অবসর ও পিআরএল সুবিধা পেতে ৩ মাস আগেই আবেদন, ১০ ধরনের কাগজপত্র জমার নির্দেশ
সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে অবসরজনিত ছুটি (পিআরএল) ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির প্রক্রিয়া সহজ ও সময়মতো সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর, অবসরোত্তর ছুটি (PRL) এবং লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পিডিএস (PDS)-এ তথ্য হালনাগাদ করবেন, তাঁদের অবসরের তারিখের কমপক্ষে তিন মাস আগে অবসরসংক্রান্ত আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
অধিদপ্তরের এ নির্দেশনার ফলে অবসরের কাছাকাছি সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, ছুটির হিসাব প্রস্তুত এবং প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবসর ও পিআরএল আবেদনে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পিডিএস-এ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করবেন, তাঁদের অবসরের তারিখের তিন মাস আগে পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদন সরাসরি না পাঠিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অধিদপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রতিষ্ঠান বা অফিসের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, অবসর, অবসরোত্তর ছুটি এবং লাম্পগ্রান্টসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করা যাবে।
পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট পেতে যেসব ১০টি কাগজপত্র লাগবে
অফিস আদেশে অবসরসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
১. এসএসসি সনদ: শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি সনদের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।
২. ছুটির হিসাব: সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রস্তুত করা ছুটির হিসাবের মূল কপি জমা দিতে হবে।
৩. ইএলপিসি (ELPC): ইএলপিসির সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।
৪. সার্ভিস বুক: চাকরির যাবতীয় তথ্যসংবলিত সার্ভিস বুকের মূল কপি জমা দিতে হবে।
৫. না-দাবি প্রত্যয়নপত্র: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ইস্যু করা না-দাবি প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি দিতে হবে।
৬. বিভাগীয় মামলা নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা নেই—এ মর্মে প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে।
৭. অঙ্গীকারনামা: প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামার মূল কপি সংযুক্ত করতে হবে।
৮. অডিট আপত্তির প্রত্যয়নপত্র: অডিট আপত্তিসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি জমা দিতে হবে।
৯. চাকরি স্থায়ীকরণের কপি: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের আদেশের ফটোকপি দিতে হবে।
১০. জাতীয় পরিচয়পত্র: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
উল্লিখিত কাগজপত্রের মধ্যে কয়েকটি মূল কপি এবং কয়েকটি সত্যায়িত কপি বা ফটোকপি হিসেবে জমা দিতে হবে। তাই আবেদন করার আগে তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।
নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করলে পিআরএল মঞ্জুরিতে জটিলতা হতে পারে
অফিস আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা।
আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উল্লেখিত প্রত্যয়নপত্র, কাগজপত্র এবং পরিপূর্ণ তথ্য যথাসময়ে আবেদনের সঙ্গে পাঠাতে ব্যর্থ হলে পিআরএল বা অবসরোত্তর ছুটি মঞ্জুরিতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পিডিএস হালনাগাদপূর্বক আবেদন পাঠাতে ব্যর্থ হলে পিআরএল বা অবসরসংক্রান্ত ছুটি মঞ্জুরির বিলম্বের জন্য কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।
অর্থাৎ অবসরের সময় ঘনিয়ে আসার পর আবেদন করা কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ রাখা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
পিডিএস হালনাগাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় পার্সোনাল ডেটা শিট বা পিডিএস (PDS) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অবসরসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় পিডিএসের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে চাকরিতে যোগদানের তারিখ, জন্মতারিখ, চাকরি স্থায়ীকরণ, পদবি, চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই অবসরের সম্ভাব্য তারিখ সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিডিএসের তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
কাদের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য?
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের জারি করা অফিস আদেশটি মূলত অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর, পিআরএল এবং লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির আবেদনসংক্রান্ত।
তাই অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দপ্তরে কর্মরত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরের কাছাকাছি সময়ে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এ নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে যাঁদের অবসরের সম্ভাব্য তারিখ আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে, তাঁদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও পিডিএসের তথ্য যাচাই করা উচিত।
কোথায় যোগাযোগ করবেন?
অবসর, পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরিসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, কাগজপত্রের তালিকা কিংবা আবেদন প্রেরণ বিষয়ে প্রয়োজন হলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অফিস আদেশে এ-সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে: info@dgnm.gov.bd।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করণীয়
অবসরজনিত ছুটি ও লাম্পগ্রান্ট মঞ্জুরির ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
১. অবসরের সম্ভাব্য তারিখ আগেই নিশ্চিত করতে হবে।
২. অবসরের কমপক্ষে তিন মাস আগে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
৩. পিডিএসের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ রাখতে হবে।
৪. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছ থেকে ছুটির হিসাব সংগ্রহ করতে হবে।
৫. সার্ভিস বুকসহ প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
৬. চাকরি স্থায়ীকরণ, না-দাবি ও বিভাগীয় মামলা নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
৭. যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আবেদন অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
শেষ কথা
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পিআরএল ও লাম্পগ্রান্ট একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করার কারণে অনেক সময় এসব সুবিধা মঞ্জুরির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনায় অবসরের তিন মাস আগে আবেদন এবং প্রয়োজনীয় ১০ ধরনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে অধিদপ্তরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচিত অবসরের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।


