জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না, এসএমএসেই জানবেন যেভাবে
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন কার্যক্রমে নিজের বিবরণী কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব সরকারি কর্মচারী নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++ পদ্ধতিতে তথ্য জমা দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন—পে-ফিকেশন কি সম্পন্ন হয়েছে, নাকি এখনো ডিডিও কিংবা হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে?
এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে আসা এসএমএস গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বেতন নির্ধারণী বিবরণী জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ডিডিওর মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো এবং চূড়ান্ত অনুমোদন—প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি বুঝতে সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলোর বিষয়বস্তু খেয়াল করা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: এসএমএসে কোনো ধাপ সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়া বা বকেয়া অর্থ হাতে পাওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রতিটি বার্তার অর্থ সঠিকভাবে বোঝা দরকার।
পে-ফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার ৩টি গুরুত্বপূর্ণ এসএমএস
প্রথম এসএমএস: ডিডিওর কাছে জমা
বার্তার নমুনা:
বেতন নির্ধারণী বিবরণী সফলভাবে ডিডিও-এর নিকট জমা হয়েছে।
এর অর্থ: কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী বিবরণী জমা হয়েছে। এটি জমাদানের ধাপ সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ, চূড়ান্ত অনুমোদনের নয়।
দ্বিতীয় এসএমএস: হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো
বার্তার নমুনা:
ডিডিও কর্তৃক হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরিত হয়েছে।
এর অর্থ: ডিডিওর পর্যায়ের কার্যক্রম শেষে বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়েছে। এখন সেটির যাচাই ও অনুমোদনের অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয় এসএমএস: হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন
বার্তার নমুনা:
হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
এর অর্থ: সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বেতন নির্ধারণী বিবরণী অনুমোদন করেছে। এই তিনটি বার্তার মধ্যে এটিই চূড়ান্ত অনুমোদন বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
অনলাইন পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ায় ডিডিওর যাচাই, হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন এবং অনুমোদনের পর ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরির বিষয়টি সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন এসএমএস পেলে আপনার করণীয় কী?
| এসএমএসের অবস্থা | কী বুঝবেন | করণীয় |
|---|---|---|
| প্রথমটি পেয়েছেন | বিবরণী ডিডিওর কাছে জমা হয়েছে | ডিডিওর পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করুন |
| দ্বিতীয়টি পেয়েছেন | বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়েছে | অনুমোদনের অগ্রগতি যাচাই করুন |
| তৃতীয়টি পেয়েছেন | বিবরণী অনুমোদিত হয়েছে | ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন যাচাই করুন |
| কোনো এসএমএস পাননি | অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না | সংশ্লিষ্ট অফিসে বা iBAS++-এ স্ট্যাটাস যাচাই করুন |
তৃতীয় এসএমএস পাওয়ার পরও যেসব বিষয় যাচাই করবেন
হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন পাওয়ার পরও কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
১. ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হয়েছে কি না: অনুমোদনের পর সিস্টেমে তৈরি হওয়া ভেরিফিকেশন নম্বর সংরক্ষণ করুন। এটি বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২. নির্ধারিত মূল বেতন সঠিক কি না: আপনার গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও প্রযোজ্য উচ্চতর গ্রেডের তথ্যের সঙ্গে নতুন নির্ধারিত মূল বেতন মিলিয়ে দেখুন।
৩. চাকরির নথিতে তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না: প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক বা সার্ভিস রেকর্ডে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।
৪. বেতন বিল ও বকেয়ার অবস্থা: পে-ফিকেশন অনুমোদিত হলেই বকেয়া টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না। বেতন বিল প্রস্তুত, বকেয়া হিসাব এবং অর্থ পরিশোধের অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
এসএমএস না এলে কী করবেন?
অনেক সময় কর্মচারীরা আবেদন জমা দেওয়ার পরও পরবর্তী এসএমএসের অপেক্ষায় থাকেন। এ অবস্থায় শুধু বার্তা না পাওয়ার কারণে পে-ফিকেশন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো:
iBAS++-এ প্রবেশ করে পে-ফিকেশন-সংক্রান্ত বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করা।
প্রথম এসএমএসের পর অগ্রগতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা।
দ্বিতীয় এসএমএস পাওয়ার পর অনুমোদনের অগ্রগতি জানতে হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
তথ্যের ভুল, চাকরির রেকর্ডে অসংগতি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া।
উল্লেখ্য, এসএমএসের সুনির্দিষ্ট ভাষা ও প্রেরণের সময় সিস্টেমের কার্যক্রম অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই বার্তার নমুনাকে হুবহু সরকারি বিজ্ঞপ্তি হিসেবে না ধরে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের স্ট্যাটাসের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নিজের পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা বুঝতে এসএমএসের ধারাবাহিকতা খেয়াল করুন। প্রথম বার্তা জমাদানের, দ্বিতীয় বার্তা ডিডিও থেকে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর এবং তৃতীয় বার্তা অনুমোদনের অগ্রগতি নির্দেশ করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনের এসএমএস পাওয়ার পর ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত মূল বেতন যাচাই করা। এরপর বেতন বিল এবং বকেয়া পরিশোধের অগ্রগতি আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এতে নিজের বেতন নির্ধারণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে এবং কোনো অসংগতি থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।


