৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নতুন বেতন-ভাতা আদেশ জারি: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর, পূর্ণ বেতন ২০২৭ সালের জুলাইয়ে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘চাকরি (ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এ আদেশটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে এবং এর বিধান অনুযায়ী আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে

নতুন আদেশে শুধু মূল বেতনই নয়, বেতন পুনর্নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল, ধোলাই, পাহাড়ি ও হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতনস্কেলে বড় পরিবর্তন

গেজেটের বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালের সংশ্লিষ্ট বেতনস্কেলের বিপরীতে ২০২৬ সালের নতুন অনুরূপ স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—

  • ১ম গ্রেড: ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নির্ধারিত
  • ২য় গ্রেড: ৬৬,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৩২,০০০ টাকা
  • ৩য় গ্রেড: ৫৬,৫০০ টাকা থেকে ১,১৩,০০০ টাকা
  • ৪র্থ গ্রেড: ৫০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা
  • ৫ম গ্রেড: ৪৩,০০০ টাকা থেকে ৮৬,০০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৩৫,৫০০ টাকা থেকে ৭১,০০০ টাকা
  • ৭ম গ্রেড: ২৯,০০০ টাকা থেকে ৫৮,০০০ টাকা
  • ৮ম গ্রেড: ২৩,০০০ টাকা থেকে ৪৬,০০০ টাকা
  • ৯ম গ্রেড: ২২,০০০ টাকা থেকে ৪৪,০০০ টাকা
  • ১০ম গ্রেড: ১৬,০০০ টাকা থেকে ৩২,০০০ টাকা
  • ১১তম গ্রেড: ১২,৫০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা
  • ১২তম গ্রেড: ১১,৩০০ টাকা থেকে ২৪,৩০০ টাকা
  • ১৩তম গ্রেড: ১১,০০০ টাকা থেকে ২৪,০০০ টাকা
  • ১৪তম গ্রেড: ১০,২০০ টাকা থেকে ২৩,৫০০ টাকা
  • ১৫তম গ্রেড: ৯,৭০০ টাকা থেকে ২২,৮০০ টাকা
  • ১৬তম গ্রেড: ৯,৩০০ টাকা থেকে ২১,৯০০ টাকা
  • ১৭তম গ্রেড: ৯,০০০ টাকা থেকে ২১,৪০০ টাকা
  • ১৮তম গ্রেড: ৮,৮০০ টাকা থেকে ২১,০০০ টাকা
  • ১৯তম গ্রেড: ৮,৫০০ টাকা থেকে ২০,৫০০ টাকা
  • ২০তম গ্রেড: ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা

গেজেটের সংশ্লিষ্ট সারণিতে ২০১৫ সালের প্রতিটি ধাপের বিপরীতে ২০২৬ সালের নতুন অনুরূপ স্কেল দেখানো হয়েছে।

বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা এবং ১৬তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৯,৩০০ টাকা থেকে ২১,৯০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

তবে নতুন বেতনের পুরো অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে না

নতুন আদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।

গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নতুন বেতন নির্ধারণ করার পর—

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত:

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্যের ৪০%
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: পার্থক্যের ৫০%

১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত:

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: পার্থক্যের ৭০%
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: পার্থক্যের ৭৫%

১ জুলাই ২০২৭ থেকে:
বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন বেতনের ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।

অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত পুরো বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হচ্ছে ১ জুলাই ২০২৭। প্রথম ধাপের অর্থ ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপের অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

বেতন বকেয়াও প্রাপ্য হবে

আদেশে বলা হয়েছে, কর্মচারীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন। ফলে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর শুধু ভবিষ্যৎ বেতন নয়, কার্যকর তারিখ থেকে জমা হওয়া প্রাপ্য অর্থও হিসাবের আওতায় আসবে।

একইভাবে পেনশনের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে বর্ধিত সুবিধা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের নতুন বেতন

নতুন সারণি অনুযায়ী নিচের গ্রেডগুলোর পরিবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—

গ্রেড২০১৫ সালের সর্বনিম্ন২০২৬ সালের সর্বনিম্ন
১৩১১,০০০২৪,০০০
১৪১০,২০০২৩,৫০০
১৫৯,৭০০২২,৮০০
১৬৯,৩০০২১,৯০০
১৭৯,০০০২১,৪০০
১৮৮,৮০০২১,০০০
১৯৮,৫০০২০,৫০০
২০৮,২৫০২০,০০০

এগুলো নতুন অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ। ব্যক্তির বর্তমান মূল বেতন প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হলে বেতন নির্ধারণের আলাদা সূত্র প্রয়োগ করতে হবে।

বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও নির্দিষ্ট

নতুন আদেশে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রাখা হয়েছে। কর্মচারী যদি বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন গ্রহণ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন নির্ধারণ হবে।

আর কেউ যদি বর্তমান স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন পান, তাহলে বর্তমান বেতন ও সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের পার্থক্য বের করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। নতুন স্কেলে ঠিক ওই অঙ্কের কোনো ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

গেজেটে এ বিষয়ে উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।

উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

নতুন আদেশে একই পদে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেডের বিধানও রাখা হয়েছে।

কোনও স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে, চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে ৯ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার বিধান রয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়েও একই পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরি করার পর আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ সুবিধার ওপর গ্রেডভিত্তিক ও সংখ্যাগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা বাড়ল

নতুন আদেশে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মরত কর্মচারীরা—

  • ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত: মাসে ৩,০০০ টাকা
  • ৫০ বছর ১ দিন থেকে PRL শেষ হওয়া পর্যন্ত: মাসে ৪,০০০ টাকা

চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান সুবিধাও বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতার আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতা: নতুন হার ২০২৮ সাল থেকে

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন বাড়িভাড়া হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, সেই হারেই তা পাবেন।

এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোতে গ্রেড ও এলাকার ভিত্তিতে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৮ থেকে প্রস্তাবিত কাঠামো

গ্রেড ২০ থেকে ১৬:

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: মূল বেতনের ৬০%
  • নির্ধারিত অন্যান্য বড় শহর/সিটি ও সংশ্লিষ্ট পৌর এলাকা: ৫০%
  • অন্যান্য স্থান: ৪৫%

গ্রেড ১৫ থেকে ১০:

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৫৫%
  • অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহর: ৫০%
  • অন্যান্য স্থান: ৪০%

গ্রেড ৯ থেকে ৫:

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৪৫%
  • অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহর: ৪০%
  • অন্যান্য স্থান: ৩৫%

গ্রেড ৪ থেকে ১:

  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৪০%
  • অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহর: ৩৫%
  • অন্যান্য স্থান: ৩০%

অর্থাৎ বাড়িভাড়া ভাতায় নতুন কাঠামো থাকলেও সেটি ২০২৮ সালের আগে কার্যকর হচ্ছে না

বাংলা নববর্ষ ভাতা

সকল কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

মাসিক নিট পেনশনগ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ভিত্তিতে এ ভাতা প্রাপ্য হবে।

উৎসব ভাতা বহাল

বার্ষিক উৎসব ভাতা বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী বহাল রাখা হয়েছে। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও বছরে দুটি উৎসব ভাতা বহাল থাকবে।

একবার উৎসব ভাতা উত্তোলনের পর পরবর্তীতে শুধু pay fixation-এর কারণে একই সময়ের জন্য অতিরিক্ত বকেয়া দাবি করা যাবে না।

শিক্ষা সহায়ক ভাতা

সন্তান প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বয়সের সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এ সুবিধা প্রাপ্য হবে।

টিফিন ও যাতায়াত ভাতা

নতুন আদেশে—

  • ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা
  • সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী: মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা

এর পাশাপাশি চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১,৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোবাইল ভাতায় নতুন হার

মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী—

  • ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: মাসে ৫০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ১৫০ টাকা

এছাড়া সকল কর্মচারীর জন্য মাসিক ৩০০ টাকা ধোলাই ভাতা প্রাপ্যতার কথা বলা হয়েছে।

পাহাড়ি ও হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা

পার্বত্য জেলাগুলোর জেলা সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পাহাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যান্য উপজেলায় মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত পাহাড়ি ভাতা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে হাওড়/দ্বীপ/চর এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০% হারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা ভাতা প্রাপ্য হবে।

প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতা

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন/প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক

নতুন আদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনলাইন pay fixation

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন সব ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মচারী নির্ধারিত ওয়েবসাইটে লগইন করে নিজের বেতন নির্ধারণের তথ্য দেবেন।

লগইনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহারের বিধান রয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর আগ পর্যন্ত প্রচলিত পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে বেতন নির্ধারণ ও পরবর্তী সময়ে তা চূড়ান্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কারা এই আদেশের আওতায়?

আদেশটি ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে গেজেটে কয়েকটি শ্রেণিকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রমিক;
  • apprentice ও trainee;
  • outsourcing-এর মাধ্যমে নিয়োজিত ব্যক্তি;
  • ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে থাকা সরকারি কর্মচারী;
  • দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক;
  • চুক্তি ও খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োজিত ব্যক্তি।

আদেশে ‘ব্যাংক’ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০১৫ সালের বেতন আদেশ বাতিল

সবশেষে, চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের আদেশের যেসব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো বহাল থাকবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

নতুন আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে—

বিষয়নতুন বিধান
কার্যকর তারিখ১ জুলাই ২০২৬
২০২৬ জুলাই–ডিসেম্বরবেতন পার্থক্যের ৪০%/৫০%
২০২৭ জানুয়ারি–জুনবেতন পার্থক্যের ৭০%/৭৫%
পূর্ণ নতুন বেতন১ জুলাই ২০২৭
চিকিৎসা ভাতা৩,০০০/৪,০০০ টাকা
বাংলা নববর্ষ ভাতামূল বেতনের ১৫%
শিক্ষা সহায়ক ভাতাসন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,০০০
টিফিন ভাতা৫০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা৬০০ টাকা
কার্যভার ভাতা১,৫০০ টাকা
মোবাইল ভাতা১৫০/৫০০ টাকা
ধোলাই ভাতা৩০০ টাকা
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাসন্তানপ্রতি ৩,০০০ টাকা
নতুন বাড়িভাড়া কাঠামো১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
অনলাইন pay fixationবাধ্যতামূলক
২০১৫ সালের আদেশরহিত

সব মিলিয়ে, ‘চাকরি (ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তবে নতুন বেতনের পুরো আর্থিক সুবিধা একবারে কার্যকর না হয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে দেওয়ার কাঠামো করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য কিছু ভাতার নতুন হার পরবর্তী সময়ে কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *