পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে পরিবার না থাকলে গ্র্যাচুইটির টাকা কে পাবেন? যা বলছে ১৯৫৯ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারক

সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির অর্থ কে পাবেন—এ প্রশ্নটি প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে যদি মৃত কর্মচারীর স্ত্রী, স্বামী, সন্তান বা নিকটাত্মীয় কেউ না থাকেন, তাহলে গ্র্যাচুইটির অর্থ কী হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটির অর্থ বণ্টনের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৯৫৯ সালের ২৫৬৬ নম্বর স্মারকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে ধাপে ধাপে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি না থাকলেই সরাসরি অন্য কারও কাছে অর্থ চলে যায় না; বরং নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও নির্ভরশীলতার ক্রম অনুসরণ করা হয়।

ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয় গ্র্যাচুইটির প্রাপ্যতা

বিধান অনুযায়ী, প্রথমে দেখা হয় মৃত সরকারি কর্মচারীর এমন কোনো নিকটাত্মীয় রয়েছেন কি না, যারা গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য। সাধারণভাবে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন—

  • স্বামী বা স্ত্রী;
  • ২৫ বছরের কম বয়সী পুত্র সন্তান;
  • অবিবাহিত কন্যা সন্তান;
  • ১৮ বছরের কম বয়সী সহোদর ভাই;
  • অবিবাহিত বা বিধবা সহোদর বোন;
  • বাবা ও মা;
  • বিধি অনুযায়ী স্বীকৃত অন্যান্য নির্ভরশীল আত্মীয়।

যদি এ ধরনের যোগ্য ব্যক্তি থেকে থাকেন, তাহলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাঁরাই গ্র্যাচুইটির অর্থ পাওয়ার অধিকারী হন।

নিকটাত্মীয় না থাকলে কারা পাবেন?

যদি মৃত সরকারি কর্মচারী উপরোক্ত কোনো যোগ্য নিকটাত্মীয় রেখে না যান, তাহলে গ্র্যাচুইটির অর্থ আটকে থাকে না।

এ অবস্থায় গ্র্যাচুইটির অর্থ বয়স নির্বিশেষে জীবিত সহোদর ভাই ও বোনদের মধ্যে সমান হারে বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ ভাই বা বোনের বয়স বেশি বা কম হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া—এটি এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়; সবাই সমান অংশীদার হন।

কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারীই না থাকলে কী হবে?

অন্যদিকে, যদি মৃত সরকারি কর্মচারী এমন কাউকেও রেখে না যান, যাকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যোগ্য উত্তরাধিকারী বা নির্ভরশীল আত্মীয় হিসেবে গণ্য করা যায়, তাহলে তাঁর নামে কোনো গ্র্যাচুইটি প্রদান করা হয় না।

অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে গ্র্যাচুইটির অর্থ কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীয় বা অন্য ব্যক্তির কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তর করা হয় না।

কেন জানা জরুরি?

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গ্র্যাচুইটি। কিন্তু অনেক কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না, মৃত্যুর পর কারা এ অর্থ পাওয়ার অধিকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের উচিত তাঁদের পারিবারিক তথ্য ও মনোনয়ন (যেখানে প্রযোজ্য) যথাসময়ে হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

উপসংহার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৯৫৯ সালের ২৫৬৬ নম্বর স্মারক অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর পর গ্র্যাচুইটির অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত উত্তরাধিকার ক্রম অনুসরণ করা হয়। প্রথমে যোগ্য নিকটাত্মীয়দের বিবেচনা করা হয়। তাঁরা না থাকলে সমান ভাগে সহোদর ভাই-বোনদের মধ্যে অর্থ বণ্টন করা হয়। আর যদি বিধি অনুযায়ী কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী বা নির্ভরশীল আত্মীয়ই না থাকে, তাহলে গ্র্যাচুইটির অর্থ প্রদান করা হয় না।

বি:দ্র: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সরকারি চাকরিজীবীর নাতি-নাতনিরা গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক এবং পারিবারিক পেনশন সুবিধা পেতে পারে। মৃত সরকারি কর্মচারীর যদি কোনো জীবিত স্বামী/স্ত্রী বা উপযুক্ত সন্তান না থাকে, তবে মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা এই সুবিধার অধিকারী হন।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *