সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগামী মাসে সুখবর ২০২৬ । বৈশাখী বা বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০% হারে পাবেন?
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দিতে ‘বাংলা নববর্ষ ভাতা’ প্রবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ (প্রবিধি-৩ অধিশাখা) থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন ভাতার বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের মূল সিদ্ধান্তসমূহ
সরকার জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত প্রধান পয়েন্টগুলো হলো:
কার্যকরী সময়: আগামী ১৪২৩ বঙ্গাব্দ থেকে এই ‘বাংলা নববর্ষ ভাতা’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তিত হবে।
ভাতার পরিমাণ: জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্ত সকল কর্মচারী (সামরিক ও বেসামরিক) প্রতি বছর মার্চ মাসে আহরিত মূল বেতনের ২০% হারে এই নববর্ষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
পেনশনভোগীদের সুবিধা: যারা মাসিক নিট পেনশন গ্রহণ করছেন এবং আজীবন পারিবারিক পেনশন ভোগ করছেন, তারাও তাদের মাসিক নিট পেনশনের ২০% হারে এই ভাতা পাবেন।
ব্যতিক্রম: তবে যারা ১০০% পেনশন সমর্পণ (এককালীন উত্তোলন) করেছেন, তারা এই ভাতার আওতাভুক্ত হবেন না।
প্রশাসনিক নির্দেশনা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও বিভাগে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশাখী উৎসব পালনে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, যা বাংলা নববর্ষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে আরও বেগবান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত ঈদ বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের বোনাসের পাশাপাশি এটিই প্রথম সর্বজনীন কোনো উৎসব ভাতা যা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে যুক্ত হলো।

নিম্নগ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী কত টাকা নববর্ষ ভাতা পান?
একজন নিম্নগ্রেডের সরকারি কর্মচারীর নববর্ষ ভাতার পরিমাণ নির্ভর করে তিনি বর্তমানে কোন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর আওতায় আছেন এবং তার বর্তমান মূল বেতন (Basic Pay) কত তার ওপর।
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল এবং ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের আলোকে এর একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
১. বর্তমান (৮ম পে-স্কেল ২০১৫) অনুযায়ী:
বর্তমানে সর্বনিম্ন গ্রেড হচ্ছে ২০তম গ্রেড।
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮,২৫০ টাকা।
ভাতার হার: মূল বেতনের ২০%।
ভাতার পরিমাণ: (৮,২৫০ × ২০%) = ১,৬৫০ টাকা।
(তবে চাকরির বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে মূল বেতন বাড়লে এই ভাতার পরিমাণও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়।)
২. প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেল (২০২৬) অনুযায়ী:
সম্প্রতি ৯ম পে-স্কেলের যে প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ভাতার হার এবং মূল বেতন উভয়ই বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে:
প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড): ২০,০০০ টাকা।
প্রস্তাবিত ভাতার হার: মূল বেতনের ৫০% (বর্তমান ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে)।
প্রস্তাবিত ভাতার পরিমাণ: (২০,০০০ × ৫০%) = ১০,০০০ টাকা।
নোট: ২০২৬ সালের এই নতুন পে-স্কেলটি এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের নববর্ষ ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
৩. পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে:
তারা তাদের নিট পেনশনের ২০% হারে এই ভাতা পান।
৯ম পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের ক্ষেত্রেও এই হার ও পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।



