আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

অক্টোবরের বেতন বিল জমার সময়সূচি প্রকাশ: নতুন বেসিকে বেতন ও বকেয়া পরিশোধে কী বলা হয়েছে?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণী অনুমোদন, iBAS++-এ বেতন বিল দাখিল এবং আগের মাসগুলোর বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আলাদা সময়সূচি অনুসরণের বিষয়টি একটি বিজ্ঞপ্তির ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শিত সময়সূচি অনুযায়ী, হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের তারিখের ওপর নির্ভর করে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের বেতন বিল নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী দাখিলের সুযোগ তৈরি হতে পারে, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বেতন স্কেল অনুযায়ী বিল দাখিলের ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবিতে প্রদর্শিত সময়সূচির সত্যতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য জারি করা কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

বেতন বিল দাখিলে কেন আলাদা সময়সূচি?

নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদন, বেতন নির্ধারণীর কার্যকর তারিখ এবং বেতন বিল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার কারণে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী একই সময়ে নতুন বেসিকে বেতন নাও পেতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণীর অনুমোদন কখন সম্পন্ন হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হওয়া এবং সেই বেতন অনুযায়ী মাসিক বিল দাখিলের সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়।

ছবিতে অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের জন্য কয়েকটি পৃথক পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে। সেখানে ২৫ অক্টোবর, ২৬ থেকে ৩১ অক্টোবর, ১ থেকে ৫ নভেম্বর এবং ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রক্রিয়াধীন থাকা বেতন নির্ধারণীর বিষয়গুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১. ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী

প্রদর্শিত ছকের প্রথম পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত বেতন নির্ধারণীর ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর থেকে বেতন বিল দাখিল করা যাবে।

একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা কার্যকর থাকলে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময় থেকে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী অক্টোবরের বিল দাখিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিল দাখিলের সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে অর্থ ছাড় বা ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত হওয়া নয়।

২. ২৬ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী

ছবির দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে ২৬ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত বেতন নির্ধারণীর কথা বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প সময়সূচি উল্লেখ রয়েছে।

প্রথমত, জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বেতন বিল দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে বিল দাখিলের বিকল্প দেখানো হয়েছে।

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী জুলাই থেকে অক্টোবর অথবা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থ ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের কথা ছকে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, বেতন নির্ধারণীর অনুমোদনের তারিখের সঙ্গে নতুন বেতন স্কেলে বিল দাখিলের সময়সূচির সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে কোন বিকল্পটি কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

৩. ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী

তৃতীয় পরিস্থিতিতে ১ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত বেতন নির্ধারণীর কথা বলা হয়েছে।

ছবির তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুসারে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত বেতন বিল দাখিলের একটি বিকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ৬ নভেম্বর থেকে বিল দাখিলের বিকল্পও দেখানো হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সময়সীমা সংশ্লিষ্ট বিকল্পের ওপর নির্ভরশীল বলে ছকে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁদের বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের প্রকৃত তারিখ জানা। শুধু পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দিনে নতুন বেসিকে বিল দাখিল করা যাবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

৪. যাঁদের বেতন নির্ধারণী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত প্রক্রিয়াধীন থাকবে

ছবির চতুর্থ পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যেসব বেতন নির্ধারণী হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন থাকবে, সেসব ক্ষেত্রে অক্টোবর মাসের বেতন বিল জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী দাখিলের কথা উল্লেখ রয়েছে।

একই সঙ্গে জুলাই থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুরোনো বেতন স্কেলে বিল দাখিল করা হলে পরবর্তী সময়ে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া সমন্বয় কীভাবে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং ব্যক্তির অনুমোদিত বেতন নির্ধারণীর ওপর নির্ভর করবে।

সুতরাং, যাঁদের পে-ফিকেশন এখনো অনুমোদিত হয়নি বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা কীভাবে পাওয়া যেতে পারে?

প্রদর্শিত ছকে বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন।

প্রথমত, বকেয়া পাওয়ার যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী, কার্যকর তারিখ এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী বকেয়া নির্ধারণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বকেয়ার পরিমাণ: সবার বকেয়া সমান হবে না। পদ, গ্রেড, মূল বেতন, প্রাপ্য ভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং বেতন নির্ধারণীর ওপর নির্ভর করে হিসাবের পার্থক্য হতে পারে।

তৃতীয়ত, সমন্বয় প্রক্রিয়া: নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ এবং ইতিমধ্যে পরিশোধিত বেতনের মধ্যে পার্থক্য থাকলে বিধি ও অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসারে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

চতুর্থত, অর্থ ছাড়ের সময়: বকেয়া হিসাব করা, বিল প্রস্তুত করা, অনুমোদন পাওয়া এবং অর্থ ছাড়—এগুলো পৃথক ধাপ। ফলে কোনো ছকে বকেয়া সমন্বয়ের কথা উল্লেখ থাকলেই নির্দিষ্ট দিনে অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

iBAS++-এ বেতন বিল দাখিল করতে না পারলে করণীয়

নতুন বেতন স্কেলে পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার পরও কেউ যদি iBAS++-এ বেতন বিল দাখিল করতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে প্রথমেই সমস্যার প্রকৃতি শনাক্ত করা প্রয়োজন।

১. পে-ফিকেশন অনুমোদন যাচাই করুন: বেতন নির্ধারণী চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

২. কার্যকর তারিখ পরীক্ষা করুন: নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণীর কার্যকর তারিখ সঠিক আছে কি না, দেখুন।

৩. বেতন বিলের তথ্য মিলিয়ে নিন: পদ, গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও প্রযোজ্য ভাতার তথ্য অনুমোদিত বেতন নির্ধারণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

৪. DDO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন: বিল দাখিলের সময় কোনো ত্রুটি দেখালে সংশ্লিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO)-এর সহায়তা নিন।

৫. হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন: অনুমোদন, বিল দাখিল বা বকেয়া সমন্বয়ের বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করুন।

৬. অনুমোদন ছাড়া বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করবেন না: পুরোনো বেতন স্কেলে বিল দাখিল করা বা নতুন স্কেলে বিল প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

অক্টোবর মাসের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রথম কাজ হলো তাঁদের পে-ফিকেশনের বর্তমান অবস্থা জানা। বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হয়েছে, নাকি এখনো প্রক্রিয়াধীন—এই তথ্যের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করতে পারে।

যাঁদের পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদেরও নিশ্চিত হতে হবে যে অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী অনুযায়ী বেতন বিল প্রস্তুত করা যাচ্ছে কি না। আর যাঁদের বেতন নির্ধারণী এখনো অনুমোদিত হয়নি, তাঁদের সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত।

একই সঙ্গে বকেয়া বেতন-ভাতা সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে কোনো হিসাব করার আগে প্রযোজ্য বেতন স্কেল, কার্যকর তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

শেষ কথা

অক্টোবর ২০২৬ মাসের বেতন বিল দাখিল এবং নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বকেয়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত ছকটি কয়েকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। এতে বেতন নির্ধারণীর অনুমোদনের তারিখ অনুযায়ী বিল দাখিলের পৃথক সময়সীমা এবং বকেয়া পরিশোধ ও সমন্বয়ের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

তবে ছবিটি নিজে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে না। তাই বেতন বিল দাখিল, নতুন বেসিকে বেতন পাওয়া কিংবা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এবং iBAS++-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

আইবাস++ নোটিশ নতুন

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *