সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন : আপ্যায়ন, বিদ্যুৎ ও ভ্রমণসহ বেশ কয়েকটি খাতে খরচ হ্রাসের নতুন নির্দেশনা
চলতি অর্থবছরের বাজেট ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংহত করতে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এক কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও বরাদ্দ পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, বাজেট অনুবিভাগ-১, শাখা- ১ থেকে প্রকাশিত এক পরিপত্রের আলোকে এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ব্যয়ের পর বিভিন্ন খাতে যে অব্যয়িত অর্থ (অবশিষ্ট বাজেট) রয়েছে, তা খরচের ক্ষেত্রে খাতওয়ারী সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নিচে খাতভিত্তিক খরচের নতুন পুনর্বিন্যাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. আপ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ খাত (সর্বোচ্চ ৫০% ব্যয়)
পরিপত্র অনুযায়ী, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত খরচের পর অবশিষ্ট থাকা বাজেটের একটি বড় অংশই সাশ্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩২১১১০৬-আপ্যায়ন ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ খাত হতে অবশিষ্ট অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ খরচ করা যাবে। অর্থাৎ, এই খাতগুলোর বাকি অর্থের অর্ধেক অবশ্যই সাশ্রয় করতে হবে।
২. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাত (সর্বোচ্চ ৭০% ব্যয়)
জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করার লক্ষ্যে এই গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত খাতগুলোর ব্যয়ের লাগাম টানা হয়েছে। ৪ এপ্রিলের পর থেকে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে:
৩২১১১১৩-বিদ্যুৎ
৩২৪৩১০১-পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট
৩২৪৩১০২-গ্যাস ও জ্বালানি
৩২৪৪১০১-ভ্রমণ ব্যয়
৩. সেমিনার ও কনফারেন্স খাত (সর্বোচ্চ ৮০% ব্যয়)
বিভিন্ন সরকারি সেমিনার, কর্মশালা ও কনফারেন্স আয়োজনের ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কিছুটা সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩২১১১১১-সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় খাত হতে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ খরচ করা যাবে।
খাতভিত্তিক খরচের সীমা একনজরে:
| অর্থনৈতিক কোড ও খাতের নাম | ৪ এপ্রিল ২০২৬ এর পর অব্যয়িত অর্থ হতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের হার | সাশ্রয়কৃত বা স্থগিত অর্থের হার |
| ৩২১১১০৬-আপ্যায়ন ও প্রশিক্ষণ খাত | ৫০% | ৫০% |
| ৩২১১১১৩-বিদ্যুৎ, ৩২৪৩১০১-জ্বালানি (পেট্রোল/লুব্রিকেন্ট), ৩২৪৩১০২-গ্যাস ও ৩২৪৪১০১-ভ্রমণ ব্যয় | ৭০% | ৩০% |
| ৩২১১১১১-সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় | ৮০% | ২০% |
প্রশাসনের ওপর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া:
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সচল রাখার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিপত্র জারির ফলে সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে তাদের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয়ে আরও মিতব্যয়ী হতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতের ৩০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করার বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনতিবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।



