সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছে, বাস্তবায়নেও হতে পারে বিলম্ব
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) ঘোষণার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আগে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুনঃপর্যালোচনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবদের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগীয় বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
এর ফলে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আইএমএফের সুপারিশও গুরুত্ব পাচ্ছে
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ সুপারিশ সরাসরি গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
আরও কয়েক দফা বৈঠকের সম্ভাবনা
সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আরও কয়েকটি বৈঠক করতে হবে। এসব বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ বিভাগ গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেবে।
ঘোষণায় তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনঃপর্যালোচনা, আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত কাজ শেষ করারও চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুপারিশ চূড়ান্ত হলে নতুন পে-কমিশনের সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তে যেসব বিষয় বিবেচনায় থাকবে
নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত করার আগে সরকার যেসব বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- নতুন বেতন কাঠামোর মোট আর্থিক প্রভাব।
- জাতীয় বাজেটের ওপর সম্ভাব্য চাপ।
- সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা।
- মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।
- আন্তর্জাতিক অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সুপারিশ।
- দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার টেকসইতা।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা রয়েছে। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে আরও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত কোনো সময়সূচিকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।


