Arear Bill Calculator: ৯ম পে স্কেলের বকেয়া বেতন হিসাব হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, তৈরি করা যাবে বেতন বিল ও PDF
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন মূল বেতন নির্ধারণ, পর্যায়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি এবং মাসওয়ারি বকেয়া হিসাবের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটর। একই ব্যবস্থায় রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুত, কর্তন-আদায় হিসাব, প্রিন্ট এবং PDF তৈরির সুবিধা।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য বকেয়া হিসাব করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে পুরোনো মূল বেতন, নতুন বেতন স্কেলের ধাপ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং ইতোমধ্যে উত্তোলিত বেতনের সমন্বয় করে প্রকৃত বকেয়া নির্ধারণ করা অনেকের জন্য সময়সাপেক্ষ কাজ।
এই প্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে একটি সমন্বিত বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটর ও সরকারি বেতন বিল প্রস্তুতকরণ ব্যবস্থা। এতে প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ থেকে শুরু করে মাসভিত্তিক বকেয়া এবং সর্বমোট পাওনা হিসাবের বিবরণী পাওয়া যাবে।
শুধু বকেয়া হিসাব নয়, এই ব্যবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য টি.আর. ফরম-১৩ এবং কর্মচারীদের জন্য টি.আর. ফরম-১৫ প্রস্তুত করার পৃথক সুবিধাও রাখা হয়েছে।
বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরে যেসব সুবিধা থাকছে
ক্যালকুলেটরটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত বেতনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য বকেয়া হিসাব করা। এজন্য প্রথমেই ব্যবহারকারীকে নিজের পরিচিতি ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
পরিচিতি অংশে নাম, পদবি, অফিস এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
এখানে যেসব তথ্য প্রয়োজন হবে—
১. কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড।
২. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বর্তমান মূল বেতন।
৩. পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ।
৪. নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ।
৫. নতুন স্কেলে নির্ধারিত সমান অথবা পরবর্তী উচ্চতর ধাপ।
৬. ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট।
৭. ১ জুলাই ২০২৭ তারিখের সম্ভাব্য ইনক্রিমেন্ট।
ক্যালকুলেটরটির বিশেষত্ব হচ্ছে, গ্রেড ও বর্তমান মূল বেতন নির্বাচন করলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘরে প্রারম্ভিক ধাপ, নির্ধারিত ধাপ এবং ইনক্রিমেন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া ব্যবহারকারী চাইলে নিজের গ্রেডের নতুন বেতন স্কেলের ধাপগুলো আলাদাভাবে লিখেও নির্ধারিত ধাপ ও ইনক্রিমেন্ট বের করতে পারবেন।
নতুন মূল বেতন নির্ধারণের হিসাব কীভাবে হবে?
ক্যালকুলেটরটিতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাবপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রথমে বর্তমান মূল বেতন থেকে পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ বাদ দিয়ে পার্থক্য নির্ণয় করা হবে।
এরপর নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে ওই পার্থক্য যোগ করে নতুন বেতনের ভিত্তি নির্ধারণ করা হবে।
পরবর্তী ধাপে নতুন স্কেলে সমান ধাপ পাওয়া গেলে সেটি গ্রহণ করা হবে। সমান ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ নির্বাচন করা হবে।
এভাবে নির্ধারিত নতুন মূল বেতনের সঙ্গে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে পূর্ণ নতুন মূল বেতন হিসাব করা হবে।
অর্থাৎ হিসাবের মূল কাঠামোটি হচ্ছে—
- বর্তমান মূল বেতন − পুরোনো প্রারম্ভিক ধাপ = পার্থক্য।
- নতুন প্রারম্ভিক ধাপ + পার্থক্য = প্রাথমিক নতুন বেতন।
- সমান অথবা পরবর্তী উচ্চতর ধাপ নির্বাচন = নির্ধারিত নতুন বেতন।
- নির্ধারিত বেতন ও ইনক্রিমেন্ট সমন্বয় = পূর্ণ নতুন মূল বেতন।
ফলে ব্যবহারকারী নিজের তথ্য দিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণের প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে দেখতে পারবেন।
পর্যায়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া হিসাব
ক্যালকুলেটরটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে পর্যায়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হিসাব।
এতে অতিরিক্ত সেটিং থেকে প্রথম পর্যায়ে বেতন বৃদ্ধির অংশ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট বৃদ্ধির অংশ নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রস্তুতকৃত হিসাবের কাঠামো অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের নির্ধারিত শতাংশের ভিত্তিতে প্রাপ্য মূল বেতন হিসাব হবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথম পর্যায়ের তুলনায় অতিরিক্ত যে অংশ যুক্ত হবে, তা যোগ করা হবে।
ক্যালকুলেটরের প্রদর্শিত হিসাব অনুযায়ী—
- প্রথম পর্যায়: নির্ধারিত প্রথম ধাপের শতাংশ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি।
- দ্বিতীয় পর্যায়: প্রথম পর্যায়ের পর অবশিষ্ট বৃদ্ধির অংশ যুক্ত হবে।
- পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যায়: মোট নির্ধারিত নতুন মূল বেতন কার্যকর হিসেবে দেখানো হবে।
এখানে ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে দ্বিতীয় পর্যায়ের অবশিষ্ট অংশ যোগ করার এবং ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে পূর্ণ নতুন মূল বেতন দেখানোর হিসাবের কাঠামো রাখা হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এটি ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত হিসাবের মডেল। প্রকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন, কার্যকর তারিখ এবং অনুমোদিত বাস্তবায়ন পদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য ব্যবহার করতে হবে।
ইতোমধ্যে উত্তোলিত বেতন বাদ দিয়ে প্রকৃত বকেয়া নির্ধারণ
অনেক সরকারি কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ থেকে আগের স্কেলে বেতন উত্তোলন করে থাকেন। ফলে নতুন আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন এবং ইতোমধ্যে উত্তোলিত বেতনের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এই সমস্যার সমাধানে ক্যালকুলেটরে ‘যা তুলেছেন’ নামে আলাদা একটি অংশ রাখা হয়েছে।
এখানে ব্যবহারকারীকে দিতে হবে—
- গৃহীত মূল বেতন।
- গৃহীত বাড়িভাড়া ভাতা।
- গৃহীত বিশেষ সুবিধা।
- অন্যান্য মাসিক সমন্বয়।
ক্যালকুলেটরটি পুরোনো স্কেলের পরবর্তী ধাপ এবং ১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় গৃহীত মূল বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসানোর ব্যবস্থা রেখেছে।
একইভাবে গৃহীত মূল বেতনের নির্ধারিত শতকরা হার অনুযায়ী বাড়িভাড়া ও বিশেষ সুবিধার অঙ্কও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা যায়। তবে হাতে আলাদা অঙ্ক লিখলে সেটিও গ্রহণ করবে।
এখানে মূল হিসাবটি হবে—
প্রাপ্য বেতন ও ভাতা − ইতোমধ্যে গৃহীত বেতন ও ভাতা = মাসিক সমন্বয়যোগ্য বকেয়া।
এভাবে প্রতিটি মাসের জন্য আলাদা হিসাব তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে সব মাসের বকেয়া যোগ করে সর্বমোট পাওনার পরিমাণ দেখানো হবে।
মাসওয়ারি বকেয়া হিসাবের সুবিধা
বকেয়া বেতনের ক্ষেত্রে শুধু মোট টাকা জানাই যথেষ্ট নয়। কোন মাসে কত টাকা পাওনা হচ্ছে, সেটিও জানা জরুরি।
এজন্য ক্যালকুলেটরে বকেয়ার শুরুর মাস এবং মোট মাসের সংখ্যা নির্বাচন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়কাল নির্বাচন করলে প্রতিটি মাসের জন্য পৃথক বকেয়া হিসাব তৈরি হবে।
বিবরণীতে দেখা যাবে—
১. নতুন আদেশ অনুযায়ী প্রাপ্য মূল বেতন।
২. ইতোমধ্যে গৃহীত মূল বেতন।
৩. মূল বেতনের পার্থক্য।
৪. প্রাপ্য বাড়িভাড়া ও গৃহীত বাড়িভাড়ার পার্থক্য।
৫. বিশেষ সুবিধার প্রাপ্য ও গৃহীত অঙ্কের পার্থক্য।
৬. অন্যান্য মাসিক সমন্বয়।
৭. প্রতিমাসের সর্বমোট বকেয়া।
৮. নির্বাচিত সময়ের সর্বমোট বকেয়া।
ফলে কোনো নির্দিষ্ট মাসে বকেয়া বেশি বা কম হওয়ার কারণও বিশ্লেষণ করা সহজ হবে।
টি.আর. ফরম-১৩: সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিল প্রস্তুত
বকেয়া ক্যালকুলেটরের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিল প্রস্তুতের জন্য টি.আর. ফরম নম্বর ১৩ যুক্ত করা হয়েছে।
এই অংশটি মূলত গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিল প্রস্তুতের জন্য সাজানো হয়েছে।
এখানে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য, অফিসের তথ্য এবং বেতন-ভাতার বিভিন্ন খাতের হিসাব সংযুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।
কর্মকর্তার তথ্য হিসেবে দেওয়া যাবে—
- নাম ও পদবি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
- ভবিষ্য তহবিল হিসাব নম্বর।
- ডাক জীবনবিমা নম্বর।
- টিআইএন/ই-টিআইএন।
- বাহক, ব্যাংক বা এজেন্টের নাম।
- স্বাক্ষরের তারিখ।
অন্যদিকে বিলের সাধারণ তথ্যের মধ্যে থাকবে মাস, বছর, দপ্তরের নাম, প্রাতিষ্ঠানিক বা অপারেশন কোড, টোকেন নম্বর, টোকেনের তারিখ, ভাউচার নম্বর ও তারিখ।
এছাড়া বেতন ও ভাতার খাত অনুযায়ী টাকার অঙ্ক বসানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিটি কর্মকর্তার বিল আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা, নতুন কর্মকর্তা যুক্ত করা, আগের কর্মকর্তার তথ্য কপি করে নতুন বিল তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিল মুছে ফেলার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
সবশেষে মোট বেতন ও ভাতা, মোট আদায় এবং প্রদেয় বিলের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো হবে।
টি.আর. ফরম-১৫: সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল প্রস্তুতের জন্য পৃথকভাবে টি.আর. ফরম নম্বর ১৫ যুক্ত করা হয়েছে।
এই ফরমে কর্মচারীদের নাম, পদবি, বেতন, ভাতা এবং বিভিন্ন কর্তন ও আদায়ের হিসাব প্রস্তুতের কাঠামো রাখা হয়েছে।
ফরমটির মাধ্যমে নির্ধারিত বেতন বিলের বিভিন্ন অংশ পূরণ, হিসাব যাচাই এবং প্রিন্টের উপযোগী বিবরণী তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষ করে দপ্তরের কর্মচারীদের একাধিক বেতন বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে।
এখানে বেতন ও ভাতার পাশাপাশি কর্তন এবং আদায়ের পৃথক হিসাব রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
PDF ও প্রিন্ট করার সুবিধা
ক্যালকুলেটরে হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যবহারকারী চাইলে সম্পূর্ণ বকেয়া বিবরণী প্রিন্ট করতে পারবেন।
বকেয়া হিসাবের রিপোর্ট A4 কাগজের উপযোগী করে তৈরি করার ব্যবস্থা রয়েছে।
অন্যদিকে টি.আর. ফরম-১৩ ও ফরম-১৫-এর ক্ষেত্রে A4 আকারে ফরম প্রিভিউ এবং PDF তৈরির সুবিধা রাখা হয়েছে।
ফলে হিসাব প্রস্তুতের পর আলাদা করে কাগজে হাতে সব তথ্য সাজানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসতে পারে।
তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যাকআপের ব্যবস্থা
এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে তথ্য ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার।
ক্যালকুলেটরের তথ্য, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতন বিলের তথ্য একটি JSON ফাইলে ব্যাকআপ হিসেবে ডাউনলোড করা যাবে।
পরবর্তী সময়ে ব্রাউজারের তথ্য মুছে গেলে অথবা অন্য কম্পিউটারে কাজ চালিয়ে যেতে হলে সেই ব্যাকআপ ফাইল থেকে তথ্য ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ব্যাকআপ ফাইলে নাম, এনআইডি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে। তাই ফাইলটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। অপরিচিত কারও সঙ্গে এই ফাইল শেয়ার করা উচিত নয়।
হিসাব করার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
স্বয়ংক্রিয় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলেই সব ক্ষেত্রে হিসাব শতভাগ নির্ভুল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, যোগদানের তারিখ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণী আদেশের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা এবং পর্যায়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
ক্যালকুলেটরে অতিরিক্ত সেটিং থেকে বাড়িভাড়ার হার, বিশেষ সুবিধার হার, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের বেতন বৃদ্ধির শতাংশ পরিবর্তন করা যায়। বাড়িভাড়া কোন মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব হবে, সেটিও নির্বাচন করা সম্ভব।
সুতরাং ব্যবহারকারীদের উচিত নিজেদের প্রকৃত বেতন নির্ধারণী বিবরণী, সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন এবং বেতন বিলের তথ্যের সঙ্গে ক্যালকুলেটরের ফলাফল মিলিয়ে দেখা।
এটি একটি হিসাব সহায়ক সফটওয়্যার। সরকারি হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা বা আইবাস++-এর বিকল্প হিসেবে একে বিবেচনা করা যাবে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হচ্ছে সঠিকভাবে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ এবং পূর্ববর্তী সময়ের প্রাপ্য অর্থের হিসাব করা।
এক্ষেত্রে হাতে-কলমে হিসাব করতে গিয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে একাধিক পর্যায়ে বেতন বৃদ্ধি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং ইতোমধ্যে উত্তোলিত বেতনের সমন্বয় করতে গিয়ে হিসাব জটিল হয়ে যায়।
একটি সমন্বিত ক্যালকুলেটর এই কাজকে সহজ করতে পারে। একই জায়গায় বেতন নির্ধারণ, মাসওয়ারি বকেয়া, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বিল এবং PDF রিপোর্ট তৈরির ব্যবস্থা থাকায় এটি দাপ্তরিক হিসাব প্রস্তুতের জন্য সহায়ক হতে পারে।
সর্বোপরি, বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরটি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ ও সম্ভাব্য বকেয়া হিসাবের একটি সমন্বিত ডিজিটাল উদ্যোগ। তবে এর ফলাফল চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ, অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী শিট এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনার সঙ্গে অবশ্যই যাচাই করতে হবে।



