আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

iBAS++-এ বেতন বিল দাখিল করা যাচ্ছে না, নতুন বেসিকে চলতি মাসের বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা!

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতি মাসের বেতন বিল দাখিল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সোমবারও সরকারি হিসাব ব্যবস্থাপনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম iBAS++-এ বেতন বিল দাখিল করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন বেসিকে চলতি মাসের বেতন পাওয়া যাবে কি না, নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

বেতন বিল দাখিলের জন্য ব্যবহৃত iBAS++-এর একাধিক মডিউলে ত্রুটিসংক্রান্ত বার্তা প্রদর্শিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনের সঙ্গে দেওয়া স্ক্রিনশটেও বেতন বিল দাখিলের সুবিধা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার বার্তা দেখা যাচ্ছে। তবে সমস্যাটি ঠিক কত দিন স্থায়ী হবে, কোন কোন দপ্তর বা কর্মচারী এর আওতায় পড়েছেন এবং কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বেতন পরিশোধের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কাজ চলছে বলে হিসাব কার্যালয় থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, iBAS++ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সমস্যার কারণ, সমাধানের সম্ভাব্য সময় কিংবা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিল দাখিলের সম্পর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

iBAS++-এ কী ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুত, দাখিল ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে iBAS++ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ব্যবস্থায় কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে বেতন বিল প্রস্তুত বা দাখিলের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

প্রাপ্ত স্ক্রিনশট দুটিতে দুটি পৃথক ত্রুটিবার্তা দেখা গেছে।

প্রথম স্ক্রিনশটে ‘ONLINE PAY BILL SUBMISSION’ পেজে প্রবেশ করে বেতন বিল দাখিলের চেষ্টা করলে নিচের বার্তাটি প্রদর্শিত হচ্ছে:

“Paybill submission feature is temporarily unavailable.”

এখানে ত্রুটির পরিচিতি নম্বর হিসেবে 3472A8BED68543BA দেখানো হয়েছে।

অন্য স্ক্রিনশটে ‘EMPLOYEE PAY BILL ENTRY’ পেজে প্রবেশের পর ডেটা লোড করতে ব্যর্থ হওয়ার বার্তা দেখা যাচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেতন বিল দাখিলের সুবিধা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ।

এই বার্তাগুলো থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে সিস্টেমের নির্দিষ্ট কার্যক্রম ব্যবহার করতে সমস্যা হয়েছে। তবে শুধু স্ক্রিনশট দেখে সমস্যাটির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এটি সার্ভারজনিত ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্যের সমন্বয়সংক্রান্ত জটিলতা, নাকি অন্য কোনো কারিগরি কারণে হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নতুন বেসিকে বেতন পাওয়া নিয়ে কেন এত উদ্বেগ?

চলতি মাসে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও বিল প্রস্তুতের বিষয়টি সরকারি কর্মচারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের কার্যক্রম নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা চলছে।

এমন পরিস্থিতিতে বেতন বিল দাখিল করতে না পারার খবর কর্মচারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মচারীদের আলোচনায় কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে—

  • চলতি মাসেই কি নতুন বেসিক অনুযায়ী বেতন পাওয়া যাবে?
  • বেতন বিল দাখিলের কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে?
  • বিল দাখিলে বিলম্ব হলে নির্ধারিত সময়ে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে কি?
  • নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণে কোনো অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে কি?
  • নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার পর আগের মাসগুলোর বকেয়া অর্থ থাকলে তা কীভাবে পরিশোধ করা হবে?

এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, বেতন নির্ধারণের প্রস্তুতি, বিল দাখিলের সময়সূচি এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ার ওপর।

বিশেষ করে মাসের শেষভাগে বেতন বিল দাখিলের কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ে। কারণ, অনেক পরিবারের মাসিক ব্যয়, ঋণের কিস্তি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ বেতনের ওপর নির্ভরশীল।

হিসাব কার্যালয় বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বেতন দেওয়ার কাজ চলছে

বেতন বিল দাখিলের জটিলতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হিসাব কার্যালয় থেকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে, বেতন পরিশোধের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বক্তব্য কর্মচারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও বেতন বিল দাখিলের সুবিধা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বিল দাখিলের ওয়েবসাইটে সাময়িক ত্রুটি দেখা দেওয়া এবং পুরো বেতন পরিশোধ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। বিল প্রস্তুত, দাখিল, যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ পরিশোধ—প্রতিটি ধাপের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে।

তাই একটি মডিউলে ত্রুটি দেখা দিলেই সব সরকারি কর্মচারীর বেতন আটকে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একইভাবে, নির্ধারিত সময়ে বেতন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেলেও বিল দাখিলের সমস্যা সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার তথ্য ছাড়া নির্দিষ্ট দিনে বেতন জমা পড়বে বলে নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।

iBAS++ কর্তৃপক্ষের নোটিশ না থাকায় বাড়ছে বিভ্রান্তি

বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো সমস্যার বিষয়ে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া।

বেতন বিল দাখিলের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সমস্যার কারণ, সম্ভাব্য সমাধানের সময় এবং করণীয় জানানো হলে কর্মচারী ও দপ্তরগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।

কিন্তু আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে কেউ দ্রুত বেতন পাওয়ার আশা করছেন, আবার কেউ নতুন বেসিকে বেতন পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।

এ পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—অনুমাননির্ভর তথ্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট হিসাব কার্যালয়, অর্থ বিভাগের নির্দেশনা এবং iBAS++-এর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করা।

তবে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সমস্যার সমাধানসংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট সরকারি নোটিশের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে নোটিশ প্রকাশিত হয়নি—এমন দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নতুন বেসিকে চলতি মাসেই বেতন পাওয়া সম্ভব কি?

এই মুহূর্তে কর্মচারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, চলতি মাসেই নতুন বেসিক অনুযায়ী বেতন পাওয়া যাবে কি না।

এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত উত্তর হচ্ছে, বেতন বিল দাখিলের বর্তমান সমস্যা এবং নতুন বেসিকে বেতন পাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু একটিকে অন্যটির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

নতুন বেসিকে বেতন পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা, কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হওয়া, সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্যের সঠিক সমন্বয় এবং বিল প্রস্তুত ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার ওপর।

যদি নতুন বেসিক অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং বিল দাখিলের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের সুযোগ থাকতে পারে। অন্যদিকে, কারিগরি সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে বা বেতন নির্ধারণ ও বিল অনুমোদনে বিলম্ব হলে সময়সূচিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে চলতি মাসে নতুন বেসিকে বেতন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত সময়সূচি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রথমত, বারবার বিল দাখিলের চেষ্টা করেও একই ত্রুটি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাব শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো উচিত।

দ্বিতীয়ত, স্ক্রিনশটে প্রদর্শিত ত্রুটির বার্তা ও পরিচিতি নম্বর সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। এতে কারিগরি সহায়তা নেওয়ার সময় সমস্যাটি শনাক্ত করতে সুবিধা হবে।

তৃতীয়ত, বেতন নির্ধারণ বা বিল দাখিলসংক্রান্ত তথ্যের কোনো অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা হিসাব কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, নতুন বেসিকে বেতন ও বকেয়া অর্থ পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

পঞ্চমত, iBAS++ কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব কার্যালয়ের নির্দেশনার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

দ্রুত সমাধান চান সরকারি কর্মচারীরা

সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা, iBAS++-এ বেতন বিল দাখিলের সমস্যাটি দ্রুত সমাধান হবে এবং নতুন বেসিকে বেতন পরিশোধের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিশেষ করে মাসিক বেতনকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মচারী আর্থিক পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বিল দাখিলের সমস্যা সাময়িক হলেও এর সমাধান হতে কত সময় লাগবে, তা জানা না থাকলে উদ্বেগ থেকেই যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রথমত, বেতন বিল দাখিলের সুবিধা স্বাভাবিক করা এবং দ্বিতীয়ত, চলতি মাসের বেতন পরিশোধের সময়সূচি ও নতুন বেসিক কার্যকরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো।

শেষ কথা

iBAS++-এ বেতন বিল দাখিলের সময় সাময়িক অনুপলব্ধতার বার্তা দেখা যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হিসাব কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন দেওয়ার কাজ চলার আশ্বাস পাওয়া গেলেও নতুন বেসিকে চলতি মাসের বেতন পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বেতন বিল দাখিলের সমস্যা কত দ্রুত সমাধান হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন বেসিকে বেতন পরিশোধের বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন বেসিকে বেতন পাওয়া বা বেতন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *