স্ব-শাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ম পে-স্কেল আদেশ জারি, কার্যকর ১ জুলাই ২০২৬
স্ব-শাসিত (Public Bodies) ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ বাস্তবায়নে নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট-১ অনুবিভাগ থেকে জারি করা এ আদেশটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। তবে আদেশের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে, কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকর তারিখ জুলাই থেকেই।
নতুন আদেশে শুধু মূল বেতন নয়—বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি, পেনশন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল, ধোলাই, পাহাড়ি ও অন্যান্য বিশেষ ভাতার বিধানও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্ব-শাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য এটি কার্যত নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা হিসেবে এসেছে।
১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর
গেজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে পুরোনো বেতনস্কেল বিলুপ্ত করে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর অনুরূপ (Corresponding) স্কেল কার্যকর করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা আগের জাতীয় বেতনস্কেলের পদ ও ধাপের বিপরীতে নতুন বেতনস্কেলের নির্ধারিত ধাপে বেতন পাবেন। গেজেটের বেতনসারণিতে ১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বর্তমান ও নতুন স্কেলের তুলনামূলক কাঠামো দেওয়া হয়েছে।
মূল বেতনে বড় পরিবর্তন
নতুন স্কেলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বেতন ১ নম্বর গ্রেডে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারিত করা হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন গ্রেডগুলোর প্রারম্ভিক বেতনও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
গেজেটের সারণি অনুযায়ী ১৭ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ যথাক্রমে ২৪ হাজার ৮০০, ২৩ হাজার, ২১ হাজার ৫০০ এবং ২০ হাজার টাকা পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হবে।
বর্তমান বেতন থেকে নতুন বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে
নতুন আদেশে বেতন নির্ধারণের জন্য পৃথক নিয়ম দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেতন যদি নতুন সংশ্লিষ্ট স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়, তাহলে সেই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করা হবে।
আবার বর্তমান মূল বেতন সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পার্থক্য নির্ণয় করে পরবর্তী ধাপে বেতন বসানোর বিধান রাখা হয়েছে। নতুন স্কেলে কোনো সমান ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গেজেটে এ বিষয়ে উদাহরণও দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মচারী ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগে অতিরিক্ত অগ্রিম বেতন বৃদ্ধি
আদেশটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্ব-শাসিত (Public Bodies) প্রতিষ্ঠানসমূহে ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত অগ্রিম বেতন বৃদ্ধির সুবিধা।
একই সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার কর্মীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণে সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি এই বিশেষ সুবিধাটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডেও নতুন নিয়ম
পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মচারীর বর্তমান বেতন, সংশ্লিষ্ট স্কেল এবং চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় বেতন নির্ধারণের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে যাদের পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়টি কার্যকর হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও গেজেটে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নতুন বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে। উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
পেনশনেও বড় পরিবর্তন
নতুন আদেশে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত নেট পেনশনের পরিমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গেজেটের সারণি অনুযায়ী—
| ৩০ জুন ২০২৬-এর নেট পেনশন | বৃদ্ধি | নতুন ন্যূনতম | নতুন সর্বোচ্চ |
|---|---|---|---|
| সর্বনিম্ন–১০,০০০ টাকা | ১০০% | ১০,০০০ | ১৮,০০০ |
| ১০,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% | ১৮,০০১ | ৩৫,০০০ |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% | ৩৫,০০১ | ৪৯,০০০ |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% | ৪৯,০০১ | ৬২,০০০ |
| ৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব | ৫৫% | ৬২,০০১ | ৭০,৫০০ |
এছাড়া অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ন্যূনতম পেনশন এবং পেনশন পুনর্নির্ধারণের ব্যবস্থাও আদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতায় বয়সভিত্তিক সুবিধা
নতুন আদেশে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মচারীদের জন্য বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
গেজেটের বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা, পরবর্তী বয়সসীমায় ৪ হাজার টাকা, এরপর ৫ হাজার টাকা এবং আরও উচ্চ বয়সে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতার কাঠামো রাখা হয়েছে।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতার পৃথক বিধান রয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতায় গ্রেডভিত্তিক হার
নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম আলোচিত অংশ বাড়িভাড়া ভাতা। গেজেটে জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে বাড়িভাড়া প্রদানের সারণি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য—
- গ্রেড ২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড ১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত: মূল বেতনের ৬০%
- গ্রেড ১৫ থেকে গ্রেড ১০: ৫০%
- গ্রেড ৯ থেকে গ্রেড ৫: ৪৫%
- গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ১: ৪০%
খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ নির্ধারিত শহর/এলাকার জন্য যথাক্রমে ৫০%, ৪০%, ৩৫% ও ৩০% এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫%, ৩৫%, ৩০% ও ২৫% হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বাড়িভাড়া হার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর না হয়ে গেজেটে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে যেসব কর্মচারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার বা সমজাতীয় সুবিধা পান, তাদের ক্ষেত্রে টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হবে না।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা
সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সন্তানের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা হারে শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রদানের বিধান রয়েছে।
স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই সরকারি কর্মচারী হলে একই সন্তানের জন্য দ্বৈতভাবে ভাতা গ্রহণের সুযোগ না রাখার বিষয়টিও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোবাইল ভাতা
মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী—
- ৫ম থেকে ১৪তম গ্রেড: মাসিক ৫০০ টাকা
- ১৫তম থেকে ২০তম গ্রেড: মাসিক ১৫০ টাকা
অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্যও নির্দিষ্ট মোবাইল ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
যাতায়াত ও ধোলাই ভাতা
১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত শর্তে মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া যেসব কর্মচারীর ক্ষেত্রে ধোলাই ভাতা প্রযোজ্য, তাদের জন্য মাসিক ৩০০ টাকা হারে ধোলাই ভাতার বিধান করা হয়েছে।
পাহাড়ি ও হাওড়/দ্বীপ এলাকার জন্য বিশেষ ভাতা
দুর্গম ও বিশেষ ভৌগোলিক এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্যও আলাদা ভাতা রাখা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ক্ষেত্রে মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে, সর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমার মধ্যে ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। একইভাবে হাওড়/দ্বীপ/চরসহ নির্দিষ্ট এলাকার কর্মীদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ সুবিধা
প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্যও নতুন আদেশে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত শর্তে প্রতি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে। একই বিষয়ে অন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করলে নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য হবে।
অনলাইনে বেতন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক
নতুন আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অনলাইনে Pay Fixation।
স্ব-শাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করে কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করতে হবে। কর্মচারীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে লগইন করে নিজস্ব বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। যাদের NID নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের পর বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে।
কখন থেকে বাস্তবে নতুন বেতন পাওয়া যাবে?
এখানেই কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনি/প্রশাসনিক কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ হলেও গেজেট প্রকাশ হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ফলে বেতন নির্ধারণ, অনলাইন পে-ফিক্সেশন, হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার হালনাগাদের পর বাস্তবে নতুন বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অর্থাৎ কার্যকর তারিখ এবং ব্যাংক হিসাবে নতুন বেতন জমা পড়ার তারিখ এক বিষয় নয়। গেজেট কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও হিসাব শাখাকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
সার্বিকভাবে কী পরিবর্তন হলো?
এই আদেশ বিশ্লেষণ করলে স্ব-শাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য পরিবর্তনগুলোকে মোটামুটি পাঁচটি বড় ভাগে দেখা যায়—
প্রথমত, ২০১৫ সালের কাঠামোর পরিবর্তে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেল কার্যকর হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, টিফিন, শিক্ষা, মোবাইল, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতার নতুন কাঠামো এসেছে।
চতুর্থত, পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক হারে পেনশন পুনর্নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পঞ্চমত, বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই গেজেটের মাধ্যমে স্ব-শাসিত (Public Bodies) ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর বাস্তব প্রয়োগের প্রশাসনিক কাঠামো স্পষ্ট হলো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬, কিন্তু বাড়িভাড়াসহ কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা কার্যকর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কর্মচারীদের প্রকৃত প্রাপ্যতা বুঝতে শুধু নতুন মূল বেতন দেখলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট গ্রেড, ধাপ, কর্মস্থল, বয়স, চাকরির অবস্থা এবং ভাতার শর্তগুলোও একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।



