iBAS++ Pay Fixation Login Online: পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটর যেভাবে কাজ করবে
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের (Pay Fixation) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি iBAS++-এর Pay Fixation Module-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে—iBAS++ Pay Fixation Login কীভাবে করতে হবে, পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করবে, কোন তথ্য দিতে হবে এবং নতুন বেসিক বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে?
সরকারি iBAS++ পোর্টালের লগইন পেজে বর্তমানে “Pay Fixation-2026 GoB Staff – Running (Without User ID)” এবং “Pay Fixation-2026 New Recruitment (All Grades)”—এ ধরনের অপশন দেখা যাচ্ছে।
iBAS++ পে ফিক্সেশন আসলে কী?
iBAS++ হচ্ছে সরকারের Integrated Budget and Accounting System। এটি একটি কেন্দ্রীয় ও ওয়েবভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বাজেট, হিসাব, অনলাইন বিল, পেমেন্ট, কর্মচারীর বেতন, GPF, পেনশনসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সরকারি কর্মচারীদের সার্ভিস-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও Pay Fixation-এর ব্যবস্থাও এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।
নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রে iBAS++-এর Pay Fixation Module-এর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে—একজন কর্মচারীর বর্তমান বেতন, গ্রেড, চাকরির ইতিহাস ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামোয় প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণ করা।
অর্থাৎ এটি সাধারণ কোনো ক্যালকুলেটরের মতো শুধু পুরোনো বেসিকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ যোগ করবে না। বরং কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড ও প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিধান মিলিয়ে ফলাফল তৈরি করবে।
প্রথম ধাপ: iBAS++ Pay Fixation Login
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত iBAS++ পোর্টালে প্রবেশ করলে Pay Fixation-2026 সংক্রান্ত অপশন পাওয়া যাচ্ছে।
অনলাইন প্রক্রিয়ায় কর্মচারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। iBAS++-এর অনলাইন কর্মচারী-সংশ্লিষ্ট লগইন ব্যবস্থায় NID, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং Verification Code/OTP ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
তাই পে ফিক্সেশনের আগে নিজের NID, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য হাতের কাছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় ধাপ: ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন কাঠামোয় পে ফিক্সেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারী যে মূল বেতন পেয়েছেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতেই নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণ করা হবে।
অতএব শুধু বর্তমান মাসের বেতন জানলেই হবে না। ৩০ জুন ২০২৬-এর Basic Pay সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন।
এখানেই পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটরের মূল হিসাব শুরু হবে।
তৃতীয় ধাপ: বর্তমান পদ ও গ্রেড যাচাই
কর্মচারীর—
- বর্তমান পদ
- বর্তমান গ্রেড
- কর্মস্থল
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ
- বর্তমান মূল বেতন
ইত্যাদি তথ্য প্রয়োজন হবে। এসব তথ্য নতুন বেতন নির্ধারণের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোনো কর্মচারীর পদ বা গ্রেড ভুল থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অনলাইনে তথ্য দেওয়ার আগে অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।
চতুর্থ ধাপ: আগের Pay Fixation-এর তথ্য
নতুন পে ফিক্সেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হচ্ছে পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ইতিহাস।
কারও চাকরিজীবনে যদি—
নিয়োগ → ইনক্রিমেন্ট → পদোন্নতি → উচ্চতর গ্রেড → টাইম স্কেল → সিলেকশন গ্রেড → বদলি/পদ পরিবর্তন
এর মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট তথ্য বেতন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মচারীদের আগের Pay Fixation-এর তথ্য যাচাই করতে হবে। পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য এবং অফিস আদেশ/নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তাহলে পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটর কীভাবে হিসাব করবে?
সহজ ভাষায় প্রক্রিয়াটি এভাবে বোঝা যায়—
৩০ জুন ২০২৬-এর Basic Pay
↓
বর্তমান Grade ও পদ
↓
চাকরিতে যোগদানের তথ্য
↓
ইনক্রিমেন্ট/পদোন্নতির ইতিহাস
↓
আগের Pay Fixation যাচাই
↓
Higher Grade/Time Scale/Selection Grade-এর তথ্য
↓
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর প্রযোজ্য বিধি
↓
নতুন Basic Pay নির্ধারণ
↓
বেতন পার্থক্য নির্ধারণ
↓
প্রযোজ্য সময় অনুযায়ী বকেয়া/এরিয়ার হিসাব
অর্থাৎ একটি ইনপুট ভুল হলে পুরো ফলাফল পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পে ফিক্সেশন মানেই কি শুধু নতুন Basic নির্ধারণ?
না।
নতুন Basic নির্ধারণের পর পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সময় এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিধান অনুযায়ী বেতন পার্থক্যের অর্থ হিসাব করা হবে।
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পূর্ণ নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
ফলে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীরও বকেয়া এক নাও হতে পারে। কারণ তাদের পুরোনো Basic, নতুন Basic এবং কার্যকর তারিখের পার্থক্য থাকতে পারে।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাওয়ার হিসাব
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বাসস জানিয়েছে, নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের বকেয়া অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সবার বকেয়া সমান হবে না। গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়ার পরিমাণ পরিবর্তিত হবে।
এ কারণে পে ফিক্সেশনের ফলাফল শুধু নতুন Basic জানার জন্য নয়; পরবর্তী বেতন ও বকেয়া হিসাবের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড আছে, তাদের সতর্কতা বেশি
একজন কর্মচারী যদি চাকরিজীবনে একাধিকবার পদোন্নতি পেয়ে থাকেন, তাহলে সর্বশেষ পদ ও গ্রেডের তথ্য দিলেই পুরো হিসাব শেষ হয়ে যায় না।
পূর্ববর্তী পদে কোন Basic-এ ছিলেন, কখন পদোন্নতি পেয়েছেন, পদোন্নতির সময় কীভাবে বেতন নির্ধারণ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কোনো উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন কি না—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই যাদের—
- পদোন্নতি হয়েছে,
- উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন,
- টাইম স্কেল পেয়েছেন,
- সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন,
- বদলি বা পদ পরিবর্তন হয়েছে,
তাদের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও পূর্ববর্তী Pay Fixation-এর কপি প্রস্তুত রাখা উচিত।
অফিসের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ
পে ফিক্সেশন পুরোপুরি কর্মচারীর ব্যক্তিগত অনলাইন কাজ হিসেবে দেখলে ভুল হবে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মরত জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য iBAS++ Pay Fixation Sub-System-এ অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রমও চলছে। ৪ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বেতন নির্ধারণী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানোর বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ক্ষেত্রেও অধীন দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের জনবলের তথ্য iBAS++ Pay Fixation Sub-System-এর Organogram Sub Module-এ এন্ট্রি করার উদ্যোগের খবর এসেছে।
অর্থাৎ কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি অফিসের Organogram, পদ, জনবল ও সার্ভিস রেকর্ডের তথ্যও সঠিক থাকা প্রয়োজন।
হিসাবরক্ষণ অফিসের ভূমিকা
পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন-সংক্রান্ত নির্দেশনায় গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী তথ্য যাচাই ও হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। iBAS++ থেকে বেতন নির্ধারণী বিবরণী প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় সার্ভিস রেকর্ডসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
এ কারণে অনলাইনে একটি ফলাফল দেখা গেলেই সেটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পে ফিক্সেশনের আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ প্রস্তুতি হলো—
১. NID নম্বর
২. জন্মতারিখ
৩. সচল মোবাইল নম্বর
৪. বর্তমান পদ ও গ্রেড
৫. চাকরিতে যোগদানের তারিখ
৬. ৩০ জুন ২০২৬-এর Basic Pay
৭. সর্বশেষ Pay Fixation-এর তথ্য
৮. সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের তথ্য
৯. পদোন্নতির আদেশ, যদি থাকে
১০. Higher Grade/Time Scale/Selection Grade-এর আদেশ, যদি থাকে
১১. বদলি বা পদ পরিবর্তনের আদেশ, যদি প্রযোজ্য হয়
১২. Service Book-এর সংশ্লিষ্ট তথ্য
এসব তথ্য আগে থেকেই মিলিয়ে রাখলে অনলাইন পে ফিক্সেশনের সময় ভুলের ঝুঁকি কমবে।
ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে পুরোনো Basic, গ্রেড, পদোন্নতির তারিখ বা পূর্ববর্তী ফিক্সেশনের তথ্য ভুল হলে নতুন Basic এবং পরবর্তী বকেয়া হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
তাই অনুমান করে কোনো তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে Service Book, অফিস আদেশ এবং পূর্ববর্তী Pay Fixation-এর সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য দেওয়া উচিত।
iBAS++ পে ফিক্সেশনকে সহজভাবে বুঝুন
পুরো প্রক্রিয়াটিকে যদি একটি সূত্রে প্রকাশ করা হয়, তাহলে তা দাঁড়ায়—
**কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ড
- ৩০ জুন ২০২৬-এর Basic
- বর্তমান পদ ও গ্রেড
- পূর্ববর্তী Pay Fixation
- পদোন্নতি/Higher Grade/Time Scale-এর তথ্য
- জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর বিধান
= নতুন Pay Fixation**
এরপর—
নতুন Basic − পুরোনো Basic = প্রযোজ্য বেতন পার্থক্য
এবং ওই পার্থক্য সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য প্রযোজ্য হারে হিসাব করে বকেয়া নির্ধারণ করা হবে।
শেষ কথা
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নে iBAS++-এর Pay Fixation Module এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাগুলোর একটি। ৫ অক্টোবর থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনই নিজেদের চাকরি ও বেতন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে রাখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পে ফিক্সেশন ক্যালকুলেটরকে শুধু একটি সাধারণ বেতন ক্যালকুলেটর হিসেবে দেখলে হবে না। এটি একজন কর্মচারীর পূর্ববর্তী বেতন ও চাকরির ইতিহাস, বর্তমান পদ-গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোর বিধানকে একসঙ্গে বিবেচনা করে নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ।
সরকারি iBAS++ পোর্টালে বর্তমানে Pay Fixation-2026-এর নির্দিষ্ট অপশন চালু রয়েছে। তবে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, পে ফিক্সেশনের আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো—৩০ জুন ২০২৬-এর Basic Pay, বর্তমান গ্রেড এবং পূর্ববর্তী সব Pay Fixation/পদোন্নতি/Higher Grade-এর তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া।


