সরকারি চাকরিতে স্বীকৃত ১৭ ধরনের ছুটি: কোন ছুটি কোন আইনে, এক নজরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ছুটির বিধান থাকলেও অনেকেই জানেন না কোন ছুটি কোন আইন বা বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। সম্প্রতি প্রচারিত একটি তথ্যসূচিতে সরকারি চাকরিতে স্বীকৃত ১৭ ধরনের ছুটি এবং সেগুলোর আইনি ভিত্তি একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ছুটির ধরন, সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান এবং প্রযোজ্য আইন উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ছুটি মূলত নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) পার্ট-১, ফাইন্যান্সিয়াল রুলস, সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সার্কুলারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
সরকারি চাকরিতে ১৭ ধরনের ছুটি
তালিকায় সরকারি চাকরিতে নিম্নোক্ত ১৭ ধরনের ছুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে—
১. অর্জিত ছুটি (Earned Leave)
সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে প্রচলিত ছুটি। এটি নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১ অনুযায়ী প্রদান করা হয়।
২. অসাধারণ ছুটি বা বিনা বেতনের ছুটি (Extra Ordinary Leave/Leave Without Pay)
যেসব ক্ষেত্রে বেতনসহ অন্য কোনো ছুটি প্রাপ্য হয় না, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিনা বেতনে এই ছুটি মঞ্জুর করা যায়।
৩. অক্ষমতাজনিত ছুটি (Special Disability Leave)
দুর্ঘটনা বা চাকরিসংক্রান্ত কারণে শারীরিক অক্ষমতা সৃষ্টি হলে নির্দিষ্ট শর্তে এই ছুটি প্রদান করা হয়।
৪. অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave)
উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা বিশেষায়িত গবেষণার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত শর্তে সরকারি কর্মচারীরা এই ছুটি ভোগ করতে পারেন।
৫. সঙ্গনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave)
সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যগত কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই ছুটির বিধান রয়েছে।
৬. প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)
নারী সরকারি কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস ও ফাইন্যান্সিয়াল রুলস অনুযায়ী এই ছুটি প্রদান করা হয়।
৭. চিকিৎসালয় বা হাসপাতাল ছুটি (Hospital Leave)
চাকরিসংক্রান্ত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী এই ছুটি পাওয়া যায়।
৮. বিশেষ অসুস্থতাজনিত ছুটি (Special Sickness Leave)
বিশেষ ধরনের রোগ বা স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে এ ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
৯. অবকাশ বিভাগের ছুটি (Leave of Vacation Department)
যেসব বিভাগে অবকাশ ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব বিভাগের কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান অনুসারে এ ছুটি প্রযোজ্য।
১০. বিভাগীয় ছুটি (Departmental Leave)
বিশেষ প্রশাসনিক বা বিভাগীয় প্রয়োজনে নির্ধারিত নিয়মে এ ধরনের ছুটি দেওয়া হয়।
১১. প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি (Leave Not Due)
অর্জিত ছুটি না থাকলেও ভবিষ্যতে অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে এই ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।
১২. অবসরমূলক প্রস্তুতি ছুটি (LPR)
সরকারি কর্মচারীদের অবসরের আগে নির্ধারিত সময়ের জন্য এই ছুটি প্রদান করা হয়। এটি সরকারি কর্মচারী (অবসর) আইন, ১৯৭৪ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
১৩. বাধ্যতামূলক ছুটি (Compulsory Leave)
শৃঙ্খলামূলক বা প্রশাসনিক কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ ছুটি প্রদান করা হয়।
১৪. বহিঃবাংলাদেশ ছুটি (Leave in Out of Country)
বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা বা অন্যান্য অনুমোদিত কারণে দেশের বাইরে অবস্থানের জন্য নির্ধারিত সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে এই ছুটি গ্রহণ করতে হয়।
১৫. নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)
ব্যক্তিগত জরুরি বা স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনে কর্মচারীরা এই ছুটি ভোগ করতে পারেন। এর জন্য পৃথক সরকারি সার্কুলার ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস প্রযোজ্য।
১৬. সাধারণ ও সরকারি ছুটি
এই শ্রেণিতে তিন ধরনের ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
- সাধারণ ছুটি (Public Holiday)
- নির্বাহী আদেশের ছুটি (Government Holiday)
- ঐচ্ছিক ছুটি (Optional Leave)
এসব ছুটির বিধান সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
১৭. শ্রান্তি বিনোদন বা চিত্ত বিনোদন ছুটি (Rest & Recreation Leave)
বাংলাদেশ চাকরি (বিনোদন ভাতা) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং পার্সোনেল ম্যানুয়ালের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ছুটি ও বিনোদন ভাতা প্রদান করা হয়।
কেন এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোন পরিস্থিতিতে কোন ধরনের ছুটি প্রযোজ্য, কোন কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করবে এবং কোন আইন বা বিধিমালার আওতায় তা পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা কমে এবং ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝিও এড়ানো যায়।
বিশেষ করে অর্জিত ছুটি, LPR, প্রসূতি ছুটি, বিনা বেতনের ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি এবং শ্রান্তি বিনোদন ছুটি সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রতিটি সরকারি কর্মচারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



