জিপিএফ কর্তন ৫% থেকে ২৫% : জুনে নাকি জুলাইয়ে বাড়ানো ভালো? কী বলছেন অভিজ্ঞরা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) কর্তনের হার পরিবর্তন নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে অনেক কর্মচারী ও কর্মকর্তা বেসিক বেতনের ৫ শতাংশ হারে জিপিএফে জমা দিচ্ছেন। নতুন অর্থবছর ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টকে সামনে রেখে অনেকেই এই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করতে চান। তবে প্রশ্ন উঠছে—জুন মাসের বেতন থেকেই পরিবর্তন করা উচিত, নাকি জুলাই মাসে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার পর?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন আলোচনায় এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত উঠে এসেছে।
জুনেও করা যায়, জুলাইয়েও করা যায়
অভিজ্ঞ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতে, জিপিএফ কর্তনের হার পরিবর্তনের সুযোগ জুন এবং জুলাই—উভয় সময়েই রয়েছে। যে মাসে কর্তনের হার পরিবর্তন করা হবে, তার পরবর্তী মাসে সংশোধিত হারে অর্থ জিপিএফ হিসাবে জমা হবে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুন মাসে পরিবর্তন করলে জুন মাসের বেসিক বেতনের ওপর নতুন হার অনুযায়ী কর্তন হবে, যা জুলাই মাসে জিপিএফ হিসাবে জমা হবে। আবার জুলাই মাসে পরিবর্তন করলে জুলাই মাসের বর্ধিত (ইনক্রিমেন্ট-পরবর্তী) বেসিকের ওপর নতুন হার কার্যকর হবে।
ইনক্রিমেন্টের পর পরিবর্তন করলে কী সুবিধা?
অনেকের মতে, জুলাই মাসে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ার পর বেসিক বেতন বৃদ্ধি পায়। ফলে তখন ২৫ শতাংশ জিপিএফ কর্তন করলে প্রতি মাসে আরও বেশি অর্থ জমা হবে। দীর্ঘমেয়াদে এতে জিপিএফ তহবিলের পরিমাণও বেশি হবে।
অন্যদিকে, কেউ যদি জুন থেকেই বেশি সঞ্চয় শুরু করতে চান, তাহলে জুন মাস থেকেই কর্তনের হার বাড়াতে পারেন।
জুলাই মাসের বেতন বিলে সংশোধনের পরামর্শ
অভিজ্ঞ হিসাবরক্ষণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সাধারণত জুলাই মাসের বেতন বিল প্রস্তুতের সময় জিপিএফ কর্তনের হার সংশোধনের কাজ করা হয়।
তাদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
- জিপিএফ কর্তনের সর্বনিম্ন হার বেসিকের ৫ শতাংশ।
- সর্বোচ্চ কর্তনের হার ২৫ শতাংশ।
- জুলাই মাসের বেতন বিল প্রস্তুত সাধারণত ২১ তারিখের পর শুরু হয়। তখন হিসাব শাখা বা ডিডিও (DDO) আইডি থেকে কর্তনের হার পরিবর্তন করা যায়।
- কর্মকর্তা হলে নিজ নিজ সিস্টেমে লগইন করে পরিবর্তন করা সম্ভব। প্রয়োজনে হিসাব শাখার সহায়তা নেওয়া যায়।
নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে কী হবে?
কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মত দিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বা নতুন বেসিক যে মাস থেকে কার্যকর হবে, সেই মাস থেকেই চাইলে বর্ধিত বেসিকের ওপর নতুন হারে জিপিএফ কর্তন শুরু করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সঞ্চয়ের পরিমাণও বাড়বে।
জিপিএফের অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন
আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। একজন কর্মচারী জানতে চান, চাকরি শেষে জিপিএফে জমাকৃত অর্থের বাইরে যে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যায়, সেটি সুদের আওতায় পড়ে কি না।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী জিপিএফে সরকার নির্ধারিত হারে মুনাফা/সুদ হিসাব করা হয় এবং অবসর বা চূড়ান্ত উত্তোলনের সময় জমাকৃত অর্থের সঙ্গে সেই প্রাপ্য অর্থ যুক্ত হয়। তবে এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, সে বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে। এ কারণে এ বিষয়ে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট আলেম বা ইসলামী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই উপযুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
হিসাব ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞদের মতে, জিপিএফ কর্তনের হার বাড়ানোর আগে নিজের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত। কারণ জিপিএফে বেশি অর্থ জমা দিলে ভবিষ্যতের সঞ্চয় বাড়লেও মাসিক হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ কমে যায়।
সারসংক্ষেপে:
- জুন অথবা জুলাই—দুই মাসেই জিপিএফ কর্তনের হার পরিবর্তন করা সম্ভব।
- জুনে পরিবর্তন করলে জুনের বেসিক অনুযায়ী কর্তন কার্যকর হবে।
- জুলাইয়ে ইনক্রিমেন্টের পর পরিবর্তন করলে বর্ধিত বেসিকের ওপর ২৫ শতাংশ কর্তন হবে।
- কর্তনের হার পরিবর্তনের জন্য যথাসময়ে হিসাব শাখা বা ডিডিও সিস্টেমে সংশোধন করতে হবে।
- ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।



