নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ চূড়ান্ত পর্যায়ে, চলছে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে পৌঁছেছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসার পর সেটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনগত যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এসআরও নম্বরসহ প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
বিজি প্রেস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে, এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো প্রজ্ঞাপনের খসড়া চূড়ান্ত করা এবং তা সরকারি মুদ্রণ ও আইনগত যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে-স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর খসড়া প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অর্থাৎ, পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন মূলত আইনগত যাচাই ও পরবর্তী দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।
ভেটিং শেষ হলেই কী হবে?
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রজ্ঞাপনের ভাষা, বিধান, ধারাগুলোর সামঞ্জস্য এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা।
ভেটিংয়ে বড় ধরনের কোনো সংশোধনের প্রয়োজন না হলে পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে এসআরও (Statutory Regulatory Order) নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ কারণে বর্তমান পর্যায়টিকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শেষ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে অযথা বিলম্বের সুযোগ নেই
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বর্তমানে গেজেট প্রকাশ আটকে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে নতুন করে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় সামনে আসেনি; বরং চলমান প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতাই শেষ করার পর্যায় চলছে।
তবে ভেটিং শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এর গুরুত্ব কোথায়?
নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, বেতন-ভাতার কাঠামো এবং অবসর-সংশ্লিষ্ট কিছু আর্থিক সুবিধার হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে—যদিও কোন সুবিধা কতটা পরিবর্তিত হবে, তা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের বিধান না দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
বিশেষ করে নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে মূল বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট, গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা এবং পেনশন-সংক্রান্ত হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এগুলোই সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহের বিষয়।
গেজেট প্রকাশের পরই এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
এখন কোন ধাপগুলো বাকি?
বর্তমান তথ্য বিশ্লেষণ করলে পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়াটি মোটামুটি এভাবে এগোচ্ছে—
রেজল্যুশন প্রস্তুত → বিজি প্রেসে পাঠানো → প্রয়োজনীয় মুদ্রণ/প্রক্রিয়াগত কাজ → অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত → আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং → প্রয়োজনীয় সংশোধন/অনুমোদন → এসআরও নম্বর → গেজেট প্রকাশ।
এর মধ্যে বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ধাপটি চলমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে সতর্কতা
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে—এমন তথ্য সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে ভেটিং চলমান থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো দিনকে গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
কারণ ভেটিংয়ের সময় কোনো ধারা, শব্দ বা বিধান নিয়ে সংশোধনের প্রয়োজন হলে প্রজ্ঞাপন জারির আগে আরও কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হতে পারে। আবার কোনো বড় সংশোধনের প্রয়োজন না হলে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ের প্রশাসনিক ও আইনগত যাচাইয়ে রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো, সেখান থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসা এবং পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর বিষয়টি গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এসআরও নম্বরসহ প্রজ্ঞাপন জারি করাই এখন পরবর্তী বড় ধাপ। তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দিনকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের তথ্য।



