নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ চূড়ান্ত পর্যায়ে: ১০ সেপ্টেম্বরই কি আসছে সরকারি গেজেট? যা জানা গেল সর্বশেষ আপডেটে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—সরকারি গেজেট প্রকাশ—এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজি প্রেসে মুদ্রণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসেছে এবং বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (আইনি যাচাই) চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই ভেটিং শেষ হলেই এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এ অবস্থায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এই কি নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হবে?
এই প্রতিবেদনে থাকছে সর্বশেষ সরকারি অগ্রগতি, সম্ভাব্য সময়সূচি, তিন ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব, কোন গ্রেডে কত সুবিধা মিলবে এবং গেজেট প্রকাশের পর কী কী কার্যকর হবে—সবকিছুর বিশদ বিশ্লেষণ।
গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন কোথায়?
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পে-স্কেলের রেজল্যুশন তৈরির প্রশাসনিক ধাপগুলো প্রায় শেষ। বর্তমানে অবস্থান হলো—
ধাপ | বর্তমান অবস্থা |
| মন্ত্রিসভার অনুমোদন | ✅ সম্পন্ন (৩১ আগস্ট ২০২৬) | বিজি প্রেসে মুদ্রণ | ✅ সম্পন্ন | অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত | ✅ সম্পন্ন | আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং | 🟡 চলমান | এসআরও নম্বর প্রদান | ⏳ ভেটিং শেষে | সরকারি গেজেট প্রকাশ | ⏳ চূড়ান্ত ধাপ |
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২ সেপ্টেম্বর বিজি প্রেসে পাঠানো রেজল্যুশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসেছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে আইনি ভাষা ও বিধিবদ্ধ বিষয় যাচাইয়ের জন্য।
১০ সেপ্টেম্বর কি গেজেট প্রকাশ হবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: সম্ভাবনা আছে, তবে এখনো নিশ্চিত নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়—
প্রথমত, সরকার গেজেট প্রকাশে আর দীর্ঘসূত্রতা করতে চাইছে না।
দ্বিতীয়ত, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হলেই আর কোনো বড় প্রশাসনিক ধাপ বাকি থাকবে না।
তৃতীয়ত, ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি এবং সরকারি গেজেট আর্কাইভেও এটি যুক্ত হয়নি।
বিশ্লেষণ
যদি ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভেটিং সম্পন্ন হয়, তাহলে ১০ সেপ্টেম্বর এসআরও জারি হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাইয়ে সময় লাগলে গেজেট ১০ সেপ্টেম্বরের পরও প্রকাশ হতে পারে।
অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখ, কিন্তু সরকারিভাবে ঘোষণা করা নির্ধারিত তারিখ নয়।
তিন ধাপে বেতন বৃদ্ধি: কে কত পাবেন?
নতুন পে-স্কেলে বর্ধিত মূল বেতন একবারে দেওয়া হবে না। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বাজেটের চাপ কমাতে এটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড
৫০% + ২৫% + ২৫%
তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন
ধাপ | কার্যকর তারিখ |
| প্রথম ধাপ (৫০%) | ১ জুলাই ২০২৬ | দ্বিতীয় ধাপ (২৫%) | ১ জানুয়ারি ২০২৭ | তৃতীয় ধাপ (২৫%) | ১ জুলাই ২০২৭ |
১ম থেকে ৯ম গ্রেড
৪০% + ৩০% + ৩০%
তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন
ধাপ | কার্যকর তারিখ |
| প্রথম ধাপ (৪০%) | ১ জুলাই ২০২৬ | দ্বিতীয় ধাপ (৩০%) | ১ জানুয়ারি ২০২৭ | তৃতীয় ধাপ (৩০%) | ১ জুলাই ২০২৭ |
ভাতাসমূহ নতুন হারে কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।
কোন গ্রেডে কত নতুন মূল বেতন?
সাম্প্রতিক অনুমোদিত কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি রাখা হয়েছে।
গ্রেড | বর্তমান মূল বেতন | নতুন মূল বেতন |
| ১ম | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৫৬,০০০ টাকা | ৯ম | ২২,০০০ টাকা | ৪৪,০০০ টাকা | ১০ম | ১৬,০০০ টাকা | ৩২,০০০ টাকা | ২০তম | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
সবচেয়ে বেশি লাভ কার?
২০তম গ্রেড: প্রায় ১৪২% পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধি।
১৬–২০তম গ্রেড: শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী।
১ম–৯ম গ্রেড: টাকার অঙ্কে বড় বৃদ্ধি হলেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।
Bangladesh Journal Online
প্রথম ধাপে হাতে কত টাকা বাড়তে পারে?
ধরা যাক একজন কর্মচারীর নতুন বর্ধিত মূল বেতন ১২,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রেড | প্রথম ধাপে প্রাপ্ত অংশ |
| ১০–২০তম | ৬,০০০ টাকা (৫০%) | ১–৯ম | ৪,৮০০ টাকা (৪০%) |
এরপর বাকি অংশ ২০২৭ সালের দুই ধাপে যুক্ত হবে।
ভাতা কবে বাড়বে?
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ভাতা।
বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
ভাতা | কার্যকর সময় |
| বাড়িভাড়া | ১ জানুয়ারি ২০২৮ | চিকিৎসা ভাতা | ১ জানুয়ারি ২০২৮ | শিক্ষা ভাতা | ১ জানুয়ারি ২০২৮ | অন্যান্য অনুমোদিত ভাতা | ১ জানুয়ারি ২০২৮ |
অর্থাৎ মূল বেতন আগে, ভাতা পরে কার্যকর হবে।
কেন তিন ধাপে বেতন বাড়ানো হচ্ছে?
অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে—
একবারে পুরো বেতন বাড়ালে সরকারের রাজস্ব ব্যয় কয়েক লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে বাজেটের চাপ কমবে।
মূল্যস্ফীতির ওপর আকস্মিক চাপ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
Bangladesh Journal Online+1
এটি মূলত একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গেজেট প্রকাশের পর কী হবে?
গেজেট প্রকাশিত হলে কয়েকটি বিষয় সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
গেজেটের পর সম্ভাব্য প্রশাসনিক ধাপ
এসআরও কার্যকর হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হবে।
সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাস্তবায়ন নির্দেশনা যাবে।
অর্থ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি হতে পারে।
হিসাবরক্ষণ ও আইবাস (iBAS++) সফটওয়্যারে নতুন স্কেল যুক্ত হবে।
বেতন বিল নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রস্তুত করা হবে।
জুলাই ২০২৬ থেকে বকেয়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রথম ধাপের এরিয়ার হিসাব নির্ধারণ হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
জুলাই ২০২৬ থেকে কি এরিয়ার মিলবে?
হ্যাঁ। যেহেতু নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, তাই গেজেট পরে প্রকাশ হলেও কার্যকারিতা পূর্বের তারিখ থেকেই গণনা হবে। ফলে জুলাই থেকে কার্যকর অংশ অনুযায়ী বকেয়া (এরিয়ার) সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।
পেনশন ও ভবিষ্যনিধিতে প্রভাব পড়বে?
গেজেট প্রকাশের পর অর্থ বিভাগ আলাদা বাস্তবায়ন নির্দেশনায় পেনশন, জিপিএফ, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সমন্বয়ের বিস্তারিত জানাবে।
৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি অবস্থান
৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং চলমান।
সরকার দ্রুত গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতিতে রয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এটি নিশ্চিত ঘোষণা নয়।
Bangladesh Journal Online+1
প্রতিবেদকের বিশ্লেষণ
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বাধা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিজি প্রেস, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট প্রকাশই হবে নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক সূচনা। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার সময়। সেটি সম্পন্ন হলেই যেকোনো দিন এসআরও নম্বরসহ গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
শেষ ধাপের আপডেট
বিষয় | সর্বশেষ অবস্থা |
| মন্ত্রিসভার অনুমোদন | ৩১ আগস্ট ২০২৬ | বিজি প্রেস | প্রক্রিয়া সম্পন্ন | আইন মন্ত্রণালয় | ভেটিং চলছে | গেজেট | চূড়ান্ত পর্যায়ে | মূল বেতন কার্যকর | ১ জুলাই ২০২৬ থেকে | ভাতা কার্যকর | ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে | ১০–২০ গ্রেড | ৫০% + ২৫% + ২৫% | ১–৯ গ্রেড | ৪০% + ৩০% + ৩০% |
তথ্যসূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র, পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ আপডেট এবং সরকারি গেজেট আর্কাইভ।


