৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন ২০২৬ : আইএমএফের পরামর্শ উপেক্ষা করে এগোচ্ছে সরকার?

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে বলে জানা গেছে। এখন কেবল মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা। অনুমোদন মিললেই সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, চলমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন পে স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে স্কেলের কাঠামোগত প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পে কমিশনের সুপারিশে কী রয়েছে?

২০২৫ সালের জুলাই মাসে জমা দেওয়া পে কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বর্তমান মূল বেতনের তুলনায় প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী—

  • সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
  • সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

যদিও এসব সুপারিশ চূড়ান্ত নয়, তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা সমন্বয় করতে পারে।

আইএমএফের পরামর্শ উপেক্ষা করে এগোচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

তবে সরকার সেই পরামর্শ অনুসরণ না করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এমনকি আইএমএফের পরবর্তী বার্ষিক বৈঠকের আগেই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কতজন উপকৃত হবেন?

নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি কয়েক লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারের পেনশন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকা বেতন কাঠামো সংশোধন হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।

সরকারের ব্যয় কত বাড়তে পারে?

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নবম পে স্কেল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ কারণে সরকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, বাজেট পুনর্বিন্যাস অথবা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের মতো বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে স্কেল কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন কাঠামো দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেল দ্রুত কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে।

এখন যেদিকে নজর

এ মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি গেজেট প্রকাশের দিকে। অনুমোদনের পরই কার্যকর হওয়ার তারিখ, বাস্তবায়নের ধাপ, নতুন গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।

যদিও বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত গেজেট প্রকাশের পর। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *