প্রশাসন I একাউন্টস I অডিট আপত্তিসার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

নতুন বেতন কাঠামোতে যেভাবে নির্ধারণ করা হবে ‘বেতন ফিক্সেশন’: জেনে নিন খুঁটিনাটি

নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পর সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে সাধারণ একটি প্রশ্ন তৈরি হয়—পুরোনো স্কেলে অর্জিত ইনক্রিমেন্টগুলো নতুন কাঠামোতে কীভাবে যুক্ত বা প্রতিফলিত হবে? এই প্রক্রিয়াটিই মূলত ‘পে-ফিক্সেশন’ বা বেতন নির্ধারণ নামে পরিচিত। এবারের বেতন নির্ধারণ পদ্ধতিতে পূর্বের তুলনায় কিছু সূক্ষ্ম ও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। আগে বাৎসরিক বৃদ্ধির (annual increment) নিয়ম বর্তমানের মতো ছিল না। তবে এবার পুরনো ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করে রূপান্তর করতে হওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল মনে হলেও আসলে তা বেশ সুনির্দিষ্ট।

সরকারি নির্দেশনা ও হিসাব পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে নিচে বেতন ফিক্সেশনের মূল ধাপ ও একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

বেতন ফিক্সেশনের মূল ধাপসমূহ

নতুন কাঠামোতে একজন চাকুরিজীবীর নতুন বেসিক বা মূল বেতন কত হবে, তা প্রধানত তিনটি ধাপে নির্ধারণ করা হয়:

১. ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর বের করা

প্রথমে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জানতে হবে তিনি তার চাকরিকালীন সময়ে মোট কয়টি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন এবং ইনক্রিমেন্টসহ তার বর্তমান মূল (basic) বেতন কত। এরপর নিচের সূত্রের সাহায্যে ‘ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর’ বের করতে হবে:

সূত্র: ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্ত মূল বেতন \ স্কেল-শুরু (Original Basic) = ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর।

২. নতুন স্কেলের বেসিকে ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ

এই ধাপে নতুন পে-স্কেলে ওই পদের জন্য যে প্রাথমিক বেসিক (ধরা যাক, পুরোনো ২৩,০০০ টাকার স্কেলটি নতুন কাঠামোতে ৪০,০০০ টাকা করা হয়েছে) নির্ধারিত হয়েছে, তাকে প্রথম ধাপে প্রাপ্ত ‘ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর’ দিয়ে গুণ করতে হবে।

৩. নিকটতম উচ্চতর ধাপ (Nearest Higher Step) নির্ধারণ

গুণফলটি যদি নতুন বেতন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সাথে হুবহু না মেলে, তবে সরকার নির্ধারিত ফিক্সেশন বা কনভার্সন টেবিল (Conversion Table) অনুযায়ী ঠিক তার উপরের বা সমান কোনো ধাপকে চূড়ান্ত মূল বেতন হিসেবে ধরা হবে। পে-ফিক্সেশনের মূল নীতিই হলো—কারো বেতন কখনো কমবে না, বরং সমান বা বেশি হবে। তাই সবসময় নিকটতম উচ্চতর ধাপ অবলম্বন করা হয় এবং কোনো ইনক্রিমেন্ট ‘বাতিল’ হয় না।

একটি দ্রুত গাণিতিক উদাহরণ

সহজে বোঝার জন্য নিচে একটি কাল্পনিক হিসাব দেওয়া হলো:

  • পুরোনো স্কেলের শুরু: ২৩,০০০ টাকা

  • ইনক্রিমেন্ট-সহ বর্তমান বেসিক: ৩৪,০১০ টাকা

  • ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩৪,০১০ \২৩,০০০ = ১.৪৭৮৭

ধরা যাক, নতুন স্কেলে পুরোনো ২৩,০০০ টাকার প্রারম্ভিক মূল বেতনটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪০,০০০ টাকা।

  • নতুন বেসিকের হিসাব: ৪০,০০০*১.৪৭৮৭ = ৫৯,১৪৮ টাকা।

    (সহজ অঙ্কে: ৪০,০০০ *১ = ৪০,০০০ এবং ৪০,০০০ *০.৪৭৮৭ = ১৯,১৪৮; অর্থাৎ মোট ৫৯,১৪৮ টাকা।)

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সরকারি কনভার্সন টেবিলে অফিশিয়ালি যে ধাপগুলো থাকবে, সেখানে ৫৯,১৪৮ টাকার ঠিক সমান অথবা এর চেয়ে সামান্য বেশি যে নিকটতম উচ্চতর ধাপটি (Nearest Higher Step) থাকবে, সেটিই হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চূড়ান্ত নতুন মূল বেতন বা বেসিক।

নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পর সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মনে সাধারণ একটি প্রশ্ন তৈরি হয়পুরোনো স্কেলে অর্জিত ইনক্রিমেন্টগুলো নতুন কাঠামোতে কীভাবে যুক্ত বা প্রতিফলিত হবে এই প্রক্রিয়াটিই মূলত পে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণ নামে পরিচিত এবারের বেতন নির্ধারণ পদ্ধতিতে পূর্বের তুলনায় কিছু সূক্ষ্ম ও গুণগত পরিবর্তন এসেছে আগে বাৎসরিক বৃদ্ধির annual Increment নিয়ম বর্তমানের মতো ছিল না তবে এবার পুরনো ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করে রূপান্তর করতে হওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল মনে হলেও আসলে তা বেশ সুনির্দিষ্টসরকারি নির্দেশনা ও হিসাব পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে নিচে বেতন ফিক্সেশনের মূল ধাপ ও একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা হলোবেতন ফিক্সেশনের মূল ধাপসমূহনতুন কাঠামোতে একজন চাকুরিজীবীর নতুন বেসিক বা মূল বেতন কত হবে তা প্রধানত তিনটি ধাপে নির্ধারণ করা হয়১ ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর বের করাপ্রথমে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জানতে হবে তিনি তার চাকরিকালীন সময়ে মোট কয়টি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন এবং ইনক্রিমেন্টসহ তার বর্তমান মূল basic বেতন কত এরপর নিচের সূত্রের সাহায্যে'ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর' বের করতে হবে:সূত্র: ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্ত মূল বেতন $\div$ স্কেল-শুরু (Original Basic) = ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর।২. নতুন স্কেলের বেসিকে ফ্যাক্টর দিয়ে গুণএই ধাপে নতুন পে-স্কেলে ওই পদের জন্য যে প্রাথমিক বেসিক (ধরা যাক, পুরোনো ২৩,০০০ টাকার স্কেলটি নতুন কাঠামোতে ৪০,০০০ টাকা করা হয়েছে) নির্ধারিত হয়েছে, তাকে প্রথম ধাপে প্রাপ্ত 'ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর' দিয়ে গুণ করতে হবে।৩. নিকটতম উচ্চতর ধাপ (Nearest Higher Step) নির্ধারণগুণফলটি যদি নতুন বেতন স্কেলের কোনো নির্দিষ্ট ধাপের সাথে হুবহু না মেলে, তবে সরকার নির্ধারিত ফিক্সেশন বা কনভার্সন টেবিল (Conversion Table) অনুযায়ী ঠিক তার উপরের বা সমান কোনো ধাপকে চূড়ান্ত মূল বেতন হিসেবে ধরা হবে। পে-ফিক্সেশনের মূল নীতিই হলো—কারো বেতন কখনো কমবে না, বরং সমান বা বেশি হবে। তাই সবসময় নিকটতম উচ্চতর ধাপ অবলম্বন করা হয় এবং কোনো ইনক্রিমেন্ট ‘বাতিল’ হয় না।একটি দ্রুত গাণিতিক উদাহরণসহজে বোঝার জন্য নিচে একটি কাল্পনিক হিসাব দেওয়া হলো:পুরোনো স্কেলের শুরু: ২৩,০০০ টাকাইনক্রিমেন্ট-সহ বর্তমান বেসিক: ৩৪,০১০ টাকাইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩৪,০১০ $\div$ ২৩,০০০ = ১.৪৭৮৭ধরা যাক, নতুন স্কেলে পুরোনো ২৩,০০০ টাকার প্রারম্ভিক মূল বেতনটি বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪০,০০০ টাকা।নতুন বেসিকের হিসাব: ৪০,০০০ $\times$ ১.৪৭৮৭ = ৫৯,১৪৮ টাকা।(সহজ অঙ্কে: ৪০,০০০ $\times$ ১ = ৪০,০০০ এবং ৪০,০০০ $\times$ ০.৪৭৮৭ = ১৯,১৪৮; অর্থাৎ মোট ৫৯,১৪৮ টাকা।)চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সরকারি কনভার্সন টেবিলে অফিশিয়ালি যে ধাপগুলো থাকবে, সেখানে ৫৯,১৪৮ টাকার ঠিক সমান অথবা এর চেয়ে সামান্য বেশি যে নিকটতম উচ্চতর ধাপটি (Nearest Higher Step) থাকবে, সেটিই হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চূড়ান্ত নতুন মূল বেতন বা বেসিক।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *