সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন: ৫ বছর চাকরিতেই মিলবে আজীবন সুবিধা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধাদি ও পেনশনের হার পুনর্নির্ধারণ করে একটি যুগান্তকারী প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গত ১৪ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে জারিকৃত এই আদেশে পেনশনের হার বৃদ্ধি এবং যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের পরিবারের জন্য এই প্রজ্ঞাপন একটি বড় ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
৫ বছর চাকরিতেই মিলবে পেনশন সুবিধা নতুন এই প্রজ্ঞাপনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পেনশনের ন্যূনতম সময়সীমা কমিয়ে আনা। আগে যেখানে পেনশনযোগ্য চাকুরিকাল দীর্ঘ ছিল, সেখানে এখন থেকে কোনো সরকারি কর্মচারী চাকুরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা স্থায়ীভাবে শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার শিকার হলে মাত্র ৫ বছর চাকুরি পূর্ণ করলেই তিনি বা তাঁর পরিবার পেনশন সুবিধা পাবেন।
পেনশনের হার বৃদ্ধি: ৮০% থেকে ৯০% এ উন্নীত সরকার পেনশনের সর্বোচ্চ হার বৃদ্ধি করে সর্বশেষ আহরিত বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করেছে। এর ফলে অবসর গ্রহণের পর একজন কর্মচারী আগের চেয়ে বেশি মাসিক পেনশন ও এককালীন গ্র্যাচুইটি সুবিধা পাবেন।
পেনশন টেবিল (একনজরে পুনর্নির্ধারিত হার): * ৫ বছর চাকুরি: ২১% (নতুন অন্তর্ভুক্ত)
১০ বছর চাকুরি: ৩৬%
১৫ বছর চাকুরি: ৫৪%
২০ বছর চাকুরি: ৭২%
২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব: ৯০%
পারিবারিক আর্থিক সুরক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রজ্ঞাপনের ফলে চাকুরির শুরুতেই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হওয়া কর্মচারীদের পরিবার আর অনিশ্চয়তায় পড়বে না। ৫ বছর চাকুরি পূর্ণ হওয়া মানেই একটি নিশ্চিত মাসিক আয়ের পথ তৈরি হওয়া। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য যে, ৫ থেকে ২৪ বছর চাকুরিকালের এই বিশেষ পেনশন সুবিধা মূলত মৃত্যুবরণকারী বা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়া কর্মচারীদের জন্য কার্যকর হবে। সাধারণ অবসরের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মাবলী অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করা হবে। ১৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখ থেকেই এই নতুন হার ও নিয়মাবলী কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।



