iBAS++-এ অনলাইনে বেতন নির্ধারণ: সরকারি কর্মচারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, সেপ্টেম্বরের বেতন ও বকেয়া নিয়ে যা জানা প্রয়োজন
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখন অনলাইনভিত্তিক করার দিকে এগোচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুসারে iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইনে বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নোটিশ তালিকাতেও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।
এদিকে iBAS++-সংক্রান্ত একটি প্রচারিত জরুরি নোটিশে সরকারি কর্মচারীদের দ্রুত সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজ নিজ বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশের বক্তব্য ও সরকারি iBAS++ ব্যবস্থার তথ্য আলাদা করে দেখলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার হয়।
সেপ্টেম্বরের বেতন নির্ধারণে কী করতে হবে?
প্রচারিত নোটিশে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেতন-ভাতা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট করতে হবে। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট সময়ের বেতন-ভাতার হিসাব ও দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
iBAS++-এর সরকারি অনলাইন বেতন নির্ধারণী প্ল্যাটফর্মে কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের তথ্য দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয় দাখিল করা তথ্য যাচাই ও প্রতিপাদন করে।
কারা iBAS++-এ বেতন নির্ধারণ করতে পারবেন?
প্রচারিত নোটিশে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও প্রতিরক্ষা সার্ভিস ব্যতীত সরকারি কর্মচারীরা iBAS++ সিস্টেমে প্রবেশ করে নিজ নিজ বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—iBAS++-এর সরকারি অনলাইন বেতন নির্ধারণী পোর্টাল নিজেই সতর্ক করে দিয়েছে যে এই ব্যবস্থা সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য; ব্যাংক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
অনলাইনে বেতন নির্ধারণে কী কী তথ্য প্রয়োজন হতে পারে?
iBAS++-এর সরকারি নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র;
- মোবাইল ফোন নম্বর;
- বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত অফিস আদেশ;
- নিয়োগ, বদলি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড বা বেতন পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত আদেশ;
- প্রয়োজন অনুযায়ী এসব নথির PDF/JPEG কপি;
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ভেরিফিকেশন নম্বর;
- প্রয়োজন হলে প্রিন্টের ব্যবস্থা।
iBAS++ কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে সতর্ক করেছে, তাড়াহুড়ো করে ফরম পূরণ করলে ভুল হতে পারে এবং এতে পরবর্তী কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভুল তথ্য দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
অনলাইন বেতন নির্ধারণ শুধু একটি ফরম পূরণের বিষয় নয়; পরবর্তী সময়ে হিসাবরক্ষণ কার্যালয় দাখিল করা তথ্য যাচাই করবে। সরকারি iBAS++ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আদেশ সঠিকভাবে দাখিল করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বদলি, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড কিংবা বেতন পুনর্নির্ধারণের ইতিহাস থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া নিয়ে কী বলা হয়েছে?
প্রচারিত নোটিশে আরও বলা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী পে-ফিকেশনের পর জুলাই ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া আর্থিক সুবিধা সমন্বয়যোগ্য হবে।
অর্থাৎ, নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মাসগুলোর প্রাপ্যতার হিসাবও সমন্বয়ের আওতায় আসতে পারে। তবে বকেয়া ঠিক কোন মাসের বেতনের সঙ্গে, কীভাবে এবং কোন ধাপে দেওয়া হবে—তা সংশ্লিষ্ট সরকারি পরবর্তী নির্দেশনা, পে-ফিকেশন এবং বিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। শুধু প্রচারিত পোস্ট বা গ্রাফিক দেখে নির্দিষ্ট অর্থপ্রদানের তারিখ নিশ্চিত করা ঠিক হবে না।
iBAS++ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
iBAS++ বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থা। সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পরিচালিত হয়। বেতন বিল, GPF, ঋণ, আয়করসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্যের সঙ্গে এই ব্যবস্থা যুক্ত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি গেজেটেড কর্মকর্তা iBAS++-এর মাধ্যমে পে-বিল দাখিল করেন এবং EFT-এর মাধ্যমে বেতন পান; পাশাপাশি ১০ লাখের বেশি নন-গেজেটেড কর্মী EFT-এর মাধ্যমে বেতন পাচ্ছেন।
ফলে নতুন বেতন কাঠামোর পে-ফিকেশন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাবের ক্ষেত্রে iBAS++-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কর্মচারীদের জন্য করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন—
১. নিজের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।
২. NID, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশন তথ্য হাতের কাছে রাখুন।
৩. iBAS++-এ তথ্য দেওয়ার সময় বর্তমান ও পূর্ববর্তী বেতন-সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
৪. কোনো গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট বা চাকরির ইতিহাসের তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ/অফিস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা করুন।
৫. অনলাইনে ফরম পূরণের পর প্রয়োজনীয় প্রিন্ট ও ভেরিফিকেশন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
৬. বকেয়া পাওনা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অর্থ বিভাগ ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
প্রচারিত নোটিশে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বেতন-ভাতা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সাবমিট করার কথা বলা হয়েছে এবং পে-ফিকেশনের পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোকে বকেয়া অর্থ ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট তারিখে হাতে চলে আসবে—এমন নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পে-ফিকেশন, যাচাই, অনুমোদন, বিল প্রস্তুত এবং অর্থ ছাড়—প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই বাস্তব অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে অর্থ বিভাগের নোটিশ তালিকায় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশের তথ্য রয়েছে এবং iBAS++-এর সরকারি পোর্টালেও অনলাইন বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
সুতরাং, নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথির ভিত্তিতে অনলাইন বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন করা এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাই/প্রতিপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।



