১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে ৯ম পে স্কেল: বাড়ছে টিফিন ভাতাসহ একগুচ্ছ সুবিধা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম পে স্কেল’। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ ও সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীরা। এর মধ্যে অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে কর্মচারীদের মাসিক ‘টিফিন ভাতা’ এক লাফে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর গত এক দশকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন। টিফিন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির এই খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
কেন এই টিফিন ভাতা বৃদ্ধি?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে প্রচলিত মাসিক মাত্র ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ১০ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এই ভাতা বাড়ানোর জোর সুপারিশ করে বেতন কমিশন। বর্তমান বাস্তবতায় কর্মচারীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও যাতায়াত ব্যয়ের কিছুটা ভার লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযোজ্যতা: নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্ধিত এই টিফিন ভাতার সুবিধা মূলত ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
নবম পে স্কেলের প্রধান আকর্ষণসমূহ (এক নজরে)
কেবল টিফিন ভাতাই নয়, নবম পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রধান পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সর্বনিম্ন মূল বেতন বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি: উৎসবমুখর বৈশাখী ভাতা বিদ্যমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হচ্ছে।
শিক্ষা ভাতা: সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শিক্ষা ভাতা ২,০০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে।
স্বাস্থ্যবীমা চালু: সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে সার্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা।
বিশেষ শিশু ভাতা: প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা বিশেষ ভাতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়নের রূপরেখা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে এই নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এ বিষয়ে শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
নতুন এই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ দূর হবে এবং সরকারি সেবা কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


