যানবাহন I জ্বালানি সুবিধা । মনিহারি

সরকারি দপ্তরে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় নতুন মূল্যসীমা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ ও পাবলিক সেক্টর করপোরেশনসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য Full Electric Vehicle (FEV) বা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন এ নির্দেশনায় গাড়ির ধরন, মোটর পাওয়ার, ব্যাটারি সক্ষমতা, একবার চার্জে চলার দূরত্ব, চার্জিং সক্ষমতা এবং ব্যাটারি ওয়ারেন্টির মতো বিষয়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৪ শাখা থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত পত্রে বাজারদর ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন বিবেচনায় নিয়ে FEV গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পত্রটির তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত মূল্যসীমা অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।

তিন শ্রেণির বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য পৃথক মূল্যসীমা

নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য FEV গাড়িকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণি—কার:
সাধারণ কারের ক্ষেত্রে মোটর পাওয়ার কমপক্ষে ৯৫ কিলোওয়াট (KW), ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫০ কিলোওয়াট-আওয়ার (KWh) এবং একবার চার্জে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা থাকতে হবে। চার্জিং সক্ষমতা কমপক্ষে ৮০ KW এবং ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কমপক্ষে ৮ বছর হতে হবে। এ শ্রেণির গাড়ির সর্বোচ্চ মূল্য ৫০ লাখ টাকা, যেখানে রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় শ্রেণি—গ্রেড-৯ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য জীপ:
এ শ্রেণির FEV জীপের মোটর পাওয়ার কমপক্ষে ১৫০ KW, ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫৫ KWh, একবার চার্জে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা এবং চার্জিং সক্ষমতা কমপক্ষে ৮০ KW নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাটারি ওয়ারেন্টিও কমপক্ষে ৮ বছর হতে হবে। এ ধরনের গাড়ির সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ।

তৃতীয় শ্রেণি—গ্রেড-৩ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য জীপ:
এ শ্রেণির গাড়ির মোটর পাওয়ার কমপক্ষে ২০০ KW, ব্যাটারি ক্যাপাসিটি কমপক্ষে ৫৫ KWh, একবার চার্জে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা এবং চার্জিং সক্ষমতা কমপক্ষে ৮০ KW থাকতে হবে। ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কমপক্ষে ৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণির FEV জীপের সর্বোচ্চ মূল্য ৭৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত।

কোন গাড়ির দাম কত—এক নজরে

গাড়ির ধরননির্ধারিত মূল স্পেসিফিকেশনসর্বোচ্চ মূল্য
কার৯৫ KW মোটর, ৫০ KWh ব্যাটারি, ৪০০ কিমি রেঞ্জ৫০ লাখ টাকা
গ্রেড-৯ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জীপ১৫০ KW মোটর, ৫৫ KWh ব্যাটারি, ৪০০ কিমি রেঞ্জ৫৫ লাখ টাকা
গ্রেড-৩ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জীপ২০০ KW মোটর, ৫৫ KWh ব্যাটারি, ৪০০ কিমি রেঞ্জ৭৫ লাখ টাকা

তিন ক্ষেত্রেই চার্জিং সক্ষমতা কমপক্ষে ৮০ KW এবং ব্যাটারি ওয়ারেন্টি কমপক্ষে ৮ বছর রাখার শর্ত রয়েছে।

সরকারি গাড়ি কেনায় কী প্রভাব পড়বে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার ফলে সরকারি অর্থে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্য ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড তৈরি হলো। অর্থাৎ শুধু গাড়ির ক্রয়মূল্য নয়, গাড়িটির মোটর ক্ষমতা, ব্যাটারি, একবার চার্জে চলার সক্ষমতা, চার্জিং ব্যবস্থা এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো FEV কেনার সময় একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করতে পারবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যসীমার মধ্যে গাড়ি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মূল্য

নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টেবিলে উল্লেখ করা সর্বোচ্চ মূল্য শুধু গাড়ির মূল দাম নয়। সেখানে স্পষ্টভাবে রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ সর্বোচ্চ মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে গাড়ি কেনার বাজেট নির্ধারণের সময় এসব ব্যয় আলাদাভাবে যোগ করে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার সুযোগ থাকবে না।

অনুমোদন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্দেশনা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পত্রে বলা হয়েছে, উল্লেখিত প্রেক্ষাপটে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জীপ ও কার ক্রয়ে অনুমতি/ব্যয় প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যসীমা অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যানবাহন ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে জারি করা সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অর্থাৎ নতুন মূল্যসীমার পাশাপাশি গাড়ি ক্রয়সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাও কার্যকর থাকবে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

নির্দেশনাটি শুধু গাড়ির দামের ওপর সীমাবদ্ধ নয়; বরং সরকারি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪০০ কিলোমিটার ন্যূনতম রেঞ্জ, ৮০ KW চার্জিং সক্ষমতা এবং ৮ বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টি—এই তিনটি শর্ত সব শ্রেণির তালিকাভুক্ত FEV-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।

ফলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা বাজারদর নয়, নির্ধারিত প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশনও বিবেচনায় নিতে হবে।

সারকথা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় সরকারি ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় সর্বোচ্চ ৫০ লাখ, ৫৫ লাখ ও ৭৫ লাখ টাকা—এই তিন স্তরের মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ির মোটর, ব্যাটারি, রেঞ্জ, চার্জিং সক্ষমতা ও ওয়ারেন্টির ন্যূনতম মানও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরকারি খাতে FEV ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম ও প্রযুক্তিগত মান—দুই দিকেই একটি নির্দিষ্ট কাঠামো কার্যকর হলো।

Source File

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *