২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনসিপির ৮.৫২ লাখ কোটি টাকার ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা: নিম্নআয়ের গ্রেডগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব
বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং আসন্ন বাজেট পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার একটি বিকল্প ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত রবিবার (৭ জুন) দলটির পক্ষ থেকে এই বাজেট প্রস্তাবনা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।
‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ১২টি প্রধান খাতে মোট ৭১টি সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাবনা দিয়েছে এনসিপি। এই ছায়া বাজেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন ‘নবম পে-স্কেল’-এর প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিম্নআয়ের গ্রেডগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নিম্নআয়ের গ্রেডগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
এনসিপির প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় মাঝারি ও নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির বাজারে নিম্নআয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই এই প্রস্তাবনার মূল লক্ষ্য বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (১ম থেকে ৫ম গ্রেড)
১ম গ্রেড: বিদ্যমান ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮২,০০০ টাকা।
২য় গ্রেড: বিদ্যমান ৬৬,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০,০০০ টাকা।
৩য় গ্রেড: বিদ্যমান ৫৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০,০০০ টাকা।
৪র্থ গ্রেড: বিদ্যমান ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৩,৫০০ টাকা।
৫ম গ্রেড: বিদ্যমান ৪৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৬,৫০০ টাকা।
মাঝারি সারির পদ (৬ষ্ঠ থেকে ১১তম গ্রেড)
৬ষ্ঠ গ্রেড: বিদ্যমান ৩৫,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮,৫০০ টাকা।
৭ম গ্রেড: বিদ্যমান ২৯,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২,০০০ টাকা।
৮ম গ্রেড: বিদ্যমান ২৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,৫০০ টাকা।
৯ম গ্রেড: বিদ্যমান ২২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪,৫০০ টাকা।
১০ম গ্রেড: বিদ্যমান ১৬,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮,০০০ টাকা।
১১তম গ্রেড: বিদ্যমান ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪,২০০ টাকা।
নিম্নআয়ের কর্মচারী (১২তম থেকে ২০তম গ্রেড)
১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে:
১২তম গ্রেড: বিদ্যমান ১১,৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,৩০০ টাকা।
১৩তম গ্রেড: বিদ্যমান ১১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩,০০০ টাকা।
১৪তম গ্রেড: বিদ্যমান ১০,২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২,৭০০ টাকা।
১৫তম গ্রেড: বিদ্যমান ৯,৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২,৪০০ টাকা।
১৬তম গ্রেড: বিদ্যমান ৯,৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২,২০০ টাকা।
১৭তম গ্রেড: বিদ্যমান ৯,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১,৯০০ টাকা।
১৮তম গ্রেড: বিদ্যমান ৮,৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১,৭০০ টাকা।
১৯তম গ্রেড: বিদ্যমান ৮,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১,৪০০ টাকা।
২০তম গ্রেড: বিদ্যমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১,১০০ টাকা।
টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতিগত সংস্কার
ছায়া বাজেট উপস্থাপনকালে এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। দলটির ৭১টি সুনির্দিষ্ট নীতিগত প্রস্তাবনার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাজস্ব খাতের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলটির মতে, এই বিকল্প বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সোর্স: ডেইলি ক্যাম্পাস



