এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্যও শিক্ষা, চিকিৎসা ও বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির দাবি জোরালো
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (নবম পে-স্কেল) বাস্তবায়নের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে আসায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও একই ধরনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি কর্মচারীদের মতো দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া সত্ত্বেও অনেক ভাতার ক্ষেত্রে এখনও বৈষম্যের শিকার।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং বৈশাখী ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও শিক্ষা ভাতাসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ভাতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি এবং সন্তানদের শিক্ষা ভাতাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, দেশের লাখো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসবভাতার যৌক্তিক পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয়, চিকিৎসা খরচ এবং সন্তানদের শিক্ষাব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান ভাতা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
বিশেষ করে চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশ আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। নতুন পে-স্কেলের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব এসেছে।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের দাবি হলো—সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যদি শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতার নতুন কাঠামো কার্যকর হয়, তাহলে অন্তত ন্যূনতম পর্যায়ে হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একই ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে ভাতা বৈষম্য কমিয়ে আনা হলে শিক্ষা খাতে কর্মরত জনবলের মনোবল বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বৈশাখী ভাতার যৌক্তিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা ন্যূনতম আর্থিক স্বস্তি লাভ করতে পারেন।



