জুনে বাজেটে পে-স্কেলের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের হতাশা, এবার গেজেট প্রকাশের দাবি জোরালো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা, প্রত্যাশা ও আশ্বাস চললেও জুন মাসে বাজেট ঘোষণার সময় অনেকের প্রত্যাশিত স্পষ্ট ঘোষণা বা গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন একটি দাবিই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—“আর অপেক্ষা নয়, দ্রুত গেজেট প্রকাশ করুন।”
অনেক সরকারি চাকরিজীবীর ভাষ্য, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সূত্রে জুন মাসে নতুন পে-স্কেলের বাজেট বা গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সেটি হয়নি। ফলে প্রত্যাশা ভেঙে যাওয়ায় অনেকেই মানসিকভাবে হতাশ হয়েছেন।
একজন সরকারি কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সরকারি চাকুরীজীবীদের কাঙ্ক্ষিত পে-স্কেলের বাজেট জুনে প্রকাশ হবে তথ্য পেয়েছিলাম কিন্তু হলো না। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো, দয়া করে এসব বঞ্চিত লোকদের মন নিয়ে আর খেলবেন না। এবার গেজেট দিন, আমরা একটু নিশ্চিত হই।”
প্রত্যাশা কেন এত বেশি?
নতুন পে-স্কেল শুধু মাসিক বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফ এবং অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধাসহ সরকারি চাকরিজীবীদের সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা।
এ কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নানা ধরনের প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিভিন্ন সূত্রে কী বলা হয়েছিল?
গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার সম্ভাবনা এবং গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়। কোথাও কোথাও জুন মাসেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি।
কর্মচারীদের মূল দাবি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশের মতে, গুজব, সম্ভাবনা কিংবা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের পরিবর্তে সরকারিভাবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হলে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হবে।
তাদের মতে—
- নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো প্রয়োজন।
- গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সূচি জানানো উচিত।
- বাস্তবায়নের ধাপ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
- সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো জরুরি।
অনিশ্চয়তা দূর করার প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন একটি বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলে কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়ক হবে।
এখন সবার নজর গেজেটের দিকে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, আর কোনো জল্পনা-কল্পনা নয়—চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে। এতে লাখো সরকারি চাকরিজীবীর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হবে এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথও স্পষ্ট হবে।



