ঈদ বোনাস I নববর্ষ । দূর্গাপূজা

নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের উৎসব ভাতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা, যোগদানের তারিখ নিয়ে নেই বাধা

নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের উৎসব ভাতা প্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। নির্দিষ্ট উৎসবের মাসে কিংবা তার আগের মাসে চাকরিতে যোগদান করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী উৎসব ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখের কারণে বঞ্চিত হবেন না। বরং যোগদানকৃত পদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা হিসেবে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের ২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখের অফিস স্মারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্মারকটির বিষয় ছিল—‘নবনিযুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতার প্রাপ্যতা’। স্মারক নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৩২.০৪৮.১০-৭৩

যোগদানের তারিখ নিয়ে কী বলা হয়েছে?

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একজন নবনিযুক্ত কর্মচারী যে মাসে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে, সেই মাসে অথবা তার পূর্ববর্তী মাসে যে তারিখেই যোগদান করুন না কেন, তিনি যোগদানকৃত পদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসব ভাতা হিসেবে প্রাপ্য হবেন।

অর্থাৎ, উৎসবের মাসে চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে মাসের শুরু, মাঝামাঝি কিংবা শেষের দিকে যোগদান করলেও শুধু যোগদানের তারিখের কারণে উৎসব ভাতা বাতিল করার সুযোগ নেই।

একইভাবে উৎসবের আগের মাসে যোগদান করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে উৎসব ভাতার আওতায় আসবেন।

কারা এই সুবিধার আওতায়?

অর্থ বিভাগের স্মারকে সরকারি, আধা-সরকারি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের জন্য নির্দেশনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম উৎসব ভাতা পাওয়ার সময় অনেকের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়—‘কত তারিখে যোগদান করলে ভাতা পাওয়া যাবে’—এই স্মারক সেই প্রশ্নের একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়।

ভাতার পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হবে?

নির্দেশনা অনুযায়ী উৎসব ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী যে পদে যোগদান করেছেন, সেই পদের মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

সহজভাবে বলা যায়, কোনো নবনিযুক্ত কর্মচারীর যোগদানকৃত পদের মূল বেতন যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তাহলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসব ভাতার পরিমাণ হবে ২০ হাজার টাকা। একইভাবে মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে উৎসব ভাতাও হবে ৩০ হাজার টাকা।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মূল বেতন এবং মোট বেতন এক বিষয় নয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বা অন্যান্য ভাতা যোগ করে যে মোট মাসিক বেতন পাওয়া যায়, সেটিকে উৎসব ভাতার ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে না; বরং নির্দেশনায় যোগদানকৃত পদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থের কথা বলা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণে বিষয়টি পরিষ্কার

ধরা যাক, কোনো সরকারি কর্মচারী একটি নির্দিষ্ট উৎসবের মাসের ৫ তারিখে নতুন চাকরিতে যোগদান করেছেন। তার পদের মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা। নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু মাসের ৫ তারিখে যোগ দিয়েছেন বলে তিনি উৎসব ভাতা থেকে বাদ পড়বেন না।

আবার কেউ যদি একই উৎসবের মাসের ২৫ তারিখেও যোগদান করেন, তবুও শুধু দেরিতে যোগদানের কারণে উৎসব ভাতা না দেওয়ার কথা বলা হয়নি।

অন্যদিকে, উৎসবের ঠিক আগের মাসে কোনো নবনিযুক্ত কর্মচারী যোগদান করলেও তিনি নির্দেশনার আওতায় আসতে পারেন। অর্থাৎ উৎসবের মাস অথবা তার আগের মাসে যোগদানের বিষয়টি এখানে মূল বিবেচ্য।

নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পর নতুন কর্মচারীদের অন্যতম প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা হলো উৎসব ভাতা। কিন্তু নিয়োগপত্র পাওয়ার সময়, যোগদানের তারিখ, বেতন নির্ধারণ এবং উৎসবের সময়ের মধ্যে সামান্য ব্যবধান থাকায় অনেক সময় কর্মচারীদের মধ্যে ভাতা পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

অর্থ বিভাগের এই নির্দেশনা সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর করে। বিশেষ করে যারা কোনো উৎসবের ঠিক আগে বা উৎসবের মাসে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।

অফিসগুলোকে কী করতে হবে?

অর্থ বিভাগের স্মারকটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্মারকের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

এর ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হিসাব শাখা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের জন্যও বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা। যোগদানের তারিখকে কেন্দ্র করে কোনো নবনিযুক্ত কর্মচারীর প্রাপ্য উৎসব ভাতা নির্ধারণে এই নির্দেশনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

মূল কথা এক নজরে

অর্থ বিভাগের ২৩ আগস্ট ২০২১-এর নির্দেশনার সারকথা হলো—

  • উৎসবের মাসে যোগদান করলে উৎসব ভাতার সুযোগ রয়েছে।
  • উৎসবের আগের মাসে যোগদান করলেও প্রাপ্যতার সুযোগ রয়েছে।
  • ওই মাসে ঠিক কোন তারিখে যোগদান করেছেন, সেটি এককভাবে ভাতা বাতিলের কারণ নয়।
  • উৎসব ভাতার পরিমাণ হবে যোগদানকৃত পদের মূল বেতনের সমপরিমাণ
  • নির্দেশনাটি সরকারি, আধা-সরকারি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক।

বিভ্রান্তি এড়াতে যে বিষয়টি মনে রাখা জরুরি

এই নির্দেশনাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না যে, বছরের যেকোনো সময়ে নতুন চাকরিতে যোগ দিলেই পরবর্তী উৎসবের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎসব ভাতা পাওয়া যাবে। অর্থ বিভাগের স্মারকে বিশেষভাবে উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার মাস অথবা তার পূর্ববর্তী মাসে যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা প্রাপ্য কি না, তা নির্ধারণের সময় নিয়োগের তারিখ, যোগদানের তারিখ, সংশ্লিষ্ট উৎসবের সময় এবং যোগদানকৃত পদের মূল বেতন—সবগুলো বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সার্বিকভাবে অর্থ বিভাগের এই নির্দেশনা নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের উৎসব ভাতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ। বিশেষ করে উৎসবের আগে বা উৎসবের মাসে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীদের জন্য এটি আর্থিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

 

সোর্স ফাইল

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *