বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে নতুন বেতন-ভাতা কাঠামো: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর, ধাপে ধাপে মিলবে পূর্ণ বেতন
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য ও প্রযোজ্য কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন ও ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করে ‘চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এ আদেশটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হয়েছে।
নতুন আদেশে শুধু মূল বেতনই নয়, বেতন নির্ধারণ, বেতন বৃদ্ধির ধাপ, বকেয়া, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, মোবাইল, টিফিন, ধোলাই, পাহাড়ি ভাতা, বিশেষ দায়িত্বের ভাতা এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ভাতা—সবকিছুর বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেলে বড় পরিবর্তন
আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১ জুলাই ২০২৬ থেকে ২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতনস্কেল বিলুপ্ত করে তার বিপরীতে নতুন ‘অনুরূপ স্কেল’ (Corresponding Scale) কার্যকর করা হয়েছে। গেজেটে ২০টি গ্রেডের প্রতিটির জন্য ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেল আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক মূল বেতন হলো—
| গ্রেড | ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন | ২০২৬ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১ম | ৫০,০০০ টাকা | ১,০০,০০০ টাকা |
| ২য় | ৪৩,০০০ টাকা | ৮৬,০০০ টাকা |
| ৩য় | ৩৫,৫০০ টাকা | ৭১,০০০ টাকা |
| ৪র্থ | ২৯,০০০ টাকা | ৫৮,০০০ টাকা |
| ৫ম | ২২,০০০ টাকা | ৪৪,০০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ১৬,০০০ টাকা | ৩২,০০০ টাকা |
| ৭ম | ১৫,০০০ টাকা | ৩০,০০০ টাকা |
| ৮ম | ১৪,৫০০ টাকা | ২৯,০০০ টাকা |
| ৯ম | ১৩,৫০০ টাকা | ২৭,০০০ টাকা |
| ১০ম | ১২,৭০০ টাকা | ২৫,৪০০ টাকা |
| ১১তম | ১২,৫০০ টাকা | ২৫,০০০ টাকা |
| ১২তম | ১১,৩০০ টাকা | ২৪,৩০০ টাকা |
| ১৩তম | ১১,০০০ টাকা | ২৪,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ১০,২০০ টাকা | ২৩,৫০০ টাকা |
| ১৫তম | ৯,৭০০ টাকা | ২২,৮০০ টাকা |
| ১৬তম | ৯,৩০০ টাকা | ২১,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ৯,০০০ টাকা | ২১,৪০০ টাকা |
| ১৮তম | ৮,৮০০ টাকা | ২১,০০০ টাকা |
| ১৯তম | ৮,৫০০ টাকা | ২০,৫০০ টাকা |
| ২০তম | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ টাকা। ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ ধাপ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো কর্মচারীর নতুন বেতন শুধু সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে আটকে থাকবে না। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি যে বেতন ধাপে ছিলেন, সেটি বিবেচনায় নিয়ে নতুন অনুরূপ স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
একবারে পুরো বেতন নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন
নতুন বেতন কাঠামোর আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন।
গেজেটের বিধান অনুযায়ী—
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত বেতন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের
- ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে;
- ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে।
- ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ওই পার্থক্যের
- ৭০ শতাংশ দেওয়া হবে ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে;
- ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে।
- ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন নির্ধারিত মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরটি মূলত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর্যায়ক্রমিক বছর, আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পুরো নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে বকেয়া পাওয়ার বিধান
নতুন আদেশ প্রকাশ হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ফলে ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের মধ্যবর্তী সময় নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে, তারও সমাধান দিয়েছে আদেশ।
বিধান অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও পর্যায়ক্রমে যে অংশ প্রদান করা হবে, সেটির সঙ্গে বকেয়া সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশেষ সুবিধা আর থাকছে না
নতুন আদেশের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ‘বিশেষ সুবিধা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে। তবে ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত অর্জিত বিশেষ সুবিধা সংশ্লিষ্ট বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে যারা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসর-উত্তর ছুটিতে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে অবসর-উত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য হারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আলাদা বিধান রাখা হয়েছে।
কারা এই আদেশের আওতায়
আদেশটি বিজিবিতে কর্মরত প্রযোজ্য কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে কয়েকটি শ্রেণিকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- প্রতিরক্ষা প্রশাসন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারী;
- পুলিশ বাহিনীতে নিয়োজিত কর্মচারী;
- নির্দিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক;
- শিক্ষানবিশ বা প্রশিক্ষণার্থী;
- আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ব্যক্তি;
- দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক;
- চুক্তি বা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োজিত ব্যক্তি।
বেতন নির্ধারণের নিয়মেও স্পষ্ট নির্দেশনা
কোনো কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেলে নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ হবে।
আর কেউ যদি বর্তমান স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে বর্তমান বেতন ও সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের পার্থক্য বের করে সেই পার্থক্য নতুন অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করা হবে। যোগফল নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপে এবং কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
এ কারণে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন আলাদা হলে নতুন বেতনও একই হবে—এমনটি নয়।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
নতুন বেতন নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বিধি অনুযায়ী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট পাবেন।
তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোরায়ালিফাইং সার্ভিসের মেয়াদসহ সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। গেজেটে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের বিধানও রাখা হয়েছে।
পেনশনেও বড় পরিবর্তন
নতুন আদেশে শুধু কর্মরত সদস্যদের বেতন নয়, অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন নিয়েও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখের নিট পেনশনের ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে—
| ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন | নিট পেনশন বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| সর্বনিম্ন–৯,০০০ টাকা | ১০০% |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
| ৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব | ৫৫% |
এই হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন স্ল্যাবে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ নিট পেনশনের সীমাও গেজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কর্মরত কর্মচারীদের মতো পেনশনভোগীরাও এক ধাপে পুরো বর্ধিত সুবিধা পাবেন না। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নির্দিষ্ট অংশ এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আরও বেশি অংশ দেওয়ার পর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন নিট পেনশন কার্যকর হবে।
চিকিৎসা ভাতায় বয়সভিত্তিক নতুন কাঠামো
বিজিবির কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে—
- ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত: মাসিক ৩,০০০ টাকা
- ৫০ বছর ১ দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত: মাসিক ৪,০০০ টাকা
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী—
- ৫০ বছর পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা
- ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর: ৪,০০০ টাকা
- ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর: ৫,০০০ টাকা
- ৭০ বছরের বেশি: ৬,০০০ টাকা
বাড়িভাড়া ভাতায় গ্রেড ও এলাকার ভিত্তিতে হার
বিজিবির জন্য বাড়িভাড়া ভাতায় সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
২০২৬ সালের গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা, নির্দিষ্ট বড় শহর/সিটি করপোরেশন এলাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য আলাদা হার রাখা হয়েছে।
বিশেষভাবে, গেজেটের টেবিলে—
- গ্রেড ২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড ১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০%;
- নির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন/শহর এলাকায় ৬০%;
- অন্যান্য স্থানে ৪৫%;
এবং উচ্চতর গ্রেডের জন্য পর্যায়ক্রমে ভিন্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী কর্মচারী বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। বিজিবির কিছু নির্দিষ্ট পদমর্যাদার সদস্যের ক্ষেত্রে ব্যারাকে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ বাড়িভাড়া ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ভাতা
সব কর্মচারীর জন্য আহরিত মূল বেতনের ১৫% হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
মাসিক নিট পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান রাখা হয়েছে।
শিক্ষা সহায়ক ভাতা
সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতার ব্যবস্থাও নতুন আদেশে রাখা হয়েছে।
প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা এবং দুই বা ততোধিক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। বয়সের শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোবাইল, টিফিন ও ধোলাই ভাতা
নতুন আদেশে কয়েকটি দৈনন্দিন ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোবাইল ভাতা:
- ১ম ও ২য় গ্রেড: মাসিক ৫০০ টাকা
- ৩য় থেকে ২০তম গ্রেড: মাসিক ১৫০ টাকা
টিফিন ভাতা:
- ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা, তবে প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে খাবার বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা থাকলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিফিন ভাতা থাকবে না।
ধোলাই ভাতা:
প্রযোজ্য কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৩০০ টাকা।
পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে পাহাড়ি ভাতার বিধান রয়েছে।
জেলা সদর ও সদর-উপজেলা পর্যায়ের ক্ষেত্রে মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা এবং অন্যান্য নির্ধারিত উপজেলার ক্ষেত্রে ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাহাড়ি ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট হাওর/দ্বীপচর এলাকায় কর্মরতদের জন্যও বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা
প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্যও আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এই ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সন্তানের ক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণের শর্তও প্রযোজ্য।
বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ভাতা
বিজিবির কাজের প্রকৃতি বিবেচনায় বিভিন্ন পেশা ও দায়িত্বের জন্য আলাদা ভাতা রাখা হয়েছে। যেমন—
- যানবাহন মেকানিক ও ইলেকট্রিশিয়ান;
- সিগন্যাল ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মী;
- আরমারার স্টাফ;
- রেডিও মেকানিক ও ফিটার;
- অপারেটর;
- ড্রাফটসম্যান/সার্ভেয়ার;
- ব্যান্ড ইনচার্জ;
- অ্যাকটিং এলাউন্স;
- গার্ড পুলিশ ভাতা;
- যাতায়াত ভাতা;
- ছুটিকালীন রেশন মানি;
- জ্বালানি খরচ;
- স্টাফ নার্সদের পোশাক ও খাদ্য ভাতা;
- মসল্লা ভাতা;
- কম্পেনসেশন-কাম-ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্সসহ বিভিন্ন সুবিধা।
অর্থাৎ নতুন আদেশে শুধু মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি; বিজিবির দায়িত্ব ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু বিদ্যমান ভাতাকে একটি নতুন কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
২০২৮ সাল থেকে ভাতার পূর্ণ নতুন হার
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব ভাতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই নতুন হারে কার্যকর হবে, এমন নয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্য হারে বিদ্যমান ভাতাগুলো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রদান করা হবে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে এই আদেশে নির্ধারিত হারে সংশ্লিষ্ট ভাতা কার্যকর হবে।
এ কারণে বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে ২০২৬, ২০২৭ এবং ২০২৮—এই তিনটি সময়পর্ব আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনলাইনে বেতন নির্ধারণ
নতুন বেতন বাস্তবায়নের জন্য অনলাইন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার কথাও আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে iBAS++ এবং সংশ্লিষ্ট Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য প্রদান ও বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের পর হিসাবরক্ষণ অফিসে তা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
সার্বিকভাবে কী দাঁড়াল?
সবকিছু মিলিয়ে বিজিবির জন্য ২০২৬ সালের বেতন-ভাতা আদেশে পাঁচটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমত, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতনস্কেলের পরিবর্তে নতুন অনুরূপ বেতনস্কেল চালু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নতুন বেতন একবারে পুরোপুরি দেওয়া হচ্ছে না; ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে আংশিক, ২০২৭ সালের জানুয়ারি-জুনে আরও বেশি এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ নতুন মূল বেতন দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে।
তৃতীয়ত, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
চতুর্থত, বিশেষ সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিলুপ্ত বলে গণ্য হলেও পূর্ববর্তী সময়ের প্রাপ্য বিশেষ সুবিধা বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পঞ্চমত, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, শিক্ষা সহায়ক, মোবাইল, টিফিন, বাংলা নববর্ষ, পাহাড়ি, বিশেষ দায়িত্ব ও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ভাতার জন্য পৃথক বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং, ‘চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শুধু একটি নতুন বেতনস্কেল নয়; বরং বিজিবির বেতন, ভাতা, পেনশন, বেতন নির্ধারণ ও আর্থিক সুবিধাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কাঠামো। তবে কোনো নির্দিষ্ট সদস্যের হাতে প্রকৃত মাসিক বেতন কত হবে, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, বর্তমান ধাপ, নতুন পে-ফিক্সেশন, প্রাপ্য ভাতা এবং কর্মস্থলের অবস্থান—এসব বিষয়ের ওপর।



