New Pay Scale Chart 2026: পে স্কেল ২০২৬ ইনক্রিমেন্ট শিট দেখে নিন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কার্যকর হয়েছে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬। নতুন এই বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থ বিভাগের জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের বিষয়টি সরকারিভাবেও নিশ্চিত করা হয়।
নতুন পে স্কেলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে গ্রেডভিত্তিক নতুন বেসিক বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, ১ জুলাই ২০২৬-এর পে-ফিক্সেশন এবং ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের নিয়ম। ফলে একজন কর্মচারীর নতুন বেতন কত হবে—তা জানতে শুধু গ্রেড জানা যথেষ্ট নয়; ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তার মূল বেতন কত ছিল এবং পুরোনো স্কেলে তিনি কোন ধাপে ছিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন?
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬-এ ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক বেতন আগের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতনস্কেলের সারসংক্ষেপ হলো—
| গ্রেড | নতুন বেতনস্কেল ২০২৬ |
|---|---|
| ১ম | ১,৫৬,০০০ টাকা |
| ২য় | ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা |
| ৩য় | ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা |
| ৫ম | ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা |
| ৭ম | ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা |
| ৮ম | ৪৬,০০০–১,১০,৮০০ টাকা |
| ৯ম | ৪৪,০০০–১,০৫,৯০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা |
| ১১তম | ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা |
| ১২তম | ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা |
| ১৩তম | ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা |
| ১৫তম | ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা |
| ১৮তম | ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা |
| ১৯তম | ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা |
প্রকাশিত গেজেটভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী এসব গ্রেডে একাধিক ধাপ বা ইনক্রিমেন্ট স্টেপ রয়েছে।
৯ম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট শিট
নতুন বেতনস্কেলে ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৪,০০০ টাকা। এই গ্রেডে ধাপগুলো হলো—
৪৪,০০০ → ৪৬,২০০ → ৪৮,৬০০ → ৫১,০০০ → ৫৩,৫০০ → ৫৬,২০০ → ৫৯,০০০ → ৬২,০০০ → ৬৫,১০০ → ৬৮,৩০০ → ৭১,৭০০ → ৭৫,৩০০ → ৭৯,১০০ → ৮৩,০০০ → ৮৭,২০০ → ৯১,৫০০ → ৯৬,১০০ → ১,০০,৯০০ → ১,০৫,৯০০ টাকা।
অর্থাৎ ৯ম গ্রেডে একজন কর্মচারীর মূল বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বশেষ ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে।
একইভাবে ১০ম গ্রেডের বেতন ধাপ শুরু হয়েছে ৩২ হাজার টাকা থেকে এবং শেষ ধাপ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে শেষ ধাপ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।
১৬তম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট শিট
১৬তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২১,৯০০ টাকা। গেজেটভিত্তিক ধাপ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি পাবে—
২১,৯০০ → ২৩,০০০ → ২৪,২০০ → ২৫,৪০০ → ২৬,৭০০ → ২৮,০০০ → ২৯,৪০০ → ৩০,৯০০ → ৩২,৪০০ → ৩৪,০০০ → ৩৫,৭০০ → ৩৭,৫০০ → ৩৯,৪০০ → ৪১,৩০০ → ৪৩,৪০০ → ৪৫,৬০০ → ৪৭,৯০০ → ৫০,২০০ → ৫২,৯০০ টাকা।
ফলে ১৬তম গ্রেডের সর্বশেষ ধাপে মূল বেতন দাঁড়ায় ৫২,৯০০ টাকা।
২০তম গ্রেডে বেতন কত?
নতুন পে স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ২০তম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি। পুরোনো স্কেলে যেখানে প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা, নতুন স্কেলে তা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বশেষ ধাপে এই গ্রেডের মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।
অর্থাৎ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হবে ১ জুলাই
নতুন বেতনস্কেল-২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ। গেজেট অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোয়ালিফাইং সার্ভিস পূরণ করতে হবে। গেজেটের বিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ছয় মাসের যোগ্য চাকরির মেয়াদ থাকলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্ট কীভাবে বিবেচনা হবে?
নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গেজেটের বিধান অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের পর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬-এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এ কারণে পে-ফিক্সেশনের সময় শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ধরে হিসাব করলেই হবে না। কর্মচারীর পুরোনো স্কেলের বর্তমান ধাপ, নতুন স্কেলের সমপর্যায়ের ধাপ এবং ১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্ট—সবকিছু মিলিয়ে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
পে-ফিক্সেশনে কেন ইনক্রিমেন্ট শিট গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন পে স্কেলে পে-ফিক্সেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতনে সঠিকভাবে স্থানান্তর।
উদাহরণ হিসেবে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে নতুন স্কেলের ধাপ ৪৪,০০০, ৪৬,২০০, ৪৮,৬০০, ৫১,০০০ টাকা ইত্যাদি। কোনো কর্মচারীর পুরোনো বেতন থেকে হিসাব করে সরাসরি নতুন স্কেলের একটি নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে মিল না হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।
এরপর প্রযোজ্য ১ জুলাইয়ের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে চূড়ান্ত মূল বেতন নির্ধারিত হতে পারে। এ কারণেই New Pay Scale Chart 2026 এবং Increment Sheet একসঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকার পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে নতুন বেতন বাস্তবায়ন
গেজেট ও সরকারি ঘোষণার আলোকে নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও পুরো বেতন একবারে কার্যকর হচ্ছে না। মূল বেতন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। বিভিন্ন গ্রেডের ক্ষেত্রে ধাপের হার আলাদা রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২০২৬ সালের প্রথম পর্যায়ে নতুন স্কেলের পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে বাকি অংশ পরবর্তী ধাপে যুক্ত হওয়ার ফলে কর্মচারীর চূড়ান্ত বেতন ধীরে ধীরে নতুন স্কেলের পূর্ণ ধাপে পৌঁছাবে।
বকেয়া বেতনও গুরুত্বপূর্ণ
যেহেতু নতুন পে স্কেলের কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হয়েছে এবং গেজেট প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে, তাই জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং গেজেট প্রকাশের কারণে ওই সময়ের প্রাপ্য বকেয়া বা এরিয়ার হিসাব করতে হবে।
তবে কর্মচারীর হাতে প্রকৃত বকেয়া কত আসবে, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন, নতুন ফিক্সেশন, ধাপে কার্যকর হওয়া বেতন এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রযোজ্য ভাতার ওপর।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও রয়েছে বিশেষ নিয়ম
১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের জন্য গেজেটে পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পদের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ থেকে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
তবে নির্দিষ্ট উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বিশেষ পেশাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছু পদে অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ৯ম গ্রেড বা তার ওপরে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধান বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পে ফিক্সেশনের সময় যে তথ্যগুলো হাতে রাখবেন
নতুন বেতনস্কেলে নিজের বেতন নির্ধারণ করতে কর্মচারীদের কয়েকটি তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি—
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন।
- পুরোনো পে স্কেলের গ্রেড ও ধাপ।
- ১ জুলাই ২০২৬-এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্যতা।
- নতুন পে স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেড।
- নতুন স্কেলের সমপর্যায়ের ধাপ।
- পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে তার তারিখ।
- টাইম স্কেল/উচ্চতর স্কেল/সিলেকশন গ্রেডের প্রভাব।
- নতুন পে স্কেলে প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিধান।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের শতাংশ।
- প্রাপ্য বকেয়া ও পরবর্তী মাসের বেতন।
শেষ কথা
New Pay Scale Chart 2026 শুধু নতুন বেতনের একটি তালিকা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পে-ফিক্সেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বকেয়া বেতন এবং ভবিষ্যৎ বেতন বৃদ্ধির হিসাব।
বিশেষ করে ৯ম, ১০ম, ১১তম, ১৬তম ও ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন ইনক্রিমেন্ট শিট দেখে নিজেদের বেতন কোন ধাপে পড়ছে তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই গ্রেডে কর্মরত হলেও ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ভিন্ন মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্ট ধাপ থাকার কারণে নতুন পে-ফিক্সেশনের ফলও ভিন্ন হতে পারে।

অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এবং ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন হিসাবের পরিবর্তে গেজেটের বিধান অনুসরণ করেই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করা উচিত।


