৯ম পে-স্কেল দাবিতে নতুন কর্মসূচি ২০২৬ । ১১-২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বৈষম্যহীন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন চান?
সরকারি ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বৈষম্য দূরীকরণ এবং ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’। দীর্ঘ ১১ বছর নতুন পে-স্কেল না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংগঠনের এক সভায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচি সমূহ: সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩টি ধাপে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে: ১. স্মারকলিপি প্রদান (২২ ফেব্রুয়ারি – ৫ মার্চ): জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। ২. কেন্দ্রীয় স্মারকলিপি: কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন। ৩. বিভাগীয় সমাবেশ: পবিত্র মাহে রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনের আল্টিমেটাম: প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের পথে যাবে সংগঠনটি। সেক্ষেত্রে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের পর ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রেক্ষাপট: ঐক্য পরিষদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল দেওয়ার পর থেকে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে ৯ম পে-কমিশন গঠন করলেও এবং কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে ৬ সদস্যের পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা সাধারণ কর্মচারীদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে সাধারণ কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো: মাহমুদুল হাসান এবং মুখ্য সমন্বয়ক মো: ওয়ারেছ আলী।

বর্তমান সরকার কি দ্রুত সময়ে পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে?
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আপনার বোঝার সুবিধার্থে মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরছি:
বর্তমান অবস্থা ও পদক্ষেপ
সুপারিশ জমা: গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে।
পর্যালোচনা কমিটি: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, তারা কমিশনের সুপারিশগুলো যাচাই করছেন। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও এবং প্রয়োজনীয় বিশাল অংকের অর্থের (প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা) সংস্থান বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পে-স্কেলের প্রধান দিকগুলো
কমিশন যে সুপারিশগুলো করেছে, তা সাধারণ কর্মচারীদের জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক:
সর্বনিম্ন বেতন: ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব।
বৈষম্য হ্রাস: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যান্য সুবিধা: স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন এবং টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা
যদিও কর্মচারীরা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, “না দেখে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়”। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
সারকথা: সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যা ইতিবাচক সংকেত। তবে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি “দ্রুততম সময়ে” নাকি “ধাপে ধাপে” কার্যকর হবে, তা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিষ্কার হবে।



