছরেও বৈঠক না হওয়ার অভিযোগ

প্রচারিত পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, অষ্টম পে-স্কেল রিভিউ কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কার্যকর কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে কমিটিটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারী চাকরিজীবীরা।

তাদের বক্তব্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ আরও বাড়ে।

‘বিশেষ সুবিধা’কে স্থায়ী সমাধান মনে করছেন না কর্মচারীরা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে ‘বিশেষ সুবিধা’ বা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারী কর্মচারীদের একাংশ এটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না।

তাদের মতে, মূল বেতন কাঠামো যুগোপযোগী না করে কেবল বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হলে বাড়িভাড়া ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য বেতননির্ভর আর্থিক সুবিধায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।

এ কারণে সাময়িক আর্থিক সুবিধার পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

কমিটির পর কমিটি গঠনে বাড়ছে অসন্তোষ

পোস্টারটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি বা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ সামনে আসছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, এতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

চাকরিজীবীদের একাংশ মনে করছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং প্রশাসনিক পর্যালোচনা প্রয়োজন হলেও এসব কার্যক্রমের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

কবে কমিটি প্রতিবেদন দেবে, কবে সুপারিশ চূড়ান্ত হবে এবং সরকার কবে সিদ্ধান্ত নেবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নবম পে-স্কেল নিয়ে ‘যাচাই-বাছাইয়ের নাটক’ বন্ধের দাবি

প্রচারিত পোস্টারে নবম পে-স্কেলের নামে বারবার যাচাই-বাছাই ও নতুন পর্যালোচনাকে ‘নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

তাদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চললেও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চাকরিজীবীরা আর কেবল আশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন না।

তারা সরকারের কাছ থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

নতুন ভাঁওতাবাজির আশঙ্কা

পোস্টারটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নতুন কোনো বেতন পর্যালোচনা বা কমিশনের উদ্যোগ সামনে এনে মূল পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার নতুন কোনো কমিটি বা কমিশন গঠন করা হলে প্রতিবেদন প্রস্তুত, যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক অনুমোদনের নামে আরও সময়ক্ষেপণ হতে পারে।

এ কারণে তারা নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান দাবি ও প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অবিলম্বে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি

পোস্টারের শেষাংশে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে কর্মচারীদের ন্যায্য আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

চাকরিজীবীদের বক্তব্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতননির্ভর বিভিন্ন ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি যাচাই জরুরি

তবে প্রচারিত পোস্টারে অষ্টম পে-স্কেল রিভিউ কমিটির কার্যক্রম, বিভিন্ন কমিটির অবস্থান এবং নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টার, ফটোকার্ড বা প্রচারপত্র সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অথবা সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

সুতরাং, ভাইরাল পোস্টারটি সরকারি ঘোষণা নয়; এটি মূলত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চাকরিজীবীদের একটি অংশের ক্ষোভ, হতাশা ও আন্দোলনমূলক বক্তব্যের প্রতিফলন। নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন বা গেজেটের অপেক্ষা করতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *