ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে, কী কী কাগজ প্রয়োজন? আবেদন, ফি, রিনিউ ও স্ট্যাটাস চেকের সম্পূর্ণ নিয়ম
আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা বিদেশে চাকরির জন্য পাসপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভ্রমণ নথি। বাংলাদেশে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে আবেদন, পাসপোর্ট নবায়ন এবং নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন—ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হয়, কোন কোন কাগজপত্র প্রয়োজন এবং পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা মেয়াদ শেষ হলে কী করতে হবে?
বিশেষ করে প্রথমবার পাসপোর্ট করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন করতে আগ্রহীদের জন্য এসব বিষয় জানা জরুরি। আবেদন প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুল, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে অসংগতি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
এ প্রতিবেদনে ই-পাসপোর্টের ধরন, আবেদন পদ্ধতি, ফি, অনলাইন পেমেন্ট, রিনিউ, বিদেশ থেকে আবেদন, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় এবং আবেদন স্ট্যাটাস যাচাইয়ের নিয়ম বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ই-পাসপোর্ট কী এবং এর মেয়াদ কত বছর?
ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো এমন একটি আধুনিক পাসপোর্ট, যাতে ইলেকট্রনিক চিপ সংযুক্ত থাকে। এই চিপে পাসপোর্টধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
বাংলাদেশে সাধারণভাবে দুই ধরনের মেয়াদে ই-পাসপোর্ট করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো—
৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট।
এ ছাড়া পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যার ভিত্তিতে রয়েছে ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট। আবেদনকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করতে পারেন।
ডেলিভারির ক্ষেত্রে সাধারণত তিন ধরনের সেবা রয়েছে:
রেগুলার ডেলিভারি।
এক্সপ্রেস ডেলিভারি।
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি।
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বয়স এবং আবেদনকারীর অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য:
জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID।
প্রয়োজনে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।
সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে অনাপত্তিপত্র (NOC) অথবা পেশার প্রমাণ।
আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্ট।
১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য:
অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।
বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের তথ্য।
সাধারণত ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট।
আবেদনের আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু করতে হয়। এজন্য সরকারি নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে।
সরকারি আবেদন পোর্টাল: epassport.gov.bd
আবেদনের ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো।
প্রথম ধাপ: ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও নিবন্ধন
প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর লগইন করে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন
আবেদনকারীকে ৪৮ অথবা ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ অথবা ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি রেগুলার, এক্সপ্রেস কিংবা সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির ধরন নির্ধারণ করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: আবেদন ফর্ম পূরণ
নাম, জন্মতারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, পেশা এবং বাবা-মায়ের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। কোনো তথ্য ভুল দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
চতুর্থ ধাপ: পাসপোর্ট ফি পরিশোধ
নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন
আবেদনকারীকে সুবিধাজনক পাসপোর্ট অফিস এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
নির্ধারিত তারিখে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ছবি, আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে।
সপ্তম ধাপ: যাচাই ও পাসপোর্ট সংগ্রহ
আবেদন যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হলে পাসপোর্ট প্রস্তুতের বিষয়ে এসএমএস বা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
২০২৬ সালে ই-পাসপোর্টের ফি কত?
ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়।
প্রদত্ত গাইডে উল্লেখিত বাংলাদেশে ভ্যাটসহ ফি অনুযায়ী তালিকাটি হলো:
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার | এক্সপ্রেস | সুপার এক্সপ্রেস |
|---|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | পোর্টালে যাচাই | ৮,৬২৫ টাকা | পোর্টালে যাচাই |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
উৎস: সরবরাহ করা ই-পাসপোর্ট গাইড। ফি ও সেবার শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে; আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে চূড়ান্ত পরিমাণ যাচাই করতে হবে।
ই-পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগে?
আবেদনের সময় ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাব্য সময় ভিন্ন হয়।
| ডেলিভারির ধরন | সম্ভাব্য সময় |
|---|---|
| রেগুলার | প্রায় ২১ কর্মদিবস |
| এক্সপ্রেস | প্রায় ১০ দিন |
| সুপার এক্সপ্রেস | প্রায় ২ দিন |
তবে আবেদন যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রযোজ্যতা, তথ্যের অসংগতি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের কারণে বাস্তবে সময় কমবেশি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
ই-পাসপোর্টের ফি অনলাইনে কীভাবে পরিশোধ করবেন?
অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হয়। প্রদত্ত গাইড অনুযায়ী সম্ভাব্য পেমেন্ট মাধ্যমগুলো হলো—
অনলাইন ব্যাংকিং বা কার্ড।
পোর্টালে সমর্থিত মোবাইল ব্যাংকিং।
নির্ধারিত ব্যাংকের শাখা।
ফি পরিশোধের পর অবশ্যই পেমেন্ট রসিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে। বায়োমেট্রিকের সময় এটি প্রয়োজন হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা হলো, কোনো দালাল কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া লিংকে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া উচিত নয়। কেবল সরকারি পোর্টালে নির্দেশিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
পুরোনো ই-পাসপোর্ট রিনিউ বা নবায়ন করার নিয়ম
যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে অথবা পৃষ্ঠাসংখ্যা শেষ হয়ে এসেছে, তাদের নতুন করে রি-ইস্যু বা নবায়নের আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশে পাসপোর্ট রিনিউ করার সাধারণ প্রক্রিয়া হলো—
1. সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
2. রি-ইস্যু বা রিনিউ অপশন নির্বাচন করতে হবে।
3. পুরোনো পাসপোর্টের নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
4. নতুন পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করতে হবে।
5. নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
6. অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পুরোনো পাসপোর্টের মূল কপিসহ পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হবে।
7. প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে পুরোনো পাসপোর্টটি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টে বৈধ ভিসা বা ভ্রমণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়া উচিত।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা কীভাবে ই-পাসপোর্ট নবায়ন করবেন?
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতে পারেন।
সাধারণ প্রক্রিয়া হলো—
সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
মূল পাসপোর্ট, ভিসা অথবা রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে মিশনে উপস্থিত হতে হবে।
প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে।
প্রদত্ত গাইডে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য বিদেশে পাসপোর্ট ফি হিসেবে নিচের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে:
| পাসপোর্টের ধরন | রেগুলার | জরুরি |
|---|---|---|
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ১০০ ডলার | ১৫০ ডলার |
| ৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ১২৫ ডলার | ১৭৫ ডলার |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর | ১৫০ ডলার | ২০০ ডলার |
| ৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর | ১৭৫ ডলার | ২২৫ ডলার |
তবে প্রবাসী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ফি আলাদা হতে পারে। এ ছাড়া দেশ ও দূতাবাসভেদে আবেদন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পার্থক্য রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট মিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ই-পাসপোর্ট আবেদনে যেসব বিষয় জানা প্রয়োজন
দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন করতে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়।
প্রদত্ত গাইডে ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মিশন নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন আবেদনের সময় বর্তমান ঠিকানার দেশ হিসেবে KOREA, REPUBLIC OF নির্বাচন করতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশের দিতে হবে।
আবেদনের সময় প্রয়োজন হতে পারে—
অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
বর্তমান পাসপোর্ট।
কোরিয়ান রেসিডেন্স কার্ডের উভয় পাশের রঙিন কপি।
জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা যাচাইকৃত জন্মনিবন্ধন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে Student ID অথবা Enrollment Certificate।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডির কপি এবং পুরোনো পাসপোর্টের কপি।
ব্যাংকে ফি জমার রসিদ।
গাইডে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মিশনে ফি জমার ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ATM রসিদ গ্রহণযোগ্য; অনলাইন পেমেন্ট গ্রহণ করা হয় না। ডাকযোগে পাসপোর্ট নিতে নির্দিষ্ট মাপের খাম, ডেলিভারি স্টিকার এবং Passport Delivery Form প্রয়োজন হতে পারে।
এগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার মিশনসংক্রান্ত নির্দেশনা; অন্য দেশের বাংলাদেশ মিশনে একই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবেন?
অনলাইনে আবেদন করার পর পাসপোর্ট কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আবেদনকারী সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন।
স্ট্যাটাস চেকের সাধারণ নিয়ম:
1. সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
2. আবেদন স্ট্যাটাস চেক করার অপশন নির্বাচন করুন।
3. Online Registration ID অথবা Application ID প্রদান করুন।
4. জন্মতারিখ লিখুন।
5. প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা দেখুন।
এভাবে আবেদন যাচাই, প্রিন্টিং এবং ডেলিভারিসংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে সাধারণত মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি।
এ ক্ষেত্রে করণীয়:
প্রথমে থানায় জিডি করুন: পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন করুন: সরকারি ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টসংক্রান্ত রি-ইস্যু আবেদন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন: জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন এবং পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি বা নম্বর থাকলে তা জমা দিতে হবে।
ফি ও যাচাই: সাধারণ ফির পাশাপাশি হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি বা বিশেষ যাচাই প্রযোজ্য হতে পারে।
বায়োমেট্রিক প্রদান: নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার পাশাপাশি দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার জন্য Emergency Travel Document (ETD) পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নতুন করে একেবারে প্রথমবারের মতো আবেদন করতে হবে, এমন নয়। পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়।
বিশেষজ্ঞ ভ্রমণ-পরিকল্পনায় সাধারণত পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অনেক দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রবেশের সময় পাসপোর্টে কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকার শর্ত আরোপ করে।
ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও ঝামেলামুক্ত রাখতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও আবেদন ফর্মের তথ্য মিলিয়ে নিন।
নামের বানান ও জন্মতারিখে ভুল করবেন না।
সঠিক বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করুন।
প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
পেমেন্ট রসিদ ও আবেদনপত্রের কপি সংরক্ষণ করুন।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ মেনে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হন।
দালাল বা অননুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন না করে নিজেই সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন।
শেষ কথা
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট আবেদন, নবায়ন এবং হারানো পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে আবেদন ফর্ম পূরণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিল রাখা, সঠিক ফি পরিশোধ এবং নির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মনে রাখতে হবে, পাসপোর্টের ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ডেলিভারির সময় এবং অন্যান্য নিয়ম সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ নির্দেশনা ও ফি যাচাই করতে হবে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন, ফি ও অন্যান্য তথ্যের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.epassport.gov.bd/


