চিকিৎসা । আর্থিক সহায়তা

সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের টাকা পেতে কত দেরি? ডায়েরি নম্বর পাওয়ার পর করণীয় ও আবেদনের নিয়মাবলী

সরকারি খাত থেকে সাধারণ চিকিৎসা অনুদানের জন্য ডায়রি বা ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার পরও টাকা হাতে পেতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে জুন বা জুলাইয়ের দিকে নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ এবং দাপ্তরিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কারণে কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

নিচে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:

চিকিৎসা অনুদানের টাকা পেতে কেন দীর্ঘসূত্রতা এবং করণীয়?

সমাজসেবা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করার পর ডায়রি নম্বর পাওয়া মানে আপনার আবেদনটি প্রাথমিক পর্যায়ে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এরপরেও বেশ কিছু ধাপ পার হতে হয়:

  • অনলাইন ও দাপ্তরিক যাচাই-বাছাই: ডায়রি নম্বর পাওয়ার পর অনলাইন পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে দেখতে হবে আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে কিনা। যদি আবেদন অনুমোদিত হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি ফান্ড বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট বা বরাদ্দ আসার ওপর ভিত্তি করে এই অনুদানের অর্থ ছাড় করা হয়। ফলে অনুমোদন পাওয়ার পরও টাকা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে আরও অন্তত ১ থেকে ২ মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।

  • বাজেট বরাদ্দ: প্রতি বছরের মাঝামা সময়ে (যেমন জুন-জুলাইয়ে) নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় বাজেট বরাদ্দের একটি প্রক্রিয়া থাকে। তাই জুনে আবেদন জমা পড়লে সাধারণত জুলাই বা পরবর্তী মাসগুলোতে তা অনুমোদনের পর্যায়ে যায়।

  • যোগাযোগ: যদি নির্ধারিত সময়ের পরেও স্ট্যাটাস আপডেট না পাওয়া যায় বা দীর্ঘদিন ধরে আবেদন ঝুলে থাকে, তবে স্থানীয় উপজেলা বা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা শ্রেয়।

সাধারণ চিকিৎসা অনুদানে আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার सिरোসিস, স্ট্রোক, হৃদরোগ কিংবা অন্যান্য জটিল ও সাধারণ চিকিৎসা সহায়তার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে:

১. কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?

  • নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক আবেদন।

  • সরকারি বা নিবন্ধিত হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত প্রেসক্রিপশন বা রোগের রিপোর্ট।

  • রোগী এবং নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যাयিত ফটোকপি।

  • অনুদানের টাকা সরাসরি পাঠানোর জন্য অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যদি প্রযোজ্য হয়) বিবরণী।

  • অসচ্ছলতা বা দারিদ্র্যের প্রমাণস্বরূপ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির (ইউপি চেয়ারম্যান/মেয়র/কাউন্সিলর) প্রত্যয়নপত্র।

২. আবেদন প্রক্রিয়া যেভাবে সম্পন্ন করবেন:

  • অনলাইন বা অফলাইন আবেদন: সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা নির্ধারিত পোর্টালে (যেমন- মাইগভ বা সমাজসেবার নিজস্ব লিংক) গিয়ে চিকিৎসাজনিত আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে হবে। এছাড়া প্রিন্ট করা ফরম পূরণ করেও সরাসরি জমা দেওয়া যায়।

  • ফরম জমা প্রদান: সংগৃহীত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পূরণকৃত ফরমটি নিজ এলাকার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

  • চূড়ান্ত অনুমোদন: জমাকৃত আবেদন স্থানীয় কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অনুমোদিত হলে সরাসরি রোগীর ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ পাঠানো হয়।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *