সরকারি কর্মচারীদের বীমা সুবিধা চালু করতে মূল বেতনের ০.৭০% প্রতিমাসে কর্তন করা হবে-চাইলে বেশি প্রিমিয়াম স্কীমেও এনরোল করা যাবে – সরকারি কর্মচারী বীমা সেবা ২০২৩

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের আওতায় বীমা চালু হবে? হ্যাঁ। বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড আইন পর্যাপ্ত কিনা তা যাচাই করে দেখা যায়, আইনের ৩২ ধারায় বলা আছে যে, “সরকার সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে”। বীমা সুবিধা প্রদান করা এ আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অত্র আইনের ৬ (থ) ধারার নির্দেশনামতে বীমা কোম্পানি করার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক একটি বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হলে তাতে আইনের কোন ব্যত্যয় হয়না। অন্যদিকে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হলে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিকট থেকে অন্যান্য বীমা কোম্পানি হতে অপেক্ষাকৃত কম প্রিমিয়াম আদায় করে বেশী সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে।

কোন বীমা কোম্পানির সাথে চুক্তি হবে? অধিকিন্তু বীমা হতে লাভের অংশ সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অন্যান্য কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মচারিদের জন্য পৃথক বীমা চালু রয়েছে। তাছাড়া আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে “আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড” নামে একটি বীমা রয়েছে। এ বীমা কোম্পানিতে স্বাস্থ্য বীমা সহ অন্যান্য বীমা পলিসি রয়েছে। উক্ত কোম্পানি সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠান যা, ২০২০ সাল হতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কখন এর কার্যক্রম শুরু হয়? বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড এর মহাপরিচালক সভাকে অবহিত করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টার নির্দেশনার ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA) সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি যৌথবীমার প্রস্তাব তৈরি করে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট Thematic Group এ আলোচিত হয় এবং এ প্রস্তাবের উপর Thematic Group এর মতামতসহ ১২/০১/২০১৬ তারিখ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে 27/01/201৬ তারিখ এ বিষয়ে কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মতামত চাওয়া হলে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক মতামত প্রস্তুত করে ০৫/০৪/২০১৬ তারিখ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তা /কর্মচারীদের বীমার আওতায় আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে / মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা ও যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করবে।

২০১৮ সালে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মচারীরা ক্যানসারসহ নানা মরণঘাতি রোগের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সর্বস্ব হারায়, অনেক সময় বিভিন্ন সংস্থার দ্বারস্থ হতে হয়। স্বাস্থ্যবীমা চালু হলে পরিবারগুলো এ থেকে পরিত্রাণ পাবে।

স্বতন্ত্র বীমা কোম্পানি গঠন নীতিমালা ডাউনলোড

সরকারি কর্মচারী বীমা ২০২৩ । বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক বীমা কোম্পানি করা হলে যে সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবে

  1. সরকারের উপর সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সংশ্লিষ্ট আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে;
  2. সরকারি কর্মচারিগণ সুপরিকল্পিত স্বাস্থ্য সেবা পাবে;
  3. সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের জনগনের একটি অংশ বীমা সেবা পাবে যা সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে;
  4. স্বাস্থ্য ভাতা বীমার প্রিমিয়ামে পরিণত হবে ফলে তা বিনিয়োগে রুপান্তরিত হবে;
  5. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে কেননা সামর্থবান সরকারি কর্মচারিদের বিদেশে চিকিৎসা গ্রহনের মানসিকতা হ্রাস পাবে;
  6. ঝুঁকি সকলের মধ্যে বন্টন হবে এবং অপেক্ষাকৃত কম সমর্থবান সরকারি কর্মচারির টিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের ঢাপ হ্রাস পাবে

বীমার বিষয়টি কি চূড়ান্ত হয়েছে?

না। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় এটি পর্যালোচনা করে দেখাবে। মন্ত্রণালয় এটি বীমা চালু করার লক্ষ্যে  উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহের উপর বিস্তারিত পর্যালোচনা  করবে তা হলো সেবা গ্রহিতাদের কয়টি এবং কি কি ক্যাটাগরি থাকবে।ক্যাটাগরি অনুযায়ি প্রিমিয়াম কত হবে। নুন্যতম কত বছর প্রিমিয়াম প্রদান করতে হবে। সরকারের কন্ট্রিবিউশন কত হবে। সরকারি কর্মচারিদের পরিবারের কোন কোন সদস্য এই সেবার আওতায় থাকবে।  কোন কোন রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। কোন কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার / ক্লিনিক / হাসপাতালে সেবা পাওয়া যাবে। বিদেশে যা নিজস্ব পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার / ক্লিনিক / ঘাসপাতালে সেবা গ্রহনের ক্ষেত্রে কতটা আর্থিক সহায়তা পাবে। সরকারি কর্মচারিদের এই বীমার আওতায় আসাটা বাধ্যতামূলক নাকি ঐচ্ছিক। বোর্ডের নিজস্ব বা সরকার বা উন্নয়ন সহযোগীসের অর্থায়নে এই কাজটি সম্পন্ন করা যেতে পারে। স্বীমা কোম্পানি গঠনে আনুমানিক ৩ বছর সময় লাগতে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3003 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *